যারা অসম্মান করছে, তিনি তাদেরও নবী: মাওলানা কালীম সিদ্দীকী

তাহাফফুজে ইসলামে হিন্দ সংস্থার অনলাইন কনফারেন্স ‘আজমতে মুস্তফা’র শেষ জলসায় ভারতের বিশিষ্ট দাঈ মাওলানা কালীম সিদ্দকীর ভাষণ:  

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সমগ্র সৃষ্টিকে মানুষের সেবক আর মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ করেছেন। মানুষকে যিনি বানিয়েছেন সেই মালিক ভালো করেই জানেন, মানুষের কী প্রয়োজন – কী প্রয়োজন নেই।

বিজ্ঞাপন

আল্লাহ তাআলা প্রয়োজনীয় সকল নেয়ামত ভোগের নির্দেশনা মানুষকে বাতলে দিয়েছেন। নির্দেশনা ছাড়া নেয়ামত কষ্টের কারণ হয়। নেয়ামতের সাথে চাই হেদায়েত। তাই নেয়ামতের সঠিক ব্যবহার শেখানো ও জানানোর জন্য আল্লাহ তাআলা একের পর এক নবী প্রেরণ করেছেন। সবশেষে আমার আপনার নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআন মাজিদ সহ পাঠিয়েছেন। যা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হেদায়েতের সর্বশেষ ও সম্পূর্ণ সংস্করণ।

মাওলানা বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁকে সমগ্র মানবজাতির জন্য নমুনা ও আদর্শ হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আর আমরা মুসলমানরা আল্লাহর কুরআন ও নবীর অকৃতজ্ঞ হয়ে বলছি, কুরআন শুধু মুসলমানদের কিতাব, আল্লাহর নবী কেবল মুসলমানদের নবী। অথচ একথা মোটেও সঠিক নয়। কারণ কুরআন দুনিয়ার সব মানুষের কিতাব, নবী সমগ্র বিশ্বজগতের নবী। কুরআনের বেশীরভাগ সম্বোধন অমুসলিমদেরকে লক্ষ্য করেই তো এসেছিলো।

তিনি আরো বলেন, ইদানিং নবিজীর শানে যে সব বেয়াদবি করা হচ্ছে, তার জন্য আমরাও দায়ী। কারণ, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমস্ত মানুষের রাসূল হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেইনি,  মানবতার জন্য তাঁর আবশ্যকীয় শিক্ষাগুলো আমরা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারিনি।

মাওলানা কালীম সিদ্দীকী বলেছেন, মহান আল্লাহ তায়ালা রাসূলের প্রতিটি কাজ সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছেন। আজকের উন্নত যুগেও কারো ইতিহাস ও জীবনী এমন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষিত নেই। গবেষকগণ এমনও বলেছেন যে, সাহাবীগণ আল্লাহর নবীর জীবনকে এতটা গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন যে, কেউ চাইলে তাঁর জীবনকালের দিনক্ষণের ফিরিস্তি বানিয়ে নিতে পারবে।

মাওলানা বলেন, আমি মদীনার এক গ্রন্থাগারে ডাঃ আবদুল জব্বার রাফাহির একটি বই দেখেছিলেন, যেখানে তিনি সিরাতের উনত্রিশ হাজার সাতশত চৌষট্টিটি বইয়ের পরিচিতি লিখেছেন, যা তাঁর হস্তগত হয়েছে। তম্মধ্যে অনেক গ্রন্থ বহু খণ্ডে লিখিত। একটি ছিলো পঁচাশি খণ্ডের, আরেকটি আটত্রিশ খণ্ডের। আরবে নবিজীর শুধু জুতো নিয়েই পঞ্চাশটি বই লেখা হয়েছে।

এবিষয়টি এমনিতেই ঘটে যায়নি। বরং আল্লাহ তাআলা কাজটি করিয়েছেন, যেন সমস্ত মানবতার আদর্শ হওয়া সত্ত্বার প্রতিটি মহূর্ত সংরক্ষিত থাকে। এবং মহান আল্লাহ তার সত্ত্বাকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য তাঁকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করেছিলেন।

মাওলানা কালেম সিদ্দিকী বলেন, পৃথিবীর সব মানুষ সবকিছু পছন্দ না করলেও রহমত বা প্রশান্তি এমন এক জিনিস যা সবাই পছন্দ করে। তাই আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করেছিলেন। যুদ্ধের ময়দানেও তিনি ছিলেন দয়াপরবশ।

মাওলানা সিদ্দিকী আরো বলেন, নবীজীকে ভালোবাসা আমাদের ঈমানের অংশ। ভালোবাসার দাবী হলো, বিশ্বের কোথাও নবীজির শানে গোস্তাখী হলে আমাদের রক্ত ​​উথলে ওঠা এবং তার প্রতিবাদ জানানো। কিন্ত এসবকিছু করতে হবে আল্লাহর জন্য, শরীয়তের গণ্ডিতে থেকেই।

আল্লাহ আমাদেরকে পুরো উম্মতের দায়িত্ব দিয়ে শ্রেষ্ঠ উম্মতের খেতাব দান করেছেন। পুরো উম্মতকে দ্বীনের পথে ডাকার দায়িত্ব আমাদের। ফ্রান্সে যা ঘটলো এবং সেখানকার প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো গোস্তাখে রাসূলের সমর্থনে যা করলেন তাতে পুরো মুসলিম উম্মাহ প্রতিক্রিয়া দেখানো, অস্থির ও উদ্বিগ্ন হয়ে ফুঁসে ওঠা স্বাভাবিক। এছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই। কারণ, নবীর ভালোবাসা আবশ্যকীয় বিষয়।

ইসলামের এই দায়ী বলেন, এটা খুবই বেদনাদায়ক বিষয়, যে রাসূল উম্মতের ব্যথায় সারারাত কাঁদতেন, উম্মতের হেদায়েতের ফিকির নিয়ে সত্তর বারও তাদের কাছে যেতেন, আল্লাহ তায়ালা তো বলেই ফেলেছেন, হে নবী, উম্মতের ঈমানের ফিকিরে নিজেকে মেরে ফেলবেন নাকি আপনি? আজ সেই দয়ালু নবীর সম্মান হানি করা হচ্ছে। যারা গোস্তাখি করছে, তিনি তাদেরও নবী। তারা জানে না, তারা নিজেদের নবীকেই অসম্মান করছে। আসল অপরাধী আমরা। আমরা তাঁকে সঠিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেইনি। আজ আমাদের দায়িত্ব হলো, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।

অনুবাদ: মাওলানা নূরুদ্দীন আজিম

এম এস আই

আরো পড়ুন: রাসূল-অবমাননা : সভ্যতার মুখোশধারীদের আসল চেহারা

ফিদাকা নাফসী ইয়া রাসূলাল্লাহ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

অমুসলিম দেশে ইসলাম ও নবীজির অবমাননা: যা করতে পারেন মুসলিম দেশের সরকার ও জনগণ

আল্লাহর রাসূলের শানে অবমাননা এবং আমাদের কর্তব্য

রাসূল-অবমাননার পরিণাম দুনিয়া ও আখেরাতে

ওই মুহাব্বতের ওপর জান কোরবান