একজন ভারতীয় অভিনেত্রীর ইসলামে ফিরে আসার গল্প

তাহমীদ বিন ইকরাম ।।

ইসলামের সুশীতল ছায়ায় পরিপূর্ণ ফিরে আসার মধ্যেই মানুষের ইহকাল ও পরকালের শান্তি ও মুক্তি নিহিত। সর্বকালের চিরন্তন এই সত্যটি খ্যাতি ও প্রাচুর্যর চূড়ায় থাকা মানুষগুলোকে আকর্ষণ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বস্তুত হেদায়াত আল্লাহ পাকের হাতে। আল্লাহ যাকে চান, ইসলামের জন্য তার অন্তর খুলে দেন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ের মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ভারতীয় প্রসিদ্ধ অভিনেত্রী সানা খান শোবিজ জগৎ চিরতরে ছেড়ে দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তার অ্যাকাউন্ট থেকে একটা পোস্ট করে তিনি বলিউড থেকে আজীবনের জন্য সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করেন। পোস্টের শিরোনামে লেখেন ‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত; আল্লাহ যেন এই জীবনে আমাকে পথ দেখান’।

যদিও ভারতের চিহ্নিত মিডিয়া বরাবরের মতোই এধরনের ঘটনাকে ‘মৌলবাদীদের ষড়যন্ত্র’, ‘কট্টরপন্থীদের খপ্পরে পড়া’ বলে অপপ্রচার চালিয়েছে। কিন্তু এই মুসলিম নারী তার প্রত্যাবর্তনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত পোস্টে লেখেন,” বেশ কিছুদিন ধরেই আমার মধ্যে এই অনুভুতি হচ্ছে যে, মানুষের পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্য কি কেবল সম্পদ ও খ্যাতি উপার্জন ?! সহায়-সম্বল আশ্রয়হীন মানুষদের পাশে দাঁড়াবার কোন দায় কি মানুষের উপর নেই?! মানুষের তো ভাবা উচিত যে, জীবনের যে কোন মুহূর্তেই তার মৃত্যু এসে যেতে পারে, তাই না?! তো মৃত্যুর পরে তার জন্য কী পরিণাম হতে যাচ্ছে?!”

তিনি লেখেন,” এই প্রশ্নের উত্তর আমি অনেকদিন ধরে অনুসন্ধান করছি। বিশেষ করে আমার মৃত্যুর পর আমার কী হবে এই প্রশ্ন আমাকে অস্থির করে রেখেছে। আমি এই প্রশ্নের উত্তর যখন আমার ধর্মের মধ্যে খোঁজার চেষ্টা করি, তখন প্রশান্তিদায়ক উত্তর পেয়ে যাই। জানতে পারি, পার্থিব এই জীবন মূলত পরকালের জীবনকে সাজিয়ে প্রস্তুত করার জন্যই। আর সেই প্রস্তুতি সার্থক ও সুন্দর তখন হবে যখন মানুষ তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বিধানমত জীবনকে সাজাবে। জীবনটাকে শুধু সম্পদ ও খ্যাতি অর্জনের মধ্যে কাটাবেনা। পাপপঙ্কিল জীবন থেকে বেঁচে মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবে। এভাবে স্রষ্টার নির্দেশিত পথে চলবে।”

তারপর সাবেক বলিউড তারকা সানা খান শোবিজ জগৎ ছেড়ে আল্লাহর নির্দেশিত পথে মানবতার সেবায় আসার পূর্ণ ইচ্ছার ঘোষণা দিয়ে বলেন,” সব ভাইবোনদের কাছে আবেদন, তারা যেন আমার জন্য দোয়া করেন যাতে আল্লাহ তাআলা আমার এই তাওবা কবুল করেন। আগামী জীবনটায় আমার মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর হুকুম মোতাবেক মানবতার সেবায় কাটাবার তাওফিক দেন। এবং নতুন এই জীবনে আমাকে ইস্তেকামাত বা দৃঢ়তা দান করেন।”

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে তিনি একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, কীভাবে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস ও শক্তি পেলেন। তিনি বলেন, অনেকেই সাধুবাদ জানিয়ে তাকে বলেছেন, ‘আমরাও ইচ্ছা করি পুরোপুরি ধর্মকে মেনে চলতে, কিন্তু অলসতায় অবহেলায় পেরে উঠিনা। আপনি কীভাবে এত সাহস ও শক্তি পেলেন?’ উত্তরে জানান, “তাওফিক দেবার মালিক তো মহান আল্লাহতায়ালা। কিন্তু আমি একটা দোয়া সবসময় পড়ি। প্রত্যেক নামাযের পরে, উঠতে-বসতে, চলাফেরায় সবসময়।”

ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি ভক্তদেরকে দোয়াটা শিখিয়ে দেন, ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলূব, সাব্বিত কলবি আলা দীনিকা’ ‘ হে অন্তরের পরিবর্তনের মালিক, আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর অটল রেখো’।

স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওটাতে তিনি বলেন,” আমরা যখন পার্থিব কোন বিষয়ে অর্জন করতে চাই তখন সেটার জন্য পরিশ্রম করি, অনেক ত্যাগ দেই। ঘুম খাবার সবকিছু এলোমেলো করে হলেও সেটা পাওয়ার চেষ্টা করি। পরিশ্রম ও ত্যাগ দেওয়া ছাড়া কোন জিনিস অর্জন হয় না। তো আপনি যখন আল্লাহকে পাওয়ার ইচ্ছা করবেন, তখন আপনাকে অনেক পরিশ্রম করার ও ত্যাগ দেওয়ার ইচ্ছা করতে হবে। যে দ্বীনের জন্য মেহনত ও কুরবানী করবে সে ইহ-পরকালে সফলতা অর্জন করবে।

এর আগে বলিউডকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছিলেন কাশ্মীরি অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিম। তিনি জানিয়েছিলেন, ঈমানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতেই তার এই সিদ্ধান্ত।