হযরত মাওলানা আব্দুল হালিম চিশতী রহ.:  ইসলামী জ্ঞান-গবেষণায় এক পথিকৃৎ মনীষী  

যহীরুল ইসলাম ।।

ড. আল্লামা আব্দুল হালিম চিশতী রহ. চলমান  শতকের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেম দ্বীন। ইলমে হাদীসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ইলমের গবেষণায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। রচনা করেছেন অনেক কালজয়ী গ্রন্থ।

বিজ্ঞাপন

এই বিখ্যাত মনীষী জন্মগ্রহণ করেন ৬ এপ্রিল ১৯২৯ ঈ. মোতাবেক ১৩৪৭ হিজরীর যিলকদে ভারতের জয়পুর প্রদেশের এক দ্বীনদার পরিবারে।

বাবার নাম মাওলানা আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মদ বখশ (১২৯৫-১৩৭৩হি./১৮৭৮-১৯৫৪ঈ.) রহ.। তিনি অত্যন্ত যাহেদ, মুত্তাকি ও পরহেযগার আলিম ছিলেন। কবি এবং কবিতার সাথে ছিল তাঁর গভীর সম্পর্ক। পেশা হিসেবে প্রিন্টিংয়ের কাজ করতেন। তাঁর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘মাতবাআ রহিমী” নামে প্রসিদ্ধ। (বিস্তারিত জানতে দেখুন: তাযকিরা রহিমী : ১৫-৩৬ পৃ.)

শিক্ষাজীবন

ড. চিশতি সাহেব রহ. তাঁর শিক্ষাজীবন সম্পর্কে লিখেছেন – প্রথমে বাবার কাছে কুরআন শরীফের প্রথম তিন পারা মুখস্থ করেন। এরপর ১৯৩৬ সনে ব্যবসার সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৪০সনে হায়দারাবাদের দাকান শহরে চলে আসেন বাবার কাছে। তখন তাঁর বাবা ও বড়ো ভাই হযরত মাওলানা আব্দুর রশিদ নু’মানী রহ. “দায়েরাতু মাআরিফল উসমানিয়া’র (১) তত্ত্বাবধানে “মু’জামুল মুসান্নাফীন”(২) এর কাজ করতেন।

১৯৪১ সনে হায়াদারাবাদের প্রসিদ্ধ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান “জামেয়া নিযামিয়া” (৩)তে ভর্তি হন তিনি। এখানে একবছর পড়ার পর জয়পুরে এসে “মুনশি” পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং জয়পুরের “মাদ্রাসা তা’লিমুল ইসলামে” আরবি পড়েন।

১৪৬৩ হিজরিতে উচ্চশিক্ষার জন্য দারুল উলুম দেওবন্দ আসেন। ধারাবাহিকভাবে চার বছর– (১৯৪৩-১৯৪৭ পর্যন্ত) দারুল উলুমে পড়েন। ১৯৪৭ সালে তিনি পাকিস্তান হিজরত করেন। অতঃপর পুনরায় ১২-সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সনে দারুল উলূমে এসে মিশকাত ও দাওরা হাদিস সম্পন্ন করে পাকিস্তান চলে যান।

ড, আবদুল হালিম চিশতি সাহেব রহ. মাদ্রাসায় পড়ার পাশাপাশি তৎকালীন সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানিক পড়াশোনাও করেছেন। ১৯৪২ সালে তিনি মুনশি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সনে মেট্রিক, ১৯৫৭ সনে “মৌলভি ফাজেল” সমাপ্ত করেন।

তিনি এম.এ. করেছেন দু’বার।  প্রথমবার ১৯৬৭ সনে করাচী ইউনিভার্সিটি থেকে “ইসলামিয়্যাতে”র ওপর। দ্বিতীয়বার ১৯৭১ সনে ইলমি কুতুবখানার উপর। সর্বশেষ ১৯৮১ সনে করাচী ইউনিভার্সিটি থেকে “ইসলামী কুতুবখানোঁ” নিয়ে পিএইচডি করেছেন।(দেখুন:তাযকিরা রহিমী:৪৪পৃ, লামহাত মিন হায়াতিশ শায়েখ আল্লামা আব্দুল হালিম নু’মানী- আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ জামাল জাহদানী: ৪-৭) তাঁর পিএইচডির থিসিসটি সর্বমহলে প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।  ইতিপূর্বে এই বিষয়ে এমন তথ্য সমৃদ্ধ গ্রন্থ উর্দু ভাষায় আর রচিত হয়নি।

 যাদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন:

এক. শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী (১২৯৬-১৩৭৭ হি.) রহ.-এর কাছে বুখারী ও তিরমিজি পড়েছেন।

দুই. আল্লামা ইব্রাহিম বালয়াবী (১৩০৪ -১৩৮৭ হি.) রহ.। তাঁর কাছে পড়েছেন সহীহ মুসলিম।

তিন. শাইখুল আদব আল্লামা ই’জাজ আলী আমরুহি (১৩০০-১৩৭৪ হি.) রহ.-এর কাছে সুনানে আবি দাউদ ও তিরমিজির কিছু অংশ পড়েছেন।

চার. হযরত মাওলানা সায়্যিদ ফখরুল হাসান মুরাদাবাদি (১৩২৩-১৪০১ হি.) রহ.-এর কাছে সুনানে নাসাঈ পড়েন।

পাঁচ. শায়খুত তাফসীর হযরত মাওলানা ইদ্রিস কান্ধলভী (১৩১৮-১৩৯৪ হি.) রহ.–এর কাছে মুআত্তা মালিক ও মুআত্তা মুহাম্মদ পড়েন।

ছয়. হযরত মাওলানা আব্দুল হক আকুঢ়াবী (১৩২৭-১৪০৯ হি.)রহ.-এর কাছে শরহু মাআনিল আসার পড়েন।

সাত. হাকীমুল ইসলাম ক্বারী মুহাম্মদ তৈয়ব সাহেব(১৩১৫-১৪০৩ হি.) রহ.-এর নিকট মিশকাতুল মাসাবীহ’ পড়েন।

আট. হযরত মাওলানা আব্দুল খালেক মুলতানি রহ.-এর কাছেও মিশকাত পড়েছেন।

নয়. হযরত মাওলানা মুফতী ক্বদীর বখশ বাদায়ুনী (ওফাত: ১৯৫৬) রহ.। আমীনুত তা’লীম, মাদ্রাসা তা’লীমুল ইসলাম, জয়পুর, রাজস্থান

দশ. প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস, গবেষক শায়েখ আব্দুর রশিদ নু’মানী (ওফাত: ১৪২০হি.) রহ.।

এগার. মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (১৪১৭ হি.) রহ.

বার. শায়েখ মুহাম্মাদ সালেহ সিন্ধী (১৪২৬ হি.) রহ.

তেরো. হযরত মাওলানা ফজলুল্লাহ হায়দারাবাদী রহ.। ড. সাহেব রহ. তাঁর কাছে “হিসনে হাসীন” পুরোটা পড়েছেন।

কর্মজীবন

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ফিরে আসার পর পাকিস্তান রেডিওতে হযরত মাওলানা ইহতিশামুল হক থানভী (১৯১৫-১৯৮০ ঈ.) রহ.-এর সাথে ‘তাফসীর কুরআনে’র সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

“অল পাকিস্তান হিস্ট্রিকাল সোসাইটি’তেও কিছুদিন “রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে কাজ করেছেন।‌ ১৯৫৫ সনে “লিয়াক্বত ন্যাশনাল লাইব্রেরি’র সাথে যুক্ত হন। এখানে প্রায় চৌদ্দ বছরের মতো কাজ করেন। এপ্রিল-১৯৬৮ সনে করাচী ইউনিভার্সিটিতে “ওরিয়েন্টাল ক্যাটালিস্ট” হিসেবে যুক্ত হন। পর্যায়ক্রমে “এসিস্ট্যান্ট লাইব্রেরিয়ান” পদে নিয়োগ পেয়েছেন। নভেম্বর ১৯৭৭ সনে Bayero University. Kano (বায়রো ইউনিভার্সিটি, কানো) নাইজেরিয়াতে “সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান” হিসেবে কাজ করেন। (তাযকিরা রহিমী: ৪৪-৪৫পৃ.)

১৪০৮ হিজরিতে “জামিয়া ইসলামিয়া” বিন্নুরি টাউনে হযরত মাওলানা মুফতী ওয়ালি হাসান খান টুংকি (১৯২৩-১৯৯৫ঈ)রহ.-এর সাথে তাখাসসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী’র গবেষণামূলক প্রবন্ধের মুশরিফ (তত্ত্বাবধায়ক) ছিলেন। এরপর জামেয়া ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউনের “তাখাসসুস ফিল হাদীস” এর মুশরিফ হন।(যমীমায়ে হাজার সাল পয়লে ২৭৪ পৃ.)

এর সাথে সাথে করাচীর অন্যতম প্রসিদ্ধ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামেয়াতুর রশিদেও হাদীস পড়িয়েছেন।

বায়আত ও খিলাফত

ড. চিশতি সাহেব রহ. প্রথমে ইসলাহি সম্পর্ক গড়ে তোলেন শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী (ওফাত: ১৩৭৭ হি.) রহ.-এর সাথে। তাঁর ইন্তিকালের পর হযরত আব্দুল কাদের রায়পুরী (১৮৭৩-১৯৬২ ঈ.) রহ.-এর বিশেষ খলীফা শায়েখ সায়্যিদ নাফিস হুসাইনী(১৯৩৩-২০০৮ ঈ.) রহ.-এর হাতে বায়আত হন।‌ শায়েখ নাফিস হুসাইনী রহ. চিশতি সাহেবকে ইজাজত ও খিলাফত দিয়েছেন।

রচনাবলী 

ড, চিশতি সাহেব রহ.-এর গ্রন্থাবলি পাঠ করলেই পাঠক তাঁর ইলমের গভীরতা অনুভব করতে পারবেন। যে বিষয়ে তিনি কলম ধরেছেন, তার গভীরে পৌঁছার চেষ্টা করেছেন এবং অনেকাংশে সফলও হয়েছেন। পাঠকের সামনে তথ্য ও তত্ত্বের সমাহার ঘটিয়েছেন। ইলমি দিগন্তের নানাদিক উম্মোচন করেছেন, যা একজন অনুসন্ধানী পাঠকের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তা গবেষকদের দায়িত্বও বটে।

এখানে সংক্ষেপে বরেণ্য এ গবেষকের গ্রন্থ ও তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধের তালিকা তুলে ধরছি:

আরবি

১. البضاعة المزجات لمن يطالع المرقات

এটা চিশতি সাহেবের একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ।  ছাত্রদের সহজলভ্যতার কথা বিবেচনা করে উপমহাদেশে মিশকাতুল মাসাবীহ’-এর নুসখার (পাণ্ডুলিপি) সাথে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রথম এডিশন মিরকাতুল মাফাতিহ-এর সাথে “মাকতাবা ইমদাদিয়া” মুলতান থেকে বেরিয়েছে। বৈরুতের প্রসিদ্ধ প্রকাশনা “দারুল কুতুবিল ইলমিয়া” থেকেও পৃথকভাবে ছেপেছে। গ্রন্থটির উরদু অনুবাদও হয়েছে।

২. لمحات من التربية الفقهية في خير القرون

এটা মূলত চিশতি সাহেবের শাগরিদ শায়েখ মুহাম্মদ আইয়ুব রশিদী লিখিত “الجمع بين الآثار مما اتفق على روايته أبو يوسف القاضي و محمد بن الحسن الشيباني عن أبي حنيفة الإمام الرباني ”

নামক গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। যা প্রথমে لمحات في تاريخ التفقيه والفقه الإسلامي   নামে ছেপেছে। এরপর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রাগুক্ত নাম দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

৩. الإمام البخاري أمير المؤمنين في الحديث بين الإفراط و التفريط

৪. الإمام أبو يوسف و مكانته في الحديث

৫. الإمام محمد و مكانته في الحديث

৬. تذكرة الحفاظ المستخرج من الأنساب للسمعاني

লেখক: মির্জা মুহাম্মাদ বিন রুস্তম আল-বদখশী রহ.।

তাতে চিশতি সাহেব রহ. তাহকিক-তা’লিক করেছেন। যা এখনও প্রকাশিত হয়নি।

৭. ما لا يستغنيه عنه المحدث و الفقيه

লেখক এ গ্রন্থে হাদীস ও ফিকাহ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আরবিতে সহজভাবে তুলে ধরেছেন। প্রকাশনায়: মাকতাবাতুল কাউসার, করাচী  ১৪৩৭হি.

র্দু

৮. اسلامی کتب خانے

এটা এক অসাধারণ গ্রন্থ। পাশাপাশি অনেক দূর্লভ তথ্য সম্বলিত। বলা যায় এটা তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

গ্রন্থটি মূলত চিশতি সাহেব রহ.-এর পিএইচডির থিসিস। যা তিনি করাচী ইউনিভার্সিটিতে সংকলন করেছেন। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় একহাজার। প্রকাশ করেছেন লাহোরের “মাকতাবা ফয়সাল”। এর অনুবাদ আরবিতেও হয়েছে। তবে এখনও প্রকাশ পায়নি।

৯. حیات وحیدالزماں

প্রসিদ্ধ আলিম ও হাদীস ভাষ্যকার মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান রহ.-এর জীবনী। শায়েখ ওয়াহিদুজ্জামান রহ. সালাফি আলিম হওয়া সত্ত্বেও লেখক অনেক বিস্তারিত তাঁর ইলমি খিদমাতের পরিচয় তুলে ধরেছেন। যা আমাদের জন্যেও অনেক শিক্ষণীয়। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন করাচীর প্রসিদ্ধ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান “নুর মোহাম্মদ কুতুবখানা”।

১১. تذکرہ علامہ جلال الدین سیوطی

প্রকাশনায় আররহীম একাডেমী, করাচী।

১২. عہد نبوی میں صحابہ کرام کے فقہی کارنامے اور قضاء کا نظام

প্রকাশনায় মাকতাবাতুল কাউসার, করাচী

১৩. عہد نبوی میں صحابہ کرام کی فقہی تربیت اور افتاء کا نظام

প্রকাশনায় মাকতাবাতুল কাউসার, করাচী

১৪. اسلامی قلمرو میں اقرأ اور علم بالقلم کے ثقافتی جلوے۔

দু’খন্ডের কিতাবটির প্রকাশ করেন মাকতাবাতুল কাউসার, ২০১৫ ঈ.

১৫. حیات امام جزری

প্রকাশনায়: নুর মোহাম্মদ কুতুবখানা, করাচী

১৬. سید احمد شہید کی اردو تصانیف و اردو ادب پر ان کی تحریک کا أثر اور سید شہید کا فقہی مسلک

এটা প্রথমে প্রবন্ধাকারে জামেয়া ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউনের মাসিক “আল-বায়্যিনাতে” ও “আর-রহীম” পত্রিকায় কয়েক কিস্তিতে বের হয়। এরপর স্বতন্ত্র গ্রন্থরূপে আর-রহীম একাডেমী থেকে কয়েকবার প্রকাশিত হয়।

১৭. فرزند کامل پوری اور معتمد بنوری

প্রকাশনায়: মাকতাবাতুল কাউসার, করাচী, ২০১২ঈ.

১৮. زاد المتقین فی سلوک طریق الیقین

মূল: শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (৯৫০-১০৫২হি/১৫৫২-১৬৪২ঈ) রহ.।

অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: মাওলানা ড, আবদুল হালিম চিশতি। প্রকাশনায়: আর-রহীম একাডেমী, করাচী, ১৯৯৮ ঈ.

১৯. فوائد نافعہ شرح عجالہ نافعہ

মূল : শায়েখ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী (৯৫০-১০৫২হি/১৫৫২-১৬৪২ঈ) রহ.

অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: মাওলানা ড, আবদুল হালিম চিশতী।

এর প্রথম এডিশন নুর মোহাম্মদ কুতুবখানা, করাচী থেকে বেরিয়েছে। আরেকটি এডিশন আর-রহীম একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে মাকতাবাতুল কাউসার, করাচী, ২০১২ঈ.

ব্যাখ্যাগ্রন্থটির আরবি করেছেন মাওলানা আব্দুর রহিম। গ্রন্থ দু’টো অধ্যয়নের দ্বারা পাঠক অনুভব করতে পারবেন যে–ব্যাখ্যাকার কিতাব দু’টোর হক আদায় করেছেন।

২০. مشارق الانوار

মূল : ইমাম মুহাম্মাদ বিন হাসান সাগানি (১১৮১-১২৫২ঈ)। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: মাওলানা খুররম আলী বলহুরী(১৩৭৩হি) রহ.। বিন্যাস: মাওলানা ড, আবদুল হালিম চিশতি। প্রকাশনায়: নুর মোহাম্মদ কুতুবখানা, করাচী, ১৩৭৫হি।

২১. نصیحۃ المسلمین

মূল : মাওলানা খুররম আলী বলহুরী (১৩৭৩হি) রহ ।বিন্যাস : মাওলানা ড, আবদুল হালিম চিশতি।  নুর মোহাম্মদ কুতুবখানা, করাচী

২২. عدۃ حصن الحصین

মূল: মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ বিন জাযারী (৭৫১-৮৩৩হি) রহ.। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: মাওলানা ড,আবদুল হালিম চিশতি। মাকতাবাতুল কাউসার, করাচী,১৪৩৩হি / ২০১২ঈ। এর ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেছেন চিশতি সাহেবের শাগরিদ মাওলানা আব্দুর রহিম, অনূদিত গ্রন্থটি ইরান থেকে ছেপেছে।

২৩. مکی دور میں رسول صلی اللہ علیہ وسلّم کے تعلیمی کارنامے

মাকতাবাতুল কাউসার, করাচী।

প্রবন্ধ-নিবন্ধ

ড. চিশতি সাহেব প্রায় কয়েক যুগ ধরে উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ পত্রিকাগুলোতে অনেক গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন। যেগুলোর সংকলিত হলে হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে যাবে। আশা করি তাঁর কোন যোগ্য শাগরিদ ওগুলোর সংকলন প্রকাশ করবেন। এখানে আমরা বেশকিছু প্রবন্ধের তালিকা তুলে ধরছি:

(১) امام محمد بن الحسن الشیبانی

মাসিক মাআরিফ: নভেম্বর–ডিসেম্বর, ২০০০ঈ.

(২)ابن الندیم الوراق اور انکی کتاب الفہرست –ایک جائزہ

মাজাল্লা ফিকর ওয়া নযর: ১৯৯৪ঈ.

(৩) امام حسن بن محمد الصغانی اللاھوری

মাসিক মাআরিফ: জানুয়ারি –সেপ্টম্বর,১৯৫৯ ঈ.

(৪) ابن الجزری

মাসিক মাআরিফ: নভেম্বর–ডিসেম্বর,১৯৫৭ঈ , এবং জানুয়ারি  ১৯৫৮ ঈ.

(৫) علامہ محمد طاھر پٹنی اور انکی کتاب مجمع بحار الانوار

মাজাল্লা ফিকর ওয়া নযর: ২০০৫ঈ.

(৬) تذکرہ شاہ ولی اللہ মাসিক আর-রহীম: জুলাই, ১৯৬৬ঈ.

(৭) شاہ ولی اللہ اور شاہ رفیع الدین

মাসিক আর-রহীম: মে  ১৯৬৬ঈ.

(৮) تذکرہ شاہ محمد اسحاق

মাসিক আর-রহীম: এপ্রিল, ১৯৬৮ঈ.

(৯) تذکرہ خانوادہ شاہ ولی اللہی

মাসিক আর-রহীম: মার্চ,১৯৬৮ঈ.

(১০) مرزا حسن علی صغیر محدث لکھنوی

মাসিক মাআরিফ: ডিসেম্বর,১৯৫৬ঈ.

(১১) مولانا خرم علی بلہوری اور انکی علمی خدمات کا تفصیلی جائزہ

মাসিক মাআরিফ:মে -জুলাই,১৯৫৬ঈ.

(১২) تذکرہ حجۃالاسلام مولانا قاسم نانوتوی

মাসিক আর-রহীম: নভেম্বর,১৯৬৬ঈ.

(১৩) امام العصر علامہ سید محمد انور شاہ کشمیری

মাসিক মাআরিফ: সেপ্টেম্বর-নভেম্বর, ১৯৬৭ঈ.

(১৪) پروفیسر محمد الیاس برنی

মাসিক মাআরিফ: ফেব্রুয়ারি-মার্চ,২০০২ঈ.

(১৫) مولانا ڈاکٹر محمد حبیب اللہ مختار شہید

আখবারুল মাদারিস: মাওলানা ড, মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ মুখতার শহীদ নম্বর

(১৬) تیسری چوتھی صدی ہجری میں مرکز اسلام بغداد میں کتابیاتی سرگرمیاں

মাসিক মাআরিফ: জুন,১৯৮২ঈ.

(১৭) عہد عباسی میں کتب خانوں کی ترویج و اشاعت کے اسباب

মাসিক মাআরিফ:ডিসেম্বর,১৯৮২ঈ.

(১৮)حکم اقرأ کے ثقافتی پہلو اور شاہان عباسی کی عالمگیر تحریک کتب سازی کے اثرات

মাসিক মাআরিফ: এপ্রিল-মে ১৯৮৩ঈ.

(১৯) کتاب سازی، وراقت

মাসিক মাআরিফ:সেপ্টেম্বর-অক্টোবর,১৯৮৪ঈ.

(২০) وراقت: کتاب منزل بہ منزل

মাসিক মাআরিফ: সেপ্টেম্বর – অক্টোবর, ১৯৮৫ঈ.

(২১)دور جاھلی میں عربوں کے کتب خانے

মাজাল্লা ফিকর ওয়া নযর: ১৯৯৫ঈ.

(২২) قرآن مجید کا ایک قدیم ترین فارسی ترجمہ

মাজাল্লা: বাসাইর, জানুয়ারি, ১৯৬৩ঈ.

এছাড়া আরো অনেক গ্রন্থের মুকাদ্দামা এবং তাকরিযও লিখেছেন তিনি।

তাঁর তত্ত্বাবধানে পঞ্চাশের অধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচিত হয়েছে।

পারিবারিক জীবন 

মাওলানা ড. আবদুল হালিম চিশতি সাহেব রহ.- এর চার বোন ও কয়েক ভাই। বোনেরা ছিলেন সবার বড়। চিশতি সাহেবের বড় ভাই হলেন উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ গবেষক ও মুহাদ্দিস শায়েখ আব্দুর রশিদ নু’মানী রহ. (৪)

দ্বিতীয়জন মাওলানা আব্দুল আলীম নদভী রহ. জন্মগ্রহণ করেন ৭-ডিসেম্বর,১৯২৯সনে। শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা হায়দার হাসান খান টুংকি রহ.-এর তত্ত্বাবধানে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লাখনৌতে থেকে পড়াশোনা করেন। ১৯৪০সনে ওরিয়েন্টাল কলেজ, লাহোর থেকে “মৌলবি ফাজেল” পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪১সনে হায়দরাবাদের “দায়েরাতু মাআরিফল উসমানিয়া’র “মু’জামুল মুসান্নাফীন” এর দপ্তরে কাজ করেন, এবং পারিবারিক জীবনে আবদ্ধ হন ১৯৪২সনে।

তিনি আল্লামা জাযারী রহ.-এর জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হিসনুল হাসিনের’ অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেছেন “আল-কাওলুল মাতীন” নামে যা নুর মোহাম্মদ কুতুবখানা করাচী থেকে প্রকাশিত হয়।

১৯৮৭ সনের সেপ্টেম্বর মাসের উনিশ তারিখে তিনি ইন্তিকাল করেন।

তৃতীয় নাম্বারে হযরত মাওলানা ড. আবদুল হালিম চিশতি সাহেব রহ.

# মুহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ,জন্ম তারিখ ১৩৬৬হি, / ১৯৪৭ঈ.

#মুহাম্মাদ আবদুল ওয়ারিস

# মুহাম্মাদ আবদুল মুগিস

#মুহাম্মাদ আবদুল আযীম

# মুহাম্মাদ আবদুর রহমান গজনফর

শায়েখ ড. আবদুল হালিম চিশতি সাহেব রহ. দুই বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে হয় ১৯৪০সনে। এই আহলিয়ার ইন্তিকালের পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন ২৭ জিলহজ্ব ১৩৭২ হিজরিতে। পারিবারিক জীবনে তাকে আল্লাহ তাআলা চারজন ছেলে ও আটজন মেয়ে দান করেছেন।

প্রায় নব্বই বছর বয়সে ড. আল্লামা আব্দুল হালিম চিশতি সাহেব  রহ. বিগত সোমবার দুপুরে (১২-অক্টোবর. ২০২০ঈ.) আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে পরকালের কাফেলায় যোগ হন। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে উঁচু মাকাম দান করুন এবং আমাদেরকে তাঁর নি’মাল বদল দান করুন। আমীন।

টিকা: 

(১) দায়েরাতু মাআরিফল উসমানিয়া: উপমহাদেশের সুবিখ্যাত একটি বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সলফে সালেহীনের অনেক গ্রন্থ সর্বপ্রথম দায়েরাই প্রকাশের সৌভাগ্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পুরো পৃথিবীতে ইলমী অঙ্গনের সবার কাছে পরিচিত। দায়েরাতুল মাআরিফ প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৮২/১৩০০ হিজরীতে। মূল উদ্যোক্তা ছিলেন তিনজন, শায়েখ আল্লামা আনোয়ারুল্লাহ আফগানী, নওয়াব সায়্যিদ হুসাইন বলগেরামী ও মোল্লা আবদুল কাইয়ুম। (বিস্তারিত জানতে দেখুন: আলফিহরিসুল ওয়াসফিয়্যি লি মাতবুআতি দায়িরাতুল মাআরিফিল উসমানিয়া: আযমাতুল্লাহ নদভী, সায়্যিদ আহমদ যাকারিয়া গোরি নদভী।)

(২) মু’জামুল মুসান্নাফীন: হযরত মাওলানা মাহমুদ হাসান খান টুংকি (মৃ:১৩২৩হি.) রহ.-এর অমর গ্রন্থ। বিশখন্ডের প্রায় বিশ হাজার পৃষ্ঠা সম্বলিত এ গ্রন্থটিতে চল্লিশ হাজার মুসান্নিফের জীবনী সংকলিত হয়েছ। শুধু “আহমদ” নামেই দু’হাজার লেখকের জীবনী তাতে রয়েছে। অমূল্য রচনাটির প্রথম চার খন্ড দেশভাগের পূর্বে “দায়েরাতুল মাঅরিফিল উসমানিয়্যা” থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি খন্ডগুলো আজও পান্ডুলিপি আকারে রয়ে গেছে।

(৩) মাদরাসা নিযামিয়্যাহ: ১২৯২ হিজরীতে হায়দারাবাদের দাক্কান শহরে শায়েখ আল্লামা আনোয়ারুল্লাহ আফগানী রহ. প্রতিষ্ঠা করেন। পাঠ্যসূচি দরসে নিযামীর অনুকরণেই রাখা হয়েছে। শায়েখ আনোয়ারুল্লাহ আফগানী রহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর “মাজলিসে ইশাআতুল উলূম” নামে ১৩৩০ হিজরীতে মাদ্রাসার একটি ইলমী গবেষণা কেন্দ্র খোলেন। যার মাধ্যমে মুতাকিদ্দিমীন ও মুতাখখিরীনের অনেক ইলমী সম্ভার প্রকাশিত হয়েছে । দেখুন : মারাকিযুল মুসলিমীনাত তা’লীমিয়্যাহ ওয়াস সাক্বাফিয়্যাতিদ দীনিয়্যাহ ২৪ – ২৬ পৃ. ড. আবদুল হালীম নদভী, মাতবাআয়ে নূরী, মাদ্রাজ।

(৪) শায়েখ আব্দুর রশিদ নু’মানী রহ.-এর বিস্তারিত জীবনী জানতে দেখুন: আলকালামুল মুফীদ ফী তাহরীরিল আসানীদ: শায়েখ রুহুল আমিন বিন হুসাইন আহমদ আখন্দ যশোরী। উসূলে আহাদিস কে বাআয আহাম মাবাহিস: ১১–২৯। এছাড়াও আরো বেশকিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ শায়েখ নু’মানী রহ.-কে নিয়ে লেখা হয়েছে।

আরো পড়ুন: পাকিস্তানের প্রবীণ আলেম আব্দুল হালিম চিশতীর ইন্তেকাল

শায়েখ মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নোমানী রাহ. : ইলমের সমুদ্রে আকণ্ঠ নিমজ্জিত মনীষী

শহীদ মাওলানা আদিল খান রহ., জীবন ও স্মৃতি

পড়ন্ত বেলায় শতবর্ষী এক আশেকে মাদানী: মাওলানা আবদুল বারী লক্ষীপুরী দা বা.