বাবার কর্তব্য, সাঁতারসহ শিশুকে জীবন রক্ষার কৌশল শেখানো

মাহমুদ হাছান ।।

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। ইসলাম ১৪শ বছর আগেই শিশুদের যে অধিকার দিয়েছে তা যদি যথাযথভাবে আদায় করা হয়, তাহলে প্রতিটি শিশু আগামী দিনের সম্পদে পরিণত হবে।

বিজ্ঞাপন

ইসলাম শুধু শিশুদের একাডেমিক শিক্ষার কথাই বলে না তাদের প্রায়োগিক ও বাস্তবভিত্তিক জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় জিনিস শেখানোর উপরও গুরুত্বারোপ করেছে। আমাদের নবীজী বলেছেন, তোমরা  শিশুদের সাঁতার শেখাও। ঘোড়ায় আরোহণ শেখাও। তীর চালনা শেখাও। এই হাদীসের ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেছেন, বর্তমানে বাবা মায়ের উচিত, সন্তানকে সাতার শেখানো। ঘোড়ায় আরোহণের বিকল্প হল সাইকেল ড্রাইভিং ইত্যাদি শেখানো। তীর চালানোর বিকল্প হল, আত্মরক্ষামূলক বিভিন্ন কৌশল শেখানো।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে গড়ে  প্রতিদিন ৩০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। বছরে প্রায় ১০ হাজার জন, যা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি। এই হার অসুখ বিসুখের মৃত্যুর চেয়েও বেশি। কিন্তু এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া নিই জনমনে। সচেতনতার বড় অভাব আমাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন গ্রামবাংলার খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর কানায় কানায় পরিপূর্ণ তখন শিশুরা মেতে ওঠে জলকেলিতে। তাদের বেশির ভাগই জানে না সাঁতার তখনই ঘটে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা।

সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড বাংলাদেশের গবেষকদের মতে, শিশু মৃত্যুর জন্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা, ঘরের কাছাকাছি নালা-ডোবার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বন্যা ইত্যাদি কারণগুলো চিহ্নিত করেন। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায়, পরিবারগুলোকে সতর্ক নজরদারি রাখতে হবে। কমিউনিটি সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সাঁতার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সারা দেশে সাঁতার শিক্ষার জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

ইজে