জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধা দেওয়ায় খ্রিস্টান মিশনারীদের মামলা: আটক ১

হাবিবুর রহমান ।। কুড়িগ্রাম থেকে 

ঘটনাটি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলাধীন চর গোড়ক মন্ডল এলাকায়। একই পরিবারের তিনজন মুসলমানকে আর্থিক সহায়তার নামে প্রতারণা করে কতিপয় খ্রিস্টান নির্যাতন করে ধর্মান্তর করার চেষ্টা করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এবং নির্যাতিত পরিবারটি স্থানীয় মুসলমানদের সাহায্য চাইলে মুসলমানরা তাদেরকে প্রতারকদের হাত থেকে মুক্ত করেন। কিন্তু এ ঘটনায় খ্রিস্টান চক্রটি আইনের আশ্রয়ের নামে স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত পরশুদিন ২৪ ডিসেম্বর মানববন্ধন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর একই পরিবারের কয়েকজন মুসলমানকে (মোছাম্মদ রিনা বেগম ৪০, মোছাম্মদ জুই আক্তার ১৬, মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন ২২) কে পরিকল্পিতভাবে খিষ্টান বানানোর জন্য টাংগাইল থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে নিয়ে আসে একটি চক্র। ঘড়-বাড়ি করে দিবে, চাষাবাদের জন্য জমি দিবে, গরু দিবে ইত্যাদির লোভ দেখায় তাদের। বিশেষ করে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে ত্রাণ দেওয়ার নাম করে তাদেরকে কুড়িগ্রামে আনা হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, যারা নিয়ে আসে তারা হল, খ্রিস্টান আশরাফ ও তার বাবা খ্রিষ্টান নুর মুহম্মদ কাইঞ্চা মিয়া, দুলাল, আজগর আলী, আয়াজ আলী, হাফিজার পিতা, আবুল কালাম, সরকার, শাহজামাল, নিপিন্দ্র নাথসহ অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন।

ভুক্তভোগী পরিবারটিকে খ্রিস্টান আশরাফের বাড়িতে আশ্রয়ের নামে রেখে ধীরে ধীরে খ্রিস্টান বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। একদিন পরিবারটির মুসলিম মেয়ে জুই ফজরের নামাযের পর সুরা ইয়াসিন পঠ করতে কোরআন নিয়ে বসলে তার হাত থেকে কোরআন নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয় কাইঞ্চা মিয়া। আর মেয়েটির হাতে ধরিয়ে দেয় খ্রিস্টানদের ইঞ্জিল। এরপর তাকে বলে, এটাই হল আসল কোরআন, এটা পড়ো। এতে মেয়েটি আপত্তি করলে তার উপর ব্যাপক নির্যাতন করা হয়।

পরিবারটি প্রতারণা বুঝতে পেরে চলে যেতে চাইলে তাদেরকে ঘরে বন্দি করে রাখা হয় এবং মারধরও করা হয়। পরে স্থানীয়দের কাছে তারা সাহায্য চাইলে আশপাশের লোকজন মুসলমান পরিবারটিকে প্রতারকদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। এতে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়।

এরপর খ্রিস্টান চক্রটি আইনের আশ্রয়ের নামে স্থানীয় মুসলিম পরিবার গুলোর বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার কাগজপত্রের ছবি ইসলাম টাইমসকে পাঠিয়েছেন এলাকার দ্বীনদরদি মুসলমানরা।

এ মামলাটির জেরে উপজেলা প্রশাসন ২৩/১২/২০ ইং বুধবার রাত দুইটার দিকে মোহাম্মদ সুন্নত মিয়া নামের একজনকে গ্রেফতার করলে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

প্রতিবাদে এলাকার তাওহীদী জনতা এবং কুড়িগ্রাম জেলা ওলামা পরিষদ ২৪ ডিসেম্বর রাতে মানব বন্ধন করেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু জানা গেছে, আইনিভাবে কোন সাহায্য এখনো তারা পাননি।

বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে, গোটা উত্তরবঙ্গের মতো কুড়িগ্রামের এই এলাকায় খ্রিস্টান মিশনারিরা গত ২০ বছর ধরে মুসলমানদেরকে এভাবে ধোঁকা দিয়ে ধর্মান্তরিত করছে। অভিযোগ আছে, আজকাল সেখানে ইসলামের নানান বিষয় নিয়ে কটুক্তিও করা হয়।

-এমএসআই

বিজ্ঞাপন