রাসূলের দুশমনদের কবর রচনা করতেই হেফাজতে ইসলামের জন্ম: সিলেটে বাবুনগরী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: যারা আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে কটুক্তি করে, যারা ইসলামের শত্রু, রাসুলের দুশমন, নাস্তিক-মুর্তাদ, তাদের কবর রচনা করতেই হেফাজতের জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির নব নির্বাচিত আমীর মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী।

বিশ্বের ২০০ কোটি মুসলমানের সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বলে উল্লেখ করেছেন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী।

বিজ্ঞাপন

তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনারা আমাদের পরামর্শ মোতাবেক চলুন। জনগণের ও তৌহিদি জনতার মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। আমরা আপনাদের শত্রু নই।

তিনি বলেছেন, হেফাজত সরকার বিরোধী সংগঠন নয়, আবার সরকার দলীয় সংগঠনও নয়।

বিশ্বের ২০০ কোটি মুসলমানের ভালোবাসার প্রতীক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে ফ্রান্সের সরকার যেভাবে কটুক্তি করেছে তাতে মুসলমানদের অন্তর কেঁদে উঠেছে, আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সর্বপ্রথম সরকারিভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আমাদের পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কটুক্তি করেছে ফ্রান্সের ম্যাক্রোঁ। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হে নাস্তিক-মুরতাদরা, ইসলামের শত্রুরা তোমরা শুনে রাখো, বিশ্বের যেখানেই আমাদের রাসুলের কটাক্ষ করা হবে, সেখানেই কোটিকোটি আশেকে রাসুলের রক্তের বন্যা বয়ে যাবে।’

শনিবার বিকালে ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম সিলেটের উদ্যোগে নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হেফাজতে ইসলামকে সরকারের বন্ধু উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম আপনার শত্রু না। আমরা আপনার বন্ধু। কিন্তু আপনার কাঁধের ওপর ঘাপটি মেরে বসে থাকা নাস্তিক মুরতাদরাই আপনার শত্রু। আমি মনে করি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও কাদিয়ানীদেরকে মুসলিম বলে মনে করেন না। শুধু ব্যক্তিগতভাবে কাদিয়ানীদেরকে কাফের মনে করলে হবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবেও কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষণা করতে হবে। ‘

হেফাজত আমির বলেন, ‘৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষনায় কোন সমস্যা থাকার কথা নয়। কাদিয়ানিদের সাংবিধানিক ভাবে কাফের ঘোষণা না করার কারণে তারা মক্কা-মদিনা যেতে পারে। এতে মক্কা -মদিনার পবিত্রতা নষ্ট হয়। তাই আমি ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছি কাদিয়ানিদের সাংবিধানিকভাবে কাফের ঘোষণা করতে হবে।’

হেফাজত আমীর বলেন, ‘হিন্দুরাও কাফের। তাহলে এখন আপনাদের প্রশ্ন আসতে পারে হিন্দুদের কাফের ঘোষণার কথা বলছি না কেন। আমরা হিন্দুদের কাফের ঘোষণার দাবি করছি না কারণ তারা মুসলমানদের বেশ ধারণ করে না। কিন্তু কাদিয়ানিরা মুসলমানদের বেশ ধারণ করে। তাই তারা ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু।’

তাই আমাদের দাবি হল কাদিয়ানিদের কাফের ঘোষণা করা হোক। এরপর তারা এ দেশে সংখ্যালঘু হিসেবেই থাকুক। আমাদের কোন অসুবিধা নেই। হিন্দুরাও থাকছে। আমাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা জিয়া উদ্দীন সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমীর প্রফেসর ড. আহমদ আবদুল কাদের, উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতী রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা নূরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকীব প্রমুখ।

এম এস আই