বারিধারায় দ্বীন ও ইলমের বাগান: আজ মালির বিদায়!

শরীফ মুহাম্মদ ।। 

৩২ বছর আগে, ১৯৮৮ সালে বারিধারা নতুন বাজার মোড়ে এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা। তখন দেখতে এসেছিলাম নতুন সেই মাদ্রাসার গুছিয়ে ওঠার প্রস্তুতি। উত্তর দিকে সেমিপাকা একটি লম্বা ঘর, পশ্চিম দিকে রাস্তার পাশে গোডাউনের মত বদ্ধ ঘরে একটি মসজিদ, পূর্বদিকে ডোবার কাছে কয়েকটি বাথরুম। ইতস্তত বিক্ষিপ্ত একটি মাঠ, এখানে-ওখানে লাল মাটির ঢিবি।

বিজ্ঞাপন

সেই মাদ্রাসাই এখন উত্তর-দক্ষিণে চারতলা ভবন, পূর্ব পাশে পাঁচতলা। মাঝে পাকা করা দীর্ঘ সাহান। আজ বারবার এই মাদ্রাসার দিকে দিকে চোখ রাখছি আর পেছনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে লাশের গাড়িতে শুয়ে থাকা এই মানুষটির কথা মনে পড়ছে, তখন মনে হয়েছে, জীবনটা এমনই, আল্লাহ তাআলার ফায়সালাও এমনই। সবাই ভাবে একরকম, মঞ্জুর হয় আরেকরকম।

গত সতের বছরে বাগানের এই মালির সঙ্গে অনেকবার দেখা করতে গিয়েছি। কখনো সাক্ষাতকার নেওয়ার জন্য, কখনো স্মৃতিচারণ কপি করার জন্য, কখনো শুধুই তাঁকে দেখার জন্য। পূর্বসূরী কোনো মনীষী আলেমের স্মৃতিচারণ নিতে গেলে দেখেছি অভূতপূর্ব এক আবেগ তার মধ্যে ভর করত। ক্লান্তি-শ্রান্তি, ব্যস্ততার মধ্যেও স্মৃতির ডালি মেলে ধরতে থাকতেন। অনেক সময় মনে হতো, আজ হয়তো তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাওয়া যাবে না। কিন্তু মরহুম কোনো বুযুর্গের স্মৃতির কথা শুনে আমাকে অবাক করে দিয়ে অনবরত কথা বলতে থাকতেন। পূর্বসূরীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এক জীবন্ত নমুনা ছিলেন বাগানের এই মালি।

শুরু থেকে এই বাগানের যিনি মালী, বহু দ্বীনী কাজের এই কেন্দ্রের যিনি কর্ণধার, দেশের অন্যতম প্রধান রাহবার আলেমেদ্বীন হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী রহ. এখন এই দহলিজের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লাশবাহী গাড়ির ভেতরে শুয়ে আছেন। দলে দলে মানুষ আসছেন, চোখ মুছছেন, তাঁকে দেখছেন। এই সাজানো বাগান থেকে আজ বাগানের মালির বিদায়ের দিন। ৩২ বছরের বাগান, এখন এই আঙিনায় অন্যরা করবেন বিচরণ। শুধু তিনি থাকবেন না।

আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন।

-এমএসআই

বিজ্ঞাপন