ছেলেটি এখন কোথায় যাবে?

প্রতিকী ছবি

মুকিম আহমদ ।। – মালয়েশিয়া থেকে

মানুষের জীবনের গল্প বলতে শুধু গল্প উপন্যাসে পড়তাম। বিদেশ বিভূঁইয়ে জীবনে গল্প-উপন্যাসের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি। মানুষের জীবনের এত রঙ! বর্ণিল অথবা বিবর্ণ।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় ধাপে করোনার সংক্রমণের টের পাচ্ছি। বুকটা দুরু দুরু করে, আবার হয়তো একটা দীর্ঘ বিরতি, একটা বিরহী বিশ্রাম! সন্ধ্যায় ঘোষণা এলো নেগেরি সেলাঙ্গরেও পিকেপিবি( কন্ডিশনাল লকডাউন) কার্যকর হচ্ছে। স্কুল – কলেজ, সব ধরনের ছাত্রাবাস, তাহফীজ( হেফজ খানা) শুধু বন্ধ না, কোন ধরনের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।

সালামের পর জায়নামাজে বসেই ছাত্রদের সীমাহীন আনন্দের (?) সংবাদটা জানাতে প্রস্তুতি নিলাম। শুকনো মুখগুলো একনজর বুলিয়ে নিলাম, আহা কী নিদারুণ চাপ-ক্লিষ্ট চেহারাগুলো! আমি কষ্টটা লুকিয়ে ঘোষণাটা দিলাম, ছাত্ররা আবার দ্বিগুণ সুখ না পেয়ে যায়।

আমি তাদের বললাম- ‘esok semua kena balik, cuti!!! cuti!!! Satu orang pun tidak dibenarkan tinggal di asrama!!!’( মালাই ভাষায় ছুটির ঘোষণা)

মুহূর্তেই শুকনো, ক্লান্ত মুখগুলো সজীব সতেজ হয়ে গেলো। চাপা উল্লাস আর উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়লো!
সবার পিছনে বসা একটি ছেলেই কেবল এখনও বিষণ্ণ হয়ে আছে। মাথা উঁচু করে জানতে চাইল, উস্তায! একজন কি থাকতে পারবে? না, সবাইকে বাড়ি ফিরতে হবে।

অবাক হলাম ওর ঘরে ফিরতে অনীহা কেন? একাকী কাছে ডেকে জিজ্ঞাসা করলাম। কেন থাকতে চাও?”

ছেলেটি উত্তর দিল, বাসায় সমস্যা। মা আসক্ত, বাবার সংসারে নতুন মা। বাবার পরিবারে অশান্তি হয় আমি থাকলে, মায়েরও থাকার জায়গা নেই, মা তার বোনের সংসারে থাকেন, আমি গেলে উটকো ঝামেলা জুটে তাদের। ”

আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম তাদের সাথে কথা বলবো। কিশোর বয়সী ছেলেটির মাকে মেসেজ করলাম, তিনি জানালেন “ছেলের বাবাকে বলেন”। ছেলের বাবাকে মেসেজ করলাম। তিনি আইসোলেটেড, বললেন ” ওর মাকে বলেন নিয়ে যেতে”। আমি ছেলেটির দিকে তাকালাম। খুব স্বাভাবিক। একটু যেন খুশীও। এইবার বাড়ি ফিরতে হবে না। জিজ্ঞাসা করলাম তাদের জন্য কি খারাপ লাগে? খুব ক্ষীণ স্বরে বলল ” না “। আজ চারদিন হলো উস্তাজের কাছেই আছে। কী নির্মম! একটি বারের জন্যও তার খবর কেউ নেয় নি। কিন্তু সে অনেক খুশী।

বিজ্ঞাপন