ধর্ষণের জন্য ওয়াজ-মাহফিলকে দায়ী করে ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য, যা বলছেন বিশিষ্ট আলেমরা

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার পর সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হতে থাকে একের পর এক অমানবিক ঘটনা। প্রত্যেকটি ঘটনাই অন্যটির থেকে আরো বেশি হিংস্র ও পিলে চমকে দেওয়ার মতো। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় আঁতকে ওঠেন দেশের সাধারণ মানুষ। জান-মাল ও পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে সবাইকে। এমন পরিস্থিতিতে এইসব অমানবিকতা বন্ধে সংঘবদ্ধ আওয়াজ তোলেন দেশের মানুষ। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করেন সবাই।

বিজ্ঞাপন

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিক্ষোভে হঠাৎ ওয়াজ-মাহফিলগুলোকে ধর্ষণের জন্য দায়ী করে বক্তব্য দেন বাম ছাত্রসংগঠন ও কথিত নারীবাদীরা। তারা ওয়াজ-মাহফিলের আলোচনা বন্ধ ও এই আলোচনাগুলোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার দাবি তোলেন।

ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনে বাম ছাত্র সংগঠন ও নারীবাদীদের এমন বক্তব্য ও দাবি অবাক করেছে দেশের আপামর জনতাকে। গণমানুষের পক্ষে আওয়াজ তুলতে গিয়ে মানুষের হৃদয়েই যেন আঘাত করেছে বাম ছাত্র সংগঠন ও কথিত নারীবাদীদের এই দাবি। এদিকে তাদের এই ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের পক্ষে নিয়ে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে আঘাত করে কিছু টিভি উপস্থাপক।

মোহাম্মদপুর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক ইসলাম টাইমসকে বলছিলেন, যুগযুগ ধরে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মানুষের নীতি-নৈতিকতার উন্নয়নে অবদান রাখছে ওয়াজ মাহফিলগুলো। তাই বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর এজাতীয় বক্তব্যের কোন যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলাম বিদ্বেষ থেকেই গোষ্ঠীটি এই দাবি তুলেছে, তবে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এরা কখনোই পাত্তা পায় না।

মাওলানা মাহফুজুল হক বলছেন, দেশের মানুষের চারিত্রিক উন্নয়ন ও সামাজিক অবক্ষয় রুখতে ওয়াজ-মাহফিল ও ধর্মীয় তাহজিব-তামাদ্দুন নিয়ে আলোচনা হয় এমন প্লাটফর্মের বিকল্প নেই। তার মতে বর্তমান পরিস্থিতির লাগাম টানতে ওয়াজ-মাহফিলই অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বামদের আন্দোলন থেকে তোলা এমন ইসলাম বিদ্বেষী দাবির কোন যৌক্তিকতা নেই বলছিলেন মাওলানা মাহফুজুল হক।

মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক। ছবি: সংগৃহীত।

মাওলানা মাহফুজুল হকের ভাষায়, দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম এ দেশটিতে শত সমস্যার মাঝেও মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্ম পালন করে চলেছেন, পরস্পরে সম্প্রীতি ও সদ্ভাব বজায় রেখেছেন। কিন্তু একটা গোষ্ঠী এই সম্প্রীতি ও স্থীতিশীলতা নষ্ট করতে পায়তারা চালায় প্রায় সময়। তাই মাঝেমাঝে এমন উদ্ভট দাবি আবিস্কার করে করতে দেখা যায় তাদের। এসব বন্ধে কঠোর আইন ও আইনের প্রয়োগ অপরিহার্য বলছিলেন মাওলানা মাহফুজুল হক।

এদিকে জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস ও মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডের বাইতুস সালাম জামে মসজিদের খতিব মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী ইসলাম টাইমসকে বলছেন, ওয়াজ মাহফিল থেকে ধর্ষণ উস্কে দেওয়া হয় এদাবি শুধু অবান্তরই নয়, বরং এধরণের দাবি দিনকে রাত বানিয়ে দেওয়ার শামিল এবং বাম ছাত্র সংগঠন ও নারীবাদীদের এই দাবিকে তিনি দুরভিসন্ধি হিসেবেই ব্যাখ্যা করতে চান।

তার ভাষায়,  শুধু ধর্ষণ নয়, সব ধরণের অনৈতিকতার বিরুদ্ধে মানুষকে সজাগ করার প্লাটফর্ম দেশের ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় মঞ্চগুলো।

চোর চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে জনতার হাতে মার খাওয়ার আগ মুহূর্তে চোর চোর স্লোগান দিয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপানো নিয়ে ‘কাল্লু চোরা’ নামে সমাজে যে গল্প প্রচলিত আছে, তার দিকে ঈঙ্গিত করে মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী বলেন, ওয়াজ মাহফিল থেকে ধর্ষণ উস্কে দেওয়া হয় এমন দাবি জানানো আন্দোলনকারীরাও নিজের দোষ ঢাকতে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস ও ধর্মীয় ঐহিত্যের প্লাটফর্ম ওয়াজ মাহফিলের দিকে আঙ্গুল তুলতে চায়।

জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস, মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী। ছবি: সংগৃহীত।

তিনি বলেন, ইসলামের সূচনাকাল থেকেই উতবা, শায়বা, আবু জাহেলরা ইসলাম বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে এসেছে। যুগেযুগে তাদের দোসররাও করেছে একই কাজ, কিন্তু সবশেষে ইতিহাসের আস্তাকুড়েই নিক্ষিপ্ত হয়েছে তারা। তাই এইসব বামদের লম্ফঝম্ফও কোন কাজে আসবে না, এবং তাদের এসব দাবি পাগলের প্রলাপ ছাড়া কিছু নয় বলছিলেন জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী।