ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পাঞ্জাবে বিরোধী জোটের সমাবেশ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ইমরান খান সরকারকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত করার অঙ্গীকার করেছে দেশটির ১১ দলীয় বিরোধী জোট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম)।

পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালাবাগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত সমাবেশে মরিয়ম নেওয়াজ, বিলওয়াল ভুট্টো-জারদারিসহ পিডিএম’র নেতৃবৃন্দ ‘সেনা সমর্থিত ও অক্ষম’ ইমরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আন্দোলনের ডাক দেন। এটাকে জনগণের দাবি বলে উল্লেখ করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

পিডিএম’র প্রথম এই বিশাল সমাবেশে মরিয়ম, বিলওয়াল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ফজলুর রহমান, মাহমুদ আসাকজাইসহ আরও অনেক নেতা। এই সমাবেশে কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকদের পাশাপাশি নজর ছিল বিদেশিদের।

আগেই ধারণা করা হচ্ছিল, এই সমাবেশের মাধ্যমে পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজের শক্তি প্রদর্শিত করানো হবে। কেননা গুজরানওয়ালা দলটির শক্ত ঘাঁটি। সত্যি বলতে, লন্ডনে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের নির্দেশনাতেই অনুষ্ঠিত হয় এই সমাবেশ।

জিন্নাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে পর্যাপ্ত জনসমাগম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যমন্ত্রী শিবলি ফরাজ। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে লোকারণ্যে স্টেডিয়ামটিতে তিল ধরানোর জায়গা ছিল না।

ইমরান খানের সমালোচনা করে মরিয়ম বলেন, “ইমরান নিয়াজি…আপনি আপনার মতো করে সরে দাঁড়ান, অন্যথায় জনগণ আপনাকে ছুড়ে ফেলে দেবে। তখন কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে আপনার আশ্রয় মিলবে না।”

ইমরান খানের একহাত দিয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলওয়াল ভুট্টো বলেন, প্রধানমন্ত্রী কাশ্মির ইস্যুতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেনই, উপরন্তু এই ভূখণ্ডকে মোদির কাছে বিক্রি করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

“পুতুল ও সেনা নির্বাচিত নিয়াজি (ইমরান খান নিয়াজি) আপনি চুপ থাকুন। তবে কাশ্মির ইস্যুতে আমরা চুপ থাকব না।”

ইমরানের ‘ভুয়া’ সরকারকে আগামী কিছুদিনের মধ্যে তার ভাগ্যবরণ করতে হবে বলে জানান মাওলানা ফজলুর রহমান- “আসছে দিনগুলোতে ভুয়া শাসকদের তাদের ভাগ্য মিটিয়ে দেওয়া হবে। আল্লাহ চাইলে, ডিসেম্বর নাগাদ এই সরকারকে দেখা যাবে না।”

‘আটা চিনি চোর নিয়াজি, গো নিয়াজি, গো নিয়াজি’।  এই সমাবেশে এমনই স্লোগান উঠে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। পিটিআই সরকারকে উৎখাত করতে জোটবদ্ধ আন্দোলেন নেমেছে বিরোধী দলগুলি। পিপিপি-র দাবি কয়েক লক্ষ মানুষ এসেছিলেন। ফেসবুক লাইভে একই দাবিতে সরব হন নওয়াজ শরিফ।

নওয়াজের মুখপাত্র মহম্মদ জ়ুবের দাবি করেন, নওয়াজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এই পুতুল সরকারকে বসানো হয়েছিল। জিন্না স্টেডিয়ামে ৭০ শতাংশই তরুণ প্রজন্মের। শুধু বক্তৃতাই নয়, গানে-গানে গোটা স্টেডিয়াম সরব হয় ‘ভোট কো ইজ্জত দো’ দাবিতে। আক্ষরিক অর্থেই জলসার চেহারা নেয় সমাবেশ।

বিজ্ঞাপন