ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভে রাজধানীজুড়ে নবীপ্রেমীদের বাঁধ ভাঙা জোয়ার

রাজধানীতে ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভে নবীপ্রেমীদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

জুলফিকার জাহিদ।।

ফ্রান্সে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবমাননার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাজুড়ে আজ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। মুসলিম হৃদয়ের স্পন্দন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানে আঘাত করা ফ্রান্সের প্রতি বিক্ষোভকারী তৌহিদী জনতার গণজোয়ারে পূর্ণ ছিল ৩০ অক্টোবর শুক্রবার রাজধানীর সড়কগুলো। বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু করে রাজধানীর মোহাম্মপুর,মিরপুর, উত্তরা, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, যাত্রাবাড়ী,চিটাগাং রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সবগুলো মোড় থেকে বের হতে দেখা গেছে নবীপ্রেমীদের বাঁধ ভাঙা জোয়ার। আলেম-ওলামা, মাদরাসার তালিবুল ইলমের সাথে সাথে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।

উত্তরায় তৌহিদী জনতার ঢল।

প্রিয় নবীর শত্রুদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা জনতার প্রতিবাদী মিছিলগুলো দেখে মনে হচ্ছিল আজ যেন রাজধানীর সব জনস্রোত রাজপথে। নিজের থেকেও বেশি ভালবাসা নবীজির প্রতি অসম্মান জানানো ফ্রান্সকে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্তক বার্তা দিতেই নেমে এসেছেন রাজপথে-মিছিলে অংশগ্রহণকারী জাবির হাসানের মুখে শোনো গেছে এমন কথা।

বয়কট ফ্রান্স, নবীজির অবমাননার বিচার চাই, ফিদাকা আবি ওয়া উম্মি ইয়া রাসুল্লাল্লাহ এজাতীয় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিলে অংশ নেন নবীপ্রেমীরা।

জানা গেছে, প্রত্যেকটি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মিছিলগুলোতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার একাধিক মসজিদ থেকে এসে মানুষেরা অংশগ্রহণ করেছেন।

বাইতুল মোকাররমে তৌহিদী জনতার ঢল।

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি বিক্ষোভ মিছিলে স্লোগান দেওয়া হয়-  ‘বিশ্বনবীর অপমান, সইবে না রে মুসলমান’, ‘ম্যাখোঁর চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, মুসলমান জেগেছে’, ‘বয়কট বয়কট, ফ্রান্সের পণ্য বয়কট’, ‘ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে, ফ্রান্সের দূতাবাস’ ইত্যাদি স্লোগান।

পুরান ঢাকায় তৌহিদী জনতার ঢল।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা, সংসদে নিন্দা প্রস্তাব জ্ঞাপন করা, বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সের দূতাবাস সরিয়ে নিতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলেন বক্তারা।

ফ্রান্সে মুসলিম হৃদয়ের স্পন্দন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কার্টুন প্রকাশ করেছে দেশটির বিতর্কিত ম্যাগাজিন শার্লি হেবদো। মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে সেই কার্টুন ক্লাস রুমে দেখান স্যামুয়েল প্যাটি নামে এক শিক্ষক। তাকে গলা কেটে হত্যা করেন এক চেচেন যুবক। এরপর ফ্রান্সে শুরু হয় মুসলিম দমন-পীড়ন। সব ধৃষ্টতার সীমা ছাড়িয়ে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশটির দুটি বিল্ডিং-এ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই কার্টুন প্রদর্শন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ।

ফান্সের এই ধৃষ্টতার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে মুসলিম দুনিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন নবীপ্রেমী তৌহিদী জনতা।

পূর্ববর্তি সংবাদআমিরাতকে ৫০টি এফ-৩৫ বিমান বিক্রি করছে আমেরিকা
পরবর্তি সংবাদসাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক ও গ্রিস, নিহত ৬ (ভিডিও)