আলেমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিশিষ্ট ২৮ আলেমের বিবৃতি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: দেশের বিশিষ্ট উলামা-মাশায়েখগণ বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও আস্থার প্রতীক ওলীয়ে কালেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রাহ.)কে একটি কুচক্রি মহল কবরের জগতেও অশান্তি সৃষ্টি ও কলংকিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

গতকাল (২০ ডিসেম্বর) রবিবার হেফাজতে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী স্বাক্ষরিত দেশের বিশিষ্ট ২৮ জন ওলামা-মাশায়েখ এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, একটি জনবিচ্ছিন্ন লেবাসধারী মতলবাজ চক্র হযরত আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রাহ.)এর স্বাভাবিক ইন্তেকাল যা তার বড় ছেলে পরিবারের পক্ষ থেকে দেশী-বিদেশী মিডিয়ার সামনে পরিস্কারভাবে জাতিকে জানান দিয়েছেন, এবং মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সকল আসাতেজায়ে কেরাম এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে হযরতের স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাক্ষ্য দিয়ে তাঁর ইজ্জত সুমন্নত রেখেছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, কওমি অঙ্গনের কলংক গ্যাংরা হযরতের মৃত্যুকে নিয়ে ঘোলা পনিতে মাছ শিকার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

বিবৃতিতে আলেমগণ বলেন, যারা ২০১৩ থেকে ২০২০ সালে হযরতের স্বাভাবিক ইন্তেকাল পর্যন্ত কখনো ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে ক্ষমতা দখলের অযৌক্তিক হুংকার আর অপরিণামদর্শী বক্তব্যের মাধ্যমে, কখনো অদৃশ্য শক্তির চাটুকারিতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে, আবার কখনো হালুয়া রুটি হালাল করার জন্য দেশি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চর হয়ে দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলের মতলবে কওমী হালকার ঐতিহ্য বিনষ্টে ন্যাক্কারজনক ভূমিকা রেখে আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রাহ.)এর আকাশচুম্বি গ্রহণযোগ্যতাকে জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। শুধু তাই নয়, এই গুটি কয়েক দুশ্চরিত্র কুলাঙ্গার হঠাৎ করে কীভাবে গাড়ী বাড়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্তা হয়ে গেলেন জাতি তা জানতে চায়।

তারা আরো বলেন, দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এবং অদৃশ্য শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দেশের শীর্ষ ও জননন্দিত আলেম-উলামার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আমীরে হেফাজত মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী সহ শীর্ষ মুরব্বীদের শানে বেয়াদবী মূলক বক্তব্য ও আচরণ করে যাচ্ছে। আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট কারী এই চিহ্নিত দালাল ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় হেফাজতে ইসলাম জেগে উঠলে ষড়যন্ত্রকারীরা পালাবার জায়গা খুঁজে পাবে না।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী, মাওলানা শায়েখ আহমদ (হাটহাজারী), মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা শায়েখ জিয়া উদ্দিীন, মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা নোমান ফয়জী (মেখল), মাওলানা নূরুল ইসলাম আদীব, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, মাওলানা হাফেজ নাজমুল হাসান, মুফতি হাবীবুর রহমান (নাজিরহাট), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা আরশাদ রহমানী, মাওলানা আবদুল আউয়াল, মাওলানা এডভোকেট আবদুর রাকীব, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ মোমেনশাহী, মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জী, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, মাওলানা ফয়জুল্লাহ সন্দ্বীপী প্রমুখ।

-এসএন

পূর্ববর্তি সংবাদমিসরে ইখওয়ানে যোগ দেওয়া নিষিদ্ধ করল আল-আজহার
পরবর্তি সংবাদমোবাইলে আসক্তি: চক্ষু হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মানসিক বিকাশ