ইমামের গায়ে হাত তোলা এই নরপশুদের কে থামাবে?

শরীফ মুহাম্মদ।।

দেশের একটি জেলার পুলিশ প্রধান গত মাসের শেষ দিকে ‘হাত ভেঙে দেওয়া’র হুমকি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। ‘ভাস্কর্য ভাঙতে চাওয়া’ কিংবা মনের মধ্যে অসদুদ্দেশ্য লালন করা ‘মৌলবাদী’দের প্রতি ছিল তার এই হুমকি -হুঁশিয়ারি। এই বক্তব্যটি দেশজুড়ে ভাইরাল হয়েছে। তিনি ব্যাপক প্রসিদ্ধি ও পরিচিতি লাভ করেছেন। আইন শৃংখলার লোক হয়ে প্রকাশ্য সমাবেশে নিজের পক্ষ থেকে জনগণের একটি অংশের ‘হাত ভেঙে দেওয়ার’ বক্তব্য দেওয়ায় দেশের নাগরিকরা বেশ চমকে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

এই পোশাকি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ওই বক্তব্যে তার ভাষায় ‘মৌলবাদী জনশক্তি’ অথবা মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি উন্নাসিকতা প্রকাশ করে অনেক কথা বলেছিলেন। কোরবানির চামড়া, ফ্রিতে থাকা-খাওয়া, ফ্রিতে মগজ ধোলাই, ‘তার জায়গায় থেকে তারটা খেয়ে’ মাদ্রাসার মৌলভীরা এত বাড়বাড়ন্ত কেন হচ্ছেন, এটা নিয়ে তিনি বেশ উষ্মাই প্রকাশ করেছেন। তার সেইসব উষ্মার উল্লেখ এখানে মূল বিষয় নয়, বরং আমরা দু চারটি বাক্য বলতে চাই ‘হাত ভেঙে দেওয়ার’ বিষয়টা নিয়েই।

আরো পড়ুন: চাঁদপুরে জঙ্গি অপবাদ দিয়ে ইমামকে মারধর করল পুলিশ

সেই যে তিনি ‘হাত ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি দিলেন, এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের লোক, পুলিশের সাবেক লোক, লতাপাতায় সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও বংশধরেরা নানা অজুহাতে আলেম- ইমামদের সঙ্গে বেয়াদবি করার মহড়া দিতে শুরু করেছে বলে খবর আসছে। অনেক মাহফিলে আঙ্গুল উঁচিয়ে- গালাগাল করে বাধা দিতে গিয়ে ‘গণধিক্কার ও গণধোলাই’ পরিস্থিতির মধ্যেও কেউ কেউ পড়ে গিয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ক্ষমতার জোরে হুমকি-ধমকির অনুশীলন তারা করলেও সাধারণ জনগণ সেগুলোকে পাত্তা দেয়নি। ধর্মপ্রাণ মানুষ বরং এসব ক্ষমতাধরদের উল্টো জবাব শুনিয়ে দিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। এতে করে বেশিরভাগ সংযত হয়ে গেলেও অল্প কিছু অভব্য লোক তাদের বেয়াদবি বজায় রেখেছে। এই অভব্যতাই এখন প্রকাশ পাচ্ছে কোনো কোনো জায়গায়।

গত শুক্রবার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক মসজিদের ইমামকে প্রহার করেছে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি। শোনা যাচ্ছে, এই লোক আগে পুলিশের ছিল, এখন সেই লোক পুলিশি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্টতার কথা বলে নানারকম নৈতিক- অনৈতিক প্রভাব এবং জোরজবরদস্তি এলাকায় বিস্তার করে চলেছে। সেই প্রভাব ও প্রতিপত্তির জোরে ইমামের গায়েও হাত তোলার সাহস পেয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় প্রবীণ কিছু মুসল্লির গায়েও সে হাত তুলেছে।

পুলিশের লোকের হাতে বন্দুক থাকে। আইন-শৃংখলার প্রয়োজনে শান্ত মাথায় তাদের পদক্ষেপ নিতে হয়। তা না হলে শক্তি আর অস্ত্রের জোরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা তারা ঘটিয়ে ফেলতে পারে; সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা দুর্ঘটনায় এটা দেখা গেছে। সেই পুলিশের এক জেলা পর্যায়ের প্রধান ব্যক্তি ‘হাত ভেঙ্গে দেওয়া’র হুমকি দেওয়ার পর  থেকে পুলিশি পরিচযয়ে এই যে আলেম ইমামদের গায়ে হাত তোলার ধৃষ্ট অনুশীলন শুরু হলো, এটার রাশ টানবে কে? কে এই উন্মাদনা ও বেয়াদবির টুঁটি চেপে ধরবে?

শুধু রাষ্ট্রের স্থানীয় নীতি নির্ধারক ও প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই। তাদের দায়িত্ব তো অবশ্যই আছে, এর পাশাপাশি আইন হাতে তুলে নেওয়া এসব দুর্বৃত্ত ও নরপশুদের প্রতিরোধে প্রয়োজন শান্তিপ্রিয় নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রাচীর তৈরি করা। ইমাম আলেম কিংবা শিক্ষকের গায়ে পোশাকি কিংবা অ-পোশাকি যে কেউ হাত তুলুক, সেসব হাত থামিয়ে দিতে না পারলে বেয়াদবির বৃহত্তম খাদে দেশ তলিয়ে যেতে বাধ্য হবে। দরদী মানুষেরা এটা হতে দিতে পারেন না।

-এনটি

বিজ্ঞাপন