গন্তব্য : তালিমুদ্দীন একাডেমি পঞ্চগড়

মুহাম্মাদ তাওহীদুল ইসলাম তায়্যিব ।।

দশ নভেম্বর দুই হাজার বিশ, মঙ্গলবার। হযরতপুর থেকে সকাল নয়টা বিশ মিনিটে রওয়ানা হলাম। কালো রঙের একটি নোয়া গাড়ি। চালকসহ সফরসঙ্গী আমরা ছয়জন। হেমায়েতপুর হয়ে সাভারের নবীনগর। সেখান থেকে উত্তরবঙ্গের পথ ধরে চলছি। চলতি পথে প্রথম জেলা গাজীপুর। তারপর টাঙ্গাইল। গাড়ির গতি ৮০/৮৫/৯০। কখনো আরেকটু কম। রাস্তা বেশ ভালো। নতুন কাজ হয়েছে মনে হয়।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ সফরের প্রথম মুহুর্তগুলো যেমন উপলব্ধিময় হয়ে থাকে, তেমনই হলো। কিন্তু কল্পনায়ও এলোনা—পথ সত্যিই এতটা দীর্ঘ।

টাঙ্গাইলের পরের জেলা সিরাজগঞ্জ। সেখানেই যমুনা নদী। নদীর ওপর দীর্ঘ সেতু। আমাদের গাড়ির জন্য টোল দিতে হলো ৫০০ টাকা। পরিমাণটা একটু বেশি মনে হলো। এই ব্রিজের বয়সও তো কম না। এত বছর ধরে টোল নেওয়া হচ্ছে, আরও নেওয়া হবে কত বছর কে জানে।

যমুনা সেতুর উপর দিয়ে আরও দুয়েকবার সফর হয়েছে আমার। প্রত্যেকবারই সেতু পার হয়েছি রাতে। সেজন্য দিনের আলোয় দেখা হয়নি কিছুই।

আমরা যখন সেতুর উপর, ঘড়ির কাটায় তখন বাজে ১২ টা ২০। বিশাল নদী। দূর দিগন্তে মিশেছে পানির প্রবাহ। এরই মাঝে দেখা গেল একটি বালুচর। রোদের আলোয় চিকচিক করছে বালুকণা। ছোট্ট নৌকা নিয়ে কয়েকজন নেমেছে সেখানে। বালুধোয়া পানি হালকা ঢেউয়ে আশ্চর্য দৃশ্য তৈরি করেছে।

গাড়ির গতি সীমিত। তবুও দেখতে দেখতেই সেতু পার হয়ে গেল।

আমরা সিরাজগঞ্জ ছাড়িয়ে প্রবেশ করলাম বগুড়ায়। এই জেলার অনেক মানুষের সাথে উঠাবসা হয়েছে। একসাথে লেখাপড়া করা হয়েছে। তাদের মুখের সুরেলা ভাষা সবসময়ই আনন্দ দিয়েছে আমাকে। তবে আক্ষেপ জাগিয়েছে দইয়ের গল্প। বিখ্যাত বগুড়ার দই! সে নাকি অতুচ্চ সুস্বাদু কিছু। আজ মাওলানা নুরুল্লাহ ভাইয়ের আথিতেয়তায় সেই দই খাওয়া হলো। এবং অতি অপেক্ষার কারণেই কিনা জানিনা, অবর্ণনীয় স্বাদ অনুভূত হলো। বিখ্যাত সেই দই এর দোকান ‘আকবরিয়া সুইটস’ ও ‘এশিয়া সুইটস’ এর সামনে কিছুক্ষণ থামলাম আমরা।

বগুড়ার পরের জেলা গাইবান্ধা। গাড়ি চলছে তীব্র গতিতে। তবে এখানের রাস্তা একটু চিপা। রাস্তায় গাড়ির ভিড়ও কম।

গাইবান্ধা পেরিয়ে আমরা যখন রংপুরের পীরগঞ্জে, তখন আসরের সময় হয়ে গেছে। ‘আর রহমান জামে মসজিদে’ আমরা আসরের নামায আদায় করলাম।

মসৃণ পিচঢালা সরু পথ। পথের দুধারে আদিগন্ত বিস্তৃত ধান ক্ষেত। এরইমধ্যে সূর্য হেলে পড়েছে পশ্চিমে। তার হলদে আলো গাড়ির কাচ ভেদ করে স্পর্শ করেছে আমাদের। পাকা ধানের হলুদ দিগন্তে নুয়ে পড়েছে হলদে সূর্য। আশ্চর্য সুন্দর সে দৃশ্য কী যেন বলে যাচ্ছে এই মুসাফিরকে। বিদায় ও চিরবিদায় প্রসঙ্গগুলো ভেবে মনটা কেমন করে উঠল।

রংপুর শহরে প্রবেশ করতেই ধ্বনিত হলো মাগরিবের আজান। নামাজের জন্য থামলাম বাসস্ট্যান্ড মসজিদে। চমৎকার ডিজাইনের সুবিশাল মসজিদ। সেখানে মাগরিব আদায় করলাম আমরা। মাগরিবের পর ভাঁপা পিঠা কিনলাম। নতুন শীতের এই পিঠা আমাদেরকে জানিয়ে দিল—উত্তরবঙ্গে শীত এসে গেছে।

রংপুরের পর নীলফামারী। তারপর দিনাজপুর। এই কয়েকটি জেলার বহু মানুষ ঢাকা শহরে থাকেন। বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত সেই লোকজনের সাথে প্রায়ই দেখা হয়। কথা হয়। শোনা হয় এই অঞ্চলগুলোর নাম। আজ সেগুলো দেখা হল। তাই নতুন এলাকা হলেও মনে হল জায়গাগুলোর সাথে যেন পুরনো সম্পর্ক আমাদের।

রাস্তার মাইলস্টোনের দিকে বারবার তাকিয়ে দেখি পথ আর কতদূর বাকি।

গাড়ি চলছে তীব্র গতিতে। তবুও যেন পথ ফুরোচ্ছেই না। সেই সকালে গাড়িতে উঠেছি। এখনও দেখা যাচ্ছে ‘পঞ্চগড় ১০৮ কিলোমিটার’।

সৈয়দপুর হাইওয়ে ধরে সোজা এগিয়ে গেলে বিখ্যাত একটি স্থানের নাম ‘দশ মাইল’। সেখান থেকে দক্ষিণের পথটি গেছে দিনাজপুর শহরের দিকে। উত্তরদিকের পথটি গেছে ঠাকুরগাঁও। আমরা সেই মোড়ের বড় মসজিদে এশার নামায আদায় করলাম। এরপর ছুটলাম উত্তরদিকে। ঠাকুরগাঁও অতিক্রম করে ঠিক রাত দশটায় পৌঁছলাম পঞ্চগড়। সকাল ৯ টা ২০ থেকে রাত ১০টা। প্রায় ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ সফর। মাঝে যুহর আসর মাগরিব এশা ও দুয়েকবার নাস্তার বিরতি বাদ দিলেও মোটামুটি সাড়ে দশ ঘণ্টা শুধু পথ চলেছি। আল্লাহর শোকর। সহী সালামতে আমরা গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছি।

পঞ্চগড়ে ‘তালীমুদ্দীন একাডেমী’ শুরু হতে যাচ্ছে। সে উপলক্ষেই আমাদের এই দীর্ঘ সফর। প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুক্রবার বাদ মাগরিব। প্রাথমিক প্রস্তুতি ও টুকটাক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে আমরা পৌঁছলাম কয়েক দিন আগে। উস্তাযে মুহতারাম হযরত মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম পৌঁছলেন বৃহস্পতিবার রাতে। শুক্রবারে পৌঁছলেন হযরাতুল উস্তায হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক সাহেব দামাত বারাকাতুহুম। হযরত প্রফেসর হামীদুর রহমান সাহেব দামাত বারাকাতুহুমেরও আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি খবুই অসুস্থ। এবং এই লেখা তৈরির সময় তিনি ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে ভর্তি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে পূর্ণ সিহহত ও আফিয়াত নসীব করুন। দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। দ্বীন ও উম্মতের আরও বেশি ফায়েদা পৌঁছানোর তাওফীক দান করুন। এই অসুস্থতার কারণেই তিনি আসতে পারেননি।

এখানে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মাওলানা মুহাম্মাদ ইমদাদুল্লাহ সাহেব ও মাওলানা মুহাম্মদ তাহের সাহেব। আমরা এসে দেখি যাবতীয় প্রস্তুতি ও প্রাথমিক কাজকর্ম তারা প্রায়ই সম্পন্ন করে ফেলেছেন। এই দুদিন আমরা তাদের সঙ্গে থাকলাম। তাদের কাজকর্ম দেখলাম এবং অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করলাম। সবকিছু দেখে বাস্তবিক অর্থেই অনেক মুগ্ধ হলাম।

শুক্রবার বাদ মাগরিব অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে এত মানুষ এসে উপস্থিত হলেন যে, বিস্মিত হবার মতো। মাদরাসার তালিবুল ইলম, জাগতিক শিক্ষার উচ্চশিক্ষিত শ্রেণি, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণ। পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়রও উপস্থিত হলেন এবং দীর্ঘক্ষণ হুযূরদের আলোচনা শুনলেন। একপর্যায়ে তিনিও সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করলেন। জানালেন, পঞ্চগড়ে দাওরায়ে হাদীস মাদরাসা নেই। তাই বিস্তৃত পরিসরের একটি জায়গা সংগ্রহ করেছেন তিনি। সেখানে দাওরায়ে হাদীস মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখছেন। সে জন্য সবার কাছে দোয়া চাইলেন। একজন মেয়রের এই স্বপ্ন ও তার বিনয়াবনত উপস্থাপন অনেককেই মুগ্ধ করল।

এই অঞ্চলের প্রবীণ দুজন মুরুব্বি উপস্থিত হয়েছেন অনুষ্ঠানে। হযরত মাওলানা আব্দুল হান্নান সাহেব ও হযরত মাওলানা মাহমুদুল আলম সাহেব দামাত বারাকাতুহুম। তাঁদের আলোচনাও ছিল উচ্ছ্বসিত হবার মতো।

আমাকে মুগ্ধ করেছে আরও একটি বিষয়। সেটা হলো হযরত মুদীর সাহেব হুযূর (উস্তাযে মুহতারাম হযরত মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সাহেব) দামাত বারাকাতুহুম দীর্ঘক্ষণ সাধারণ জনগণের সঙ্গে বসে প্রবীণ এই দুই মুরুব্বির আলোচনা শুনলেন। এবং পরে যখন তিনি মঞ্চে উঠলেন তাদের আলোচনার প্রশংসা করলেন। শব্দ বাক্যের আশ্রয়ে আমি বিষয়টি যতটুকু তুলে ধরতে পেরেছি, বাস্তব অবস্থা তার থেকে অনেক অনেক ঊর্ধ্বের। ‘অবর্ণনীয়’ এবং ‘ভাষাতীত’ জাতীয় শব্দগুলো বোধহয় এমন অবস্থার বিবরণ প্রসঙ্গেই তৈরি হয়েছে। আমাদের মতো তালিবুল ইলমদের জন্য তাতে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের অনেক বিষয় ছিল। জাযাহুল্লাহু তাআলা আহসানাল জাযা।

হযরত মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব দামাত বারাকাতুহুম আলোচনা করলেন সূরা আসর এর সূত্র ধরে। বললেন, ক্ষতিগ্রস্ত সবাই। শুধু চারটি কাজ যারা করে, তারা ব্যতীত। এক. যারা ঈমান আনে। দুই. নেক আমল করে। তিন. একে অপরকে হক ও সত্যের উপদেশ দেয়। চার. ধৈর্যের উপদেশ দেয়।

বললেন, ঈমান আনতে হলে তো আগে ঈমান বিষয়ে জানতে হবে। কোন কোন বিষয়ের প্রতি ঈমান আনব, কিভাবে ঈমান আনব, সেগুলো জানতে হবে। এই সূত্রে ঈমান শেখা ও দ্বীন শেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেন। মাঝে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি হাদীস উদ্ধৃত করলেন,

أَرْبَعٌ إِذَا كُنَّ فِيكَ فَلَا عَلَيْكَ مَا فَاتَكَ مِنَ الدُّنْيَا: حِفْظُ أَمَانَةٍ، وَصِدْقُ حَدِيثٍ، وَحُسْنُ خَلِيقَةٍ، وَعِفَّةٌ فِي طُعْمَةٍ

চারটি বিষয় যদি তোমার মাঝে থাকে তাহলে দুনিয়ার অন্য কিছু তুমি না পেলেও কোন চিন্তা নেই। এক. সত্য কথা বলা। দুই. আমানত রক্ষা করা। তিন. উত্তম আখলাক অর্জন করা। চার. লোকমা হালাল হওয়া তথা উপার্জন হালাল হওয়া।-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ৬৬৫২

এরপর আমানতের অনেকগুলো প্রকার উল্লেখ করলেন এবং হালাল উপার্জন বিষয়ে জরুরী কিছু কথা বললেন। আর বললেন, এগুলো নেক আমলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো পরিত্যাগ করা বড় বড় গুনাহ। অতএব যদি আমরা এগুলো না জানি তাহলে কিভাবে করণীয়গুলো করব? বর্জনীয়গুলো বর্জন করব?

শেষে এ কথা পরিষ্কার করলেন যে, ফরযে আইন ইলমের অনেক কিছু এখনও আমাদের জানার বাকি। আর তালিমুদ্দিন একাডেমি মূলত এই ফরযে আইন ইলম শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত।

এরপর হযরত মুদীর সাহেব হুযূর দামাত বারাকাতুহুম তালিমুদ্দীনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে অত্যন্ত সারগর্ভপূর্ণ আলোচনা পেশ করলেন। বললেন, তালিমুদ্দীন একাডেমি হল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মতো। যা সপ্তাহের সাতদিন এবং ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। যেকোনো সময় যেন মানুষ এখান থেকে সেবা লাভ করতে পারে। যখন প্রয়োজন হয়, যখন সুযোগ হয়, যেন এখান থেকে উপকৃত হতে পারে।

বললেন, প্রত্যেক দেশেই সময় ভেদে অবস্থা ভেদে বিভিন্ন বিষয়কে অগ্রাধিকার বিবেচনা করা হয়। এবং একশ পার্সেন্ট লোক সেটা পাবে, এমন ঘোষণা করা হয়। যেমন স্যানিটেশন ব্যবস্থা, গণশিক্ষা ব্যবস্থা, জরুরী স্বাস্থ্যকার্যক্রম ব্যবস্থা। এগুলোকে সরকার অগ্রাধিকার দেয়। এবং বলে যে, শতকরা একশ জনের কাছেই এইসব সুবিধা পৌঁছে যেতে হবে। ঠিক তেমনি ফরযে আইন ইলম শেখা, কুরআনে কারীম শেখা, এটা প্রত্যেক মুসলমানের অধিকার। এবং শতকরা একশ জনের কাছেই এই ব্যবস্থা পৌঁছে যেতে হবে। তালিমুদ্দীন একাডেমির লক্ষ্য সেটাই।

বললেন, কুরআন ও জরুরী দ্বীন শিক্ষা সকল মুসলমানের অধিকার। তালিমুদ্দীন একাডেমি আপনাদের সেই অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত। এখানে সকল শ্রেণির, সকল পেশার, সব বয়সী মানুষের জন্য কুরআন ও সহীহ দ্বীন শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সবশেষে জানালেন, পঞ্চগড় তালিমুদ্দীনে প্রাথমিকভাবে তিনটি ব্যাচ চালু হবে। বাদ ফজর ও মাগরিব দুটি। আর স্কুলগামী বাচ্চাদের জন্য পরামর্শ সাপেক্ষে সুবিধাজনক সময়ে একটি। সেটা আসরের আগে বা অন্য যে কোনো সময়ে হতে পারে।

এর সঙ্গে তালীমুদ্দীনে ভর্তি ও পড়ালেখার নিয়ম কানুন বিষয়ে কিছু কথা বললেন।

এরপর হযরত মাওলানা আবদুল মালেক সাহেব দামাত বারাকাতুহুম সবাইকে সূরা ফাতিহার সবক দিলেন এবং মুনাজাত করলেন।

মজলিশ শেষে সবাইকে মাসিক আলকাউসারের বর্তমান সংখ্যাটি হাদিয়া দেওয়া হলো। এবং রাতের খাবার প্যাকেটে করে দেওয়া হলো।

শুক্রবার রাত পার হয়ে সকাল হল। তখন একে একে সবাই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। আমরা কয়েকজন রওনা হলাম দুপুর আড়াইটায়। বিদায়ের সময় মনে হলো পাঁচ দিনের এই সংক্ষিপ্ত অবস্থানে শহরটির প্রতি বেশ মায়া জন্মেছে।

শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে বিখ্যাত করতোয়া নদী। নদীর উপর দীর্ঘ একটি সেতু। এই সেতুর উপর দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার নদী দেখেছি। যাবার বেলা অনেক্ষণ দৃষ্টি আটকে রইল নদীর দিকে।

পথিমধ্যে পরিচিত আরও কয়েকটি নদী পার হলাম। ইছামতি, আত্রাই, যমুনা। দীর্ঘ সফর শেষে যখন ঢাকায় পৌঁছলাম, ঘড়ির কাটায় তখন বাজে রাত ৪টা ১৫।