ইসলামের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার সুফল অন্যরা ভোগ করছে, আমরা বঞ্চিত

মাওলানা আবরারুল হক ।।

ল্যাপটপ মেরামত করার জন্যে মোহম্মদপুর হয়ে মাল্টিপ্ল্যানে যাচ্ছিলাম।বাসের জানালা দিয়ে তাকাতেই একটি পোস্টারে দৃষ্টি আটকে গেল। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কর্তৃক প্রচারিত ধর্ষণবিরোধী পোস্টার। পোস্টারের মূলপ্রতিপাদ্য হলো, দ্রুত বিচার করে ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।একটু চমকে উঠলাম। দ্রুত বিচারতো ইসলামী বিচার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য,তথাকথিত প্রগতিশীলদের ধারণায় যেটা প্রগতির অন্তরায়।

বিজ্ঞাপন

পরক্ষণেই বুঝতে পারলাম, বর্তমান বিচারব্যবস্থা ঠিক রেখেই দ্রুতবিচারের দাবী জানানো হচ্ছে। অথচ এর বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা।ঔপনিবেশিক সূত্রে আমরা ব্রিটিশদের কাছ থেকে যে বিচারব্যবস্থা পেয়েছি ,তাতে বিচারকাজ খুবই জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়। অপরাধী হাতেনাতে ধরা পড়লেও সহজে তার শাস্তি হয় না। তত্ক্ষনাত্ অপরাধ অস্বীকার করতে না পারলেও পরবর্তীতে সে কথা ঘুরিয়ে ফেলে। এর সাথেযুক্ত হয়েছে ওকালতি পদ্ধতি। নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতম অপরাধীও সেরা সেরা

উকিল পেয়ে যায়। কালক্ষেপণের সাথে সাথে বাড়তে থাকে দূর্নীতি ও কালোটাকা ঢালার সুযোগ। অন্যদিকে নিরীহ বিবাদী মামলা ও উকিলের খরচ বহনকরে নিঃস্ব হতে থাকে।বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে আমাদের পুরো বিচার ব্যবস্থাতেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।মনে পড়ে, বুয়েটছাত্র আবরারের কথা।

ছাত্রআন্দোলনের মুখে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে মামলা নেওয়া হলেও,বছরপার হয়ে আরো অনেকদিন চলে গিয়েছে , এখনও তেমন অগ্রগতি হয়নি।এমনকি অনেক সময় সরকার ইচ্ছা করলেও দ্রুত বিচার হয় না। হলমার্ককেলেংকারি ,রানাপ্লাজা দূর্ঘটনাসহ ইদানীংকালের ক্যাসিনোকান্ড ওকরোনা পরীক্ষা জালিয়াতি ইত্যাদি কোনো বিষয়েরই চুড়ান্ত রায় আসেনি।ন্যায়বিচার লাভ রাষ্ট্রের সর্বশ্রেণীর নাগরিকের অধিকার। শুধু ধর্ষিতা নয়,যে কোনো ধরনের অন্যায়ের শিকার ব্যক্তি এর দাবিদার। গুটিকয়েক যে সব

রাষ্ট্রে ইসলামী আইন ও বিচারব্যবস্থার ছিটেফোঁটাও রয়েছে, তারা এর দ্রুতবিচারিক প্রক্রিয়ার সুফল ভোগ করছে। দেশগুলোতে ধর্ষণসহ অন্যান্যঅপরাধের স্বল্পমাত্রাই এর প্রমাণ।

কিছুদিন আগে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার জন্য আন্দোলন হয়েছিল।যেটা ব্যভিচারের ইসলামী শাস্তির একটি অংশের সাথে মিল রাখে । এরপর ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান করে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে গতঅক্টোবরে। কিন্তু ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত হত্যা কমেনি। শুধু কাগজে-কলমে শাস্তির বিধান কঠোর করা কোনো কাজে আসবে না। এজন্য প্রয়োজনআইনের দ্রুত ও সঠিক বাস্তবায়ন।

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া মদীনাতুল উলুম, খাড়াকান্দি, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা