‘ব্যাগওয়ার্ম’: কুদরতি ইঞ্জিনিয়ার!

নূরুদ্দীন আজিম ।।

প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে আছে আল্লাহ পাকের এমন সব নিদর্শন যা রীতিমতো মানুষকে হতবাক করে দেয়। বুদ্ধিমান মানবের নির্মাণ যেন ম্লান হয়ে যায় তুচ্ছ কীটপতঙ্গের প্রকৌশলের কাছে। এমনই এক নিপুণ কারিগর হলো ‘ব্যাগওয়ার্ম’।

বিজ্ঞাপন

পৃথিবীতে রয়েছে হাজারও পোকামাকড়। যারা আত্মরক্ষার্থে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। ব্যাগওয়ার্ম এক অদ্ভুত প্রজাতির পোকা, যারা কেবিন সদৃশ ঘর বানিয়ে বসবাস করে। সেই ঘরসহই পায়ে ভর করে চলাফেরাও করতে পারে। ব্যাগওয়ার্মকে ‘‘কুদরতি ইঞ্জিনিয়ার’’ বললেও মনে হয় ভুল হবে না। এরা ঘাস, পাতা, খড়কুটো আর কাঠের টুকরো এক করে নিজের চারপাশে এনে খোলস তৈরী করে, যা দেখতে ভীষণ সুন্দর; মনে হয় যেন কাঠের তৈরী ঘর বা ঘাসের তৈরী দুর্গ।

এদের দেহ থেকে রেশমের মতো এক প্রকার আঠা নির্গত হয়। যা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস জোড়া লাগিয়ে এরা বাসস্থান তৈরী করার মাধ্যমে আশপাশের হিংস্র প্রাণীদের খাদ্যে পরিণত হওয়া থেকে আত্মরক্ষা করে থাকে।

বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত ৪২ প্রজাতির ব্যাগওয়ার্মের সন্ধান পেয়েছেন। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, প্রত্যেক প্রজাতিই নতুন আঙ্গিকে ঘর তৈরী করে। এক ঘর থেকে অপর ঘরের নৈপুণ্য সম্পূর্ণ আলাদা এবং দেখতে অসাধারণ।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, এরা কোনো ঘরে স্থায়ীভাবে বসবাস করে না। মন চাইলে বাসা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমায়। নিজের এই ভারী ঘরসহ এরা চলাফেরা করে। বিপদ টের পেলেই স্থির হয়ে পড়ে থাকে। পাথরে, গাছে, বিভিন্ন দেওয়ালে এভাবেই এদেরকে লেপ্টে থাকতে দেখা যায়। শংকা কেটে গেলে কাঠের ঘর থেকে মাথা বের করে সামনে অগ্রসর হয়। চলতি পথে যা পায় নিজের ঘরে সংযুক্ত করে নেয়। সুবহানাল্লাহ!

ব্যগওয়ার্ম খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে এবং গাছপালার বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করে। মাদী ব্যাগওয়ার্মের ডানা থাকে না। নরের সাথে মিলনের পর ডিম পেড়েই মাদীর মৃত্যু হয়। এভাবে ডিম থেকে এদের বংশবিস্তার ঘটে।

বিজ্ঞাপন