করোনার তীব্রতা কমার পর যেভাবে চলছে তাবলীগের কার্যক্রম

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মার্চে সবকিছুতে এসেছিল এক রকম স্থবিরতা। স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে সবকিছুর মতো বন্ধ ছিল তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম। জুনের পর আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। পৃথিবী ফিরেছে আপন চেহারায়। খুলেছে অফিস আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর করোনার সময়ে বন্ধ হয়ে থাকা তাবলিগী কার্যক্রম কিভাবে চলছে বর্তমানে? জানতে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে টঙ্গী ময়দানের দায়িত্বশীল তারেক ভাইয়ের সাথে।

তিনি ইসলাম টাইমসকে জানালেন, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও করোনা পরবর্তী সময়ে কাজের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। মুরব্বিরা কাজের সাথে জুরে থাকা সাথীদের সরকার নির্দেশিত সব ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ দিয়েছেন। মসজিদে আগে যে ৩০ মিনিটের তালিম হতো বর্তমানে তার পরিবর্তে উমুমী তালিমের নির্দেশ দিয়েছেন। এবং ৩০ মিনিটের যে মশওয়ারা হতো তা ১৫ মিনিটে করার কথা বলেছেন।

তিনি বলছেন, করোনার সময়ে চিল্লা ও ৩ দিনের জামাত বন্ধ থাকার পর তা আবার চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুরব্বীরা।

আরো পড়ুন: করোনাকালে যেভাবে সময় কাটাচ্ছেন তাবলিগী সাথীরা

তবে ইসলাম টাইমস প্রতিবেদককে তিনি বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে চিল্লার জন্য বের হওয়া জামাতগুলোকে মুরব্বীরা দুইভাবে তারতীব দিয়েছেন -১) ঢাকা ২) দেশের অন্য সব জেলা।

ঢাকার সাথীদের ক্ষেত্রে মুরব্বীদের বিশেষ নির্দেশনা হলো, তারা চিল্লায় সময় দিতে চাইলে সবধরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধামরাই, দোহা ও নবাবাবগঞ্জ এই তিন থানায় সময় কাটাবেন। আপাতত এর বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা আছে মুরব্বীদের পক্ষ থেকে।

ঢাকার বাইরে অন্য জেলার সাথীদের ক্ষেত্রে মুরব্বীদের নিদের্শনা হলো, পরবর্তী খাস মশওয়ারার আগ পর্যন্ত তারা নিজ নিজ জেলায় চিল্লার সময় কাটাবেন।

রোখ নির্ধারণ ও হেদায়েতী বয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার জন্য বিভিন্ন জেলার সাথীরা আগে কাকরাইলে আসতেন, বর্তমানের তার প্রয়োজন হবে না, সাথীরা নিজ জেলার মারকাজের জিম্মাদারদের থেকে জরুরী হেদায়েত ও রোখ নিয়ে নিবেন বলে জানিয়েছেন টঙ্গী ময়দানের এই দায়িত্বশীল।

আরো পড়ুন: মাদরাসাগুলোতে করোনা পরবর্তী তাবলীগী মেহনত বিষয়ে টঙ্গীতে আলেমদের জোড়

বৃহস্পতিবারে মারকাজ মসজিদগুলোতে শবগুজারীর যে আমল হয়, সে ক্ষেত্রে বিশেষ কোন নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে ইসলাম টাইমসকে এই দায়িত্বশীল বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে শহরে যেভাবে সম্ভব, বৃহস্পতিবার আসর থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আমলে জুরার অনুমতি আছে, তবে ঢাকার সাথীদের জন্য সবগুজারীতে মসজিদে অবস্থানের কোন অনুমতি নেই। বৃহস্পতিবার আসর থেকে এশা পর্যন্ত মারকাজে  জরুরী বয়ান শুনে সবাইকে নিজ নিজ বাসায় যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে মুরব্বীদের পক্ষ থেকে- বলছিলেন তারেক ভাই।

-এনটি

পূর্ববর্তি সংবাদমার্কিন নির্বাচনে যিনিই ক্ষমতায় আসুন, আমাদের সমস্যা নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদজেরুজালেমে দূতাবাস চালু করতে যাচ্ছে আফ্রিকার দেশ মালাবি