ভারতীয় সৎ মায়ের নির্মমতা: আদালতের নির্দেশে গুলশানে বাসায় ঢুকতে পেরেছেন সেই দুই বোন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: হাইকোর্টের নির্দেশের পর বাবার বাসায় ঢুকতে পেরেছেন গুলশান-২ এর বাসিন্দা মরহুম মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে। তাদেরকে অনতিবিলম্বে তাদের বাবার বাড়িতে প্রবেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া, আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ির সামনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

এ দুই বোনকে তাদের বাবার বাড়িতে প্রবেশ বাধা দেন তাদের সৎ মা। ওই দুই বোন হলেন- মুশফিকা মোস্তফা, মোবাশশেরা মোস্তফা। সৎ মা হলেন- অনজু কাপুর।

সোমবার সন্ধ্যায় হাইকোর্টের বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশে রাতের মধ্যে তাদের ওই বাড়িতে প্রবেশ এবং অবস্থান নিশ্চিত করার পর গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসারকে টেলিফোনে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে বলেছেন।

একই সাথে আগামী ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানসহ ওই দুই বোন মুশফিকা মোস্তফা, মোবাশশেরা মোস্তফা এবং তাদের সৎ মা অনজু কাপুরকে আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে আদালতের নির্দেশে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টেলিফোনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসারকে নিরাপত্তার বিষয়টি অবহিত করেছেন।

হাইকোর্টের মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাত ৯টা ৪০ মিনিটে আমাকে টেলিফোনে অবগত করেন। তিনি আদালতের আদেশ প্রতিপালন করে মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশেরা মোস্তফাকে গুলশান ২ নম্বরে ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িতে উঠিয়ে দেন এবং বাড়ির সামনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন।

উল্লেখ্য, গুলশান ২ নম্বরের ৯৫ নম্বর রোডে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ির মালিক মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ। ১০ অক্টোবর ওয়াহিদ মারা যাওয়ার পর শত কোটি টাকার এ সম্পত্তি নিজের বলে দাবি করছেন অনজু কাপুর নামের এক নারী। তিনি নিজেকে ওয়াহিদের স্ত্রী বলেও দাবি করছেন। ওয়াহিদের দুই মেয়েকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

টানা দুই দিন (শনি ও রোববার) গেটের সামনে অবস্থান করেও তারা বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে গুলশান থানায় একাধিক জিডি ও অভিযোগ দেয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি।

পরে এ নিয়ে তিনটি জাতীয় পত্রিকা ও একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদের ভিত্তিতে হাইকোর্ট আজকের এ নির্দেশ দেন।