‘জাতীয় দ্বীনী নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আমরা আরো ভেবে দেখতে পারি’

(গত ২৯ মুহাররম ১৪৪২ হি. মোতাবেক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঈ. তারিখে ইন্তেকাল করেন দেশের শ্রদ্ধাভাজন শীর্ষ আলেমে দ্বীন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমীর, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ ও আল হাইয়াতুল উলইয়ার প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার সাবেক সদরে মুহতামিম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.। হযরতের বর্ণাঢ্য জীবনের নানান দিক নিয়ে ইসলাম টাইমসকে স্মৃতিচারণমূলক সাক্ষাতকার দিয়েছেন তারই ছাত্র, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকার রঈস, মাসিক আলকাউসারের সম্পাদক, ফেইথ মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ার‌ম্যান এবং ইসলাম টাইমসের প্রকাশক মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ। সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

এটি সাক্ষাতকারের ২য় পর্ব। প্রথম পর্বে হযরতের জীবনের শেষ বছরগুলো নিয়ে স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন বিশ্লেষণ এসেছে। আর এই ২য় পর্বে হযরতের ইন্তেকালের পূর্বে শেষ সময়ের কিছু বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। প্রথম পর্বটি পড়ুন: ‘হুযুরের জীবনের শেষ বছরগুলো নিয়ে লম্বা গবেষণা হতে পারে’ ।)

বিজ্ঞাপন

২য় পর্ব।।

ইসলাম টাইমস : হযরত আহমদ শফী সাহেব হুযুর রহ.-এর জীবনের শেষ দু-তিন দিনের বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: প্রত্যেকেরই তো মৃত্যু পূর্ব নির্ধারিত। মুমিন মাত্রই আমরা এটা বিশ্বাস করি। আল্লাহ তাআলা হুযুরকে দীর্ঘ হায়াত দিয়েছেন। হুযুর দ্বীনী অনেক খেদমত করে গেছেন। আল্লাহ তাআলা সুযোগ করে দিয়েছেন। হুযুুরেরও সময় এসে গিয়েছিল। কিন্তু সময় যখন এসে গেছে, তার দুয়েকদিন আগে তার প্রতিষ্ঠানে বিয়োগান্তক ঘটনা ঘটেছে। সবাই বিষয়টি জানেন। সেখানে হুযুর তার ছেলেকে মাদরাসা থেকে বাদ দিয়েছেন। নিজে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। এটাকে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করবে। আমি এটাকে ইতিবাচক মূল্যায়ন করি। আমি হুযুরের একজন নগন্য ছাত্র হিসেবে মনে করি, এটা হুযুরের ইতিবাচক দিক। আল্লাহ তাআলা হুযুরকে সুযোগ করে দিয়েছেন। হুযুর এই ইস্তেফা না দিলেও হুযুরের আজাল নির্ধারিত ছিল। হুযুরের ইন্তেকাল তো হয়ে যেত। আমরা তো মুমিন হিসেবে এটাই বিশ্বাস করি যে, হুযুর ঐদিনেই চলে যেতেন দুনিয়া থেকে। দেখুন, কে কী কারণে করেছে, বিক্ষোভ কেন হয়েছে, সব বিস্তারিত আমরা ঢাকা বসে জানিও না। সে প্রসঙ্গে যেতেও চাই না।

কিন্তু আমি মনে করি, কয়েক বছর থেকে হাটহাজারী, বেফাক কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রসঙ্গে হুযুরকে নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন হয়েছে। হাটহাজারীতে হুযুরের পরবর্তীতে হুযুরের নিকটজনেরা হাটহাজারী দখল করে ফেলবে, এইসব কথাবার্তা হয়েছে। কিন্তু হুযুর হসপিটালে যাওয়ার আগে আমরা তো খবর পেয়েছি, হুযুর স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ হয়ত বলবে, হুযুর চাপে পড়ে ছেড়েছেন। ধরে নিলাম, হুযুর চাপে পড়ে ছেড়েছেন, কিন্তু হুযুর যে দায়িত্ব ছেড়ে গেলেন, এটাকে আমি দুদিক থেকেই ইতিবাচক দেখছি। প্রথমত, যখন ওখানে বিক্ষোভ হয় আমরা শুনেছি যে, মাদরাসার বাইরে সরকারি আইন-শৃংখলা বাহিনীর লোকজন ছিল, সরকার আবার মাদরাসা বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছিল, সেখানে একটা রক্তক্ষয়ী অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। কিন্তু হুযুর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কারণে ঐ পরিস্থিতিতে একেবারেই পানি পড়ে গেছে, কিচ্ছু হয়নি। আমরা তো মনে করি, হুযুর দায়িত্ব সচেতন হিসেবেই এ কাজটা করেছেন। হুযুর যদি চাইতেন, ঐ বিক্ষোভের চাপে পড়েও তো দায়িত্ব না ছাড়তে পারতেন। চুপ করেও তো থাকতে পারতেন তখন পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশংকা তো ছিল। দৃশ্যত, হুযুর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কারণে ওসব আর হয়নি।

এরচে বড় যে দ্বিতীয় বিষয়টি আমি মনে করি, হুযুর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে গেছেন। আগে অনেকে হুযুরকে নিয়ে বিরূপ কথা বলেছে, নানা কথা প্রচারও হয়েছে, হাটহাজারী মাদরাসা কেন্দ্রিক, হুযুরের এক ছেলেকে নিয়ে কথা হয়েছে। এরপর হুযুরের সাক্ষরেই হুযুরের ছেলেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এটার কারণে হুযুরের ব্যাপারে যেই বিরূপ অবস্থাগুলো তৈরি হয়েছিল ওগুলোর মধ্যে পানি পড়ে গেছে। একারণে আমরা দেখেছি যে, হুযুরের জানাযায় আবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে সকল শ্রেণির লোকেরাই সমানভাবে গিয়েছে। তো এটা হুযুরের ইন্তেকালের একদিন আগে হুযুরের গ্রহণযোগ্যতা আবার আগের মতো ব্যাপকভাবে ফিরে আসার সুযোগ হয়েছে হুযুরের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াতে। এজন্য আমি এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। যে যেভাবেই দেখুক।

জীবনের শেষ দু’তিন দিন একটা উত্তাল অবস্থা গিয়েছে। কিন্তু হুযুরের ইন্তেকালের পর থেকে হুযুরের সমালোচক আর কোনো মানুষ পাওয়া যায়নি। এটার কারণও এটা যে, সাফ হয়ে যাওয়া। হুযুর দায়িত্ব ছেড়ে না দিলে ধাক্কাধাক্কি, ইখতেলাফ থেকে যেত। হাটহাজারী মাদরাসা কেন্দ্রিক একটা ঝামেলা তৈরি হতে পারত। সবকিছুই সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়েছে।

ইসলাম টাইমস: আপনি বলেছেন, বয়স্ক মুরুব্বিদেরকে বড় বড় যিম্মাদারিগুলো না দিতে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, মুরুব্বিদেরকে না দিলে এসব বড় বড় দায়িত্ব তাহলে কাকে দিবে?

মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: এ বিষয়ে আসলে কিছু চিন্তা-ভাবনা তো সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকে, ওগুলো আমরা সাধারণত বলি না, বলতেও চাই না। এটার জন্য যার যার ফোরাম আছে। তারাই সেগুলো চিন্তা করবেন। যেহেতু কথা উঠেই গেছে, আমার নিজস্ব চিন্তা একজন কওমী মাদরাসা পড়ুয়া লোক হিসেবে বলে দিচ্ছি। তবে এটা মারকাযুদ দাওয়াহর মশওয়ারা বা মারকাযের প্রাতিষ্ঠানিক চিন্তা নয়। আমার ব্যক্তিগত মতামত।

আমি মনে করি, আমাদের ভাবা উচিত এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিগুলো কেন বারবার হয়? আমি এর আগেও আলকাউসারে লিখেছি, আমাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্বগণ, আমাদের মুরুব্বিরা যারা আমাদের জন্য, দ্বীনের জন্য এদেশে অনেক অবদান রেখে গেছেন, তাদেরকে কেন শেষ মুহূর্তে আমরা বিতর্কিত করি! তারা বিতর্কিত কেন হন? এর পেছনে খোঁজ করলেই আমরা দেখব, আমরা তাদের বয়স, তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা না করেই তাদের ওপর অনেক কিছুর দায়িত্ব চাপাই। এখন আমরা দেখতে পাই যে, শিক্ষাবোর্ডের প্রধান হতে হলে বয়স্ক ও মুরুব্বি হতে হবে- এই ধারণাটা কওমী মাদরাসা বা বাংলাদেশের কওমী মাদরাসা ছাড়া আর কোথাও আছে কিনা আমি জানি না। শিক্ষাবোর্ড তো দুনিয়াতে অনেক আছে। আমাদের দেশের শিক্ষাবোর্ডগুলোর কথা ধরি। ঢাকা বোর্ড, চট্টগ্রাম বোর্ড- আপনি একেকটার ওয়েবসাইট খুলে যদি দেখেন যে, সেখানে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ষাট বছরের ওপরের লোক হয়ত আপনি পাবেন না। পঞ্চাশ, পঞ্চান্ন, আটান্ন এরকম বয়সের অধ্যাপকরা সেখানে দায়িত্বরত। কেউ কোনো জায়গার অধ্যাপক ছিলেন, পরে তাকে ওখান থেকে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

শিক্ষাবোর্ডের প্রধান বা চেয়ারম্যান পদের জন্য একেবারে বয়স্ক কাউকে নিয়োগ দিতে হবে, এটার আবশ্যকীয়তা আমরা বানিয়ে ফেলেছি। আমি পড়ে দেখিনি, হয়তো আমাদের বেফাকের গঠনতন্ত্রেও এমন কিছু লেখা নেই। কিন্তু এভাবে করা একটা ঐতিহ্য হয়েছে। এটাতে দোষের কিছু নেই। এটা ভালো, যদি ঐ মুরুব্বি সেটা তাহাম্মুল করতে পারেন। আমরা আমলিভাবে দেখেছি এটা মুশকিল হয়। পরনির্ভরশীল হতে হয় মুরুব্বিকে। অন্যদেরকে দিয়ে করাতে হয়। ফলে অন্য যাদেরকে দিয়ে আপনি নিজের কাজ করাবেন, ঐ সহায়ক-সহযোগীদের দক্ষতা ও সততা দুটোরই একত্রে প্রয়োজন হবে আপনার কামিয়াবির জন্য। এখন দক্ষতা ও সততার এ গ্যারান্টি কে দেবে? আপনি বড় ব্যক্তিত্বকে দিলেন, তার ওপর আস্থা রেখেছেন। অন্যদেরটা কে দেখবে? ফলে এ ঝামেলাগুলো সৃষ্টি হয়।

আমার ব্যক্তিগত চিন্তা হলো, এসব ক্ষেত্রে নীতিটা এমন হওয়া উচিত, -আমি জানি না, ওখানে গঠনতন্ত্রে কী লেখা আছে- চেয়ারম্যানের পদটা গঠনতান্ত্রিক পদ হোক- রাষ্ট্রে যেভাবে বলা হয় সাংবিধানিক প্রধান, বেশি বয়স্ক মুরুব্বিকে দিলে দিক। এ পদটা হবে অনেকটা অলংকারিক পদ। আমাদের দেশের প্রেসিডেন্টের মতো। চেয়ারম্যান সাহেব বোর্ডের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি থাকবেন। বোর্ডের বড় বড় সভাগুলোতে তিনি সভাপতিত্ব করবেন। কিন্তু সিদ্ধান্তগুলো হবে শূরা ও পরামর্শের ভিত্তিতে। যোগ্য পরামর্শকদের অধিকাংশের রায়ের ভিত্তিতে। সেখানে সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী যে ফোরাম থাকবে তাতে যোগ্য ও দক্ষ লোকদেরকে রাখতে হবে। এটা আমি মনে করি না যে, দেশের কওমী আলেমদের মধ্যে এরকম যোগ্য লোকের অভাব আছে। বেফাকের সাথে জড়িত অনেক মাদারিসেই এরকম অনেক লোক পাওয়া যাবে। অনেক আলেমকেই পাওয়া যাবে।

আমরা ঐ চিন্তা থেকেও বের হয়ে আসি যে, সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে শুধু মাদরাসাগুলোর মুহতামিমকে নিতে হবে। শুধু মুহতামিম কেন, বেফাকভুক্ত মাদারিসগুলোর মধ্যে দক্ষ, মেধাবী ও প্রতিভাবান এমন অনেক আলেম আছেন। শরীয়তের ভাষা হচ্ছে আহলুল হল্লি ওয়ালআকদ। শরীয়তের ভাষায় শূরার ব্যক্তিরা হবে আহলুল হল্লি ওয়ালআকদ। তো আহলুল হল্লি ওয়ালআকদ মানে হলো, যে গিরা দিতে পারে, যে খুলতে পারে। অর্থাৎ যারা জটিল-জটিল বিষয়গুলোর সমাধান দিতে পারেন। এমন বুদ্ধি ও যোগ্যতা যাদের রয়েছে। এখন আমরা বেফাকের মধ্যে মুহতামিম নির্ভর করে ফেলার কারণে যে অসুবিধাটা হয় সেটা হলো, এক তো মুহতামিমরা এমনিই তো তাদের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাদেরকে বেফাকে বারবার ডাকাডাকি করলে তাদেরও নিজেদের মাদরাসার সমস্যা হয়। দ্বিতীয়ত মুহতামিম মাদরাসার ইন্তেযামী কাজের জন্য ফিট। কিন্তু বেফাক একটা জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের কাজে পরামর্শ দেওয়ার জন্য এমনও হতে পারে যে, এই মুহতামিমের মাদরাসাতে আরেকজন যোগ্য আলেম আছেন যিনি হয়ত তার থেকেও বেশি উপযুক্ত। তো সেটাকে কিন্তু আমলীভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। ওরকম লোকদের খেদমতও বেফাক নিতে পারে।

যাইহোক, আমরা গোড়াতে ফেরত যাই। আমরা মনে করি, বোর্ডের সভাপতির পদটা দস্তুরি বা গঠনতান্ত্রিক পদ হোক- চেয়ারম্যান পদ অবশ্যই সম্মানিত পদ। কিন্তু তার একক ক্ষমতা অনেক বেশি থাকবে না এবং ক্ষমতাটা একচ্ছত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হবে না। ক্ষমতাটা নিয়ন্ত্রিত হবে শূরার মাধ্যমে, আহলুল হল্লি ওয়ালআকদের মাধ্যমে। তারা রায় দিবেন। এবং তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের ভিত্তিতে তিনি ফায়সালা করবেন।

আমার দ্বিতীয় আরেকটা চিন্তা হলো, কেউ বলতে পারে, এ পদে তাহলে কাকে বানাবে। এটা নিয়ে ইখতেলাফ হয়ে যেতে পারে। ঝামেলা তৈরি হতে পারে। আমার চিন্তাটা এরকম যে, চেয়ারম্যান পদটা বেশি বছর মেয়াদী না হয়ে একবছর/ছয়মাস মেয়াদী হতে পারে। এক বছর মেয়াদী যদি হয়, তাহলে বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক বিভাগেই বেফাকের মাদারিস আছে। বিভাগগুলোতে ভাগ করে করে দেওয়া যেতে পারে। যেসব বিভাগে মাদারিস বেশি সেসব বিভাগে দুই মেয়াদে সভাপতি পাবে। যেসব বিভাগে মাদারিস কম সেসব বিভাগে এক মেয়াদে সভাপতি পাবে। ঘুরে ঘুরে আসবে। ঐ বিভাগের বেফাকভুক্ত মাদারিসগুলো ঠিক করবে যে, তাদের বিভাগে কে সভাপতি হবেন।

এভাবে করলে বিতর্কগুলো কমে আসবে। এককেন্দ্রিক ক্ষমতা থাকবে না। আর ঐ যে ঝামেলাগুলো তৈরি হয়, একজনের ওপর কাজের চাপ বেশি আসে অথবা অনাস্থা তৈরি হয়, আশপাশের লোকেরা মুরুব্বিদের ভুল বুঝিয়ে গলদ সুবিধাগুলো ভোগ করে, এই ঝামেলাগুলো কমবে বলে আমার ধারণা।

আর যদি বলেন বেফাকের সেক্রেটারি বা মহাসচিবের কথা। তো সচিব হলেন কোম্পানির সি ই ওর মতো। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন তিনি। এক্ষেত্রে আমি যেটা ভাবি যে, যিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সচিব হবেন, তিনি সার্বক্ষণিক ও আবাসিক যিম্মাদার হবেন। বেফাক তার সামর্থ অনুযায়ী তাকে সার্বিক সুবিধা দেবেন। তার বাসা, তার যাবতীয় খরচাদি দিয়ে তাকে রাখবেন। তিনি এটাকে দ্বীনের আহাম খেদমত হিসেবে গ্রহণ করবেন। এটা দ্বীনের বড় খেদমত। কারণ মাদারিসগুলোর পরিচালনা বোর্ডের উনি কার্যকরী প্রধান হয়েছেন, এটাকে উনি নিবেন খেদমত হিসেবে। উনি যদি কোনো মাদরাসার মুহতামিম থাকেন, দ্বীনের অন্য কোনো খেদমতের সাথে জড়িত থাকেন, তবে সেগুলো অন্যকে দিয়ে তিনি শুধু বোর্ডের কাজে মনোনিবেশ করবেন। মসজিদের খতিব হওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ উনার থাকবে না। ইমামতিও নিবেন না।

বেফাকের মূল দায়িত্বশীল ব্যক্তি যিনি মহাসচিব হবেন তিনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের লোক না হন, তাহলে অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু প্রশ্ন উঠবে না। অনাকাক্সিক্ষত অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন মানে কী? কোনো সময় পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে, নাম্বার শিট নিয়ে, কোনো সময় ছাত্র নিয়ে, প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বিভিন্ন ধরনের কথা উঠতে শোনা যায়। এগুলোর সত্যমিথ্যা আমরা জানি না। এসব প্রশ্ন এক্ষেত্রে উঠবে না। এর অনেক সুবিধা আছে। আমাদের এ বোর্ডকে তুলনা করা উচিত অন্যান্য বোর্ডের সাথে।

আমাদের দেশের অন্যান্য বোর্ড কিভাবে চলে, বাইরের দেশেরগুলোতে কিভাবে চলে, সেভাবে চিন্তা করলে এবং আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, আমাদের দেশে যে হালতগুলো বারবার তৈরি হয়, আমরা হোঁচট খাই, সেগুলো থেকে যদি আমরা শিক্ষা নেই এবং নতুনভাবে আমরা চিন্তা করি, তাহলে নিশ্চয়ই রাস্তা বের হবে। এবং এগুলো থেকে বের হয়ে আসার সম্ভব হবে। সমস্যাটা হলো, একবার আমরা হোঁচট খাই। এরপর আবার আগের মতোই শুরু করি। শুরু করবার সময় পূর্বের হোঁচটের কথা আর মনে রাখি না। এরপর আবার যখন হোঁচট খাওয়ার সময় আসে, তখন হয়ত মনে হয়ে যায়।

যাইহোক, এটা হলো একজন ব্যক্তির চিন্তা। আমরা শুনেছি, ইতিমধ্যেই বেফাকে এডহকভিত্তিতে নতুন  দায়িত্বশীলরা এসেছেন। আমরা উনাদের সার্বিক সাফল্য কামনা করি। উনাদের জন্য দোআ করি। উনারা দক্ষতার সাথে চালাবেন। যেসমস্ত সংকট ও সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছিল, সেগুলো কেটে যাবে, আমাদের মতো নিশ্চয়ই পুরো আলেম সমাজ ও দ্বীনদার সমাজের একই প্রত্যাশা রয়েছে।

আর মারকাযুদ দাওয়াহ তো বেফাকভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে বেফাকের জামাতগুলোও নেই। তবুও জাতীয় দ্বীনী ও ইলমী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেফাকে নেতিবাচক কিছু হলে অন্যদের মতো আমাদেরকেও ভাবায়। এ চিন্তা থেকেই দু’চার কথা বলা।

ইসলাম টাইমস: বেফাক তাহলে কারা পরিচালনা করলে ভালো হবে বলে মনে করেন?

মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: আমাকে তো আরো এক সপ্তাহ আগে এ কথাগুলো বলতে বলা হয়েছে- এটা তখনকার কথা। এখন যারা দায়িত্বশীল আছেন তারা তো চালাবেনই। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র ও নিয়মনীতিগুলো আরো সাজানো যায় কিনা, আরো সুন্দর করা যায় কিনা এই ফিকির সারা জীবনই চলতে পারে। আমি মূলনীতি নিয়ে কথা বলছি, ব্যক্তি নিয়ে কথা বলছি না। এখন যারা ব্যক্তি আছেন তাদের সাফল্য কামনা করি। তারা ভালোভাবে চালাক, বেফাক তাদের হাতে আরো সুন্দরভাবে পরিচালিত হোক, এটা আমরা চাই। আমরা একটা কথাই বলব, যে সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত কথা আগে শোনা গিয়েছিল তা যেন আর শোনা না যায়। আমরা ঘুরেফিরে এক কথাই বলব যে, এককেন্দ্রিক ক্ষমতা করা, একজন ব্যক্তির হাতে সবকিছু চলে যাওয়া, এই পথ বন্ধ করতে হবে। এধরনের কথা শোনা যাওয়া যে, এটাকে হুযুর দিয়ে দিয়েছেন, অমুককে হুযুর দিয়ে দিয়েছেন, বসিয়ে দিয়েছেন এমন যেন না হয়। এধরনের কথা বোর্ডের ব্যাপারে সুন্দর শোনায় না। নিয়োগ দিবে শূরা, নিয়োগ দিবে মজলিস। ব্যক্তির দিকে নিসবত তৈরি করলে এটা ব্যক্তির প্রভাব বাড়ায়। আর অন্যদিক থেকে অনাস্থা-অবিশ্বাস তৈরি করে। এটা না হওয়া উচিত। এটা দক্ষতার সাথে এখনকার লোকেরা মোকাবেলা করবেন বলে আশা করতে চাই।

ইসলাম টাইমস: একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন, ছাত্ররা যখন নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন সংকট দেখে এবং এ ধরনের ঝামেলাগুলো ছাত্ররা অনুভব করে তখন কেউ কেউ আন্দোলন, প্রতিবাদের পথ অবলম্বন করে, সোশাল মিডিয়ায় নেতিবাচক চর্চা শুরু হয়, এক্ষেত্রে করণীয় কী? বড়দের সংকটগুলোর ক্ষেত্রে ছোটরা কী করবে?

মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: আগে আমাদের সময় তালিবে ইলমদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে খবর রাখা, নাক গলানো- এগুলোর চিন্তা তেমন একটা ছিল না। কখনো কখনো বড় আপত্তিকর কোনো ঘটনা ঘটে গেলে তখন আন্দোলন হয়েছে তখনও যে বড় কোনো বিক্ষোভ-আন্দোলন একদমই হয়নি এমন না। তখনও দুয়েকটা হয়েছে।

কিন্তু এখন সময় পাল্টে গেছে। এখন আমরা চাই বা না চাই, খবর পৌঁছে যেতে দেরি হয় না। দেখা গেল, কোনো জায়গায় একটা সিদ্ধান্ত হলো, এটা দ্রুত তালিবে ইলমদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। যেহেতু এটা একটা কঠিন বাস্তবতা যে, একটি ফোরামের কাজ ফোরামের বাইরে দ্বিতীয় স্তরেও চাউর হয়ে যাচ্ছে, ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এখন প্রথম দায়িত্ব হলো, দায়িত্বশীলদের আরো সচেতন ও সতর্ক হতে হবে আখেরাতে জবাবদিহিতা ও হালাতের নাযুকতার কারণেও। আমাদের কাজকর্ম ও আমাদের সিদ্ধান্তের মধ্যে নেতিবাচক কিছু যেন না হয়। তালিবে ইলমরা তো শুনবে, তাদের কাছে গেলে এর খারাপ প্রভাব যেন না পড়ে।

আর তালিবে ইলমদের কাছে তো আমাদের আহবান থাকবেই যে, তালিবে ইলমরা তাদের নিজ কাজ করবে। তার কাজ পড়াশোনা করা। সে সেটা করবে। এছাড়া যারা ফোরামের বাইরের লোক, তারা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকবে। হ্যাঁ, কেউ কোনো বিষয়ে মতামত দিতে চাইলে দিতে পারে। সেটাতে কোনো সমস্যা নেই। মতামত দিবে। সে যদি উস্তাদ হয় তাহলে সে দিবে। তালিবে ইলমের মতামত দেওয়ার তেমন কিছু নেই। তালিবে ইলম তো তালিমে ইলম। সে তো পড়ছে। সে তার পড়াশোনায় থাকবে। মতামত দিলে সে তার মুহতামিমকে পৌঁছে দিতে পারে। তার দায়িত্বশীল কাউকে লিখিত দিয়ে আসতে পারে। একটা চিরকুট দিয়ে আসতে পারে। বা বোর্ড সম্পর্কে বললেও বোর্ডে চিঠি পাঠিয়ে দিতে পারে। কিন্তু একটা যে ধারা যা আমরা শুনতে পাই যে, সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রতিবাদের চর্চা করা, বিরূপ চর্চা করা, গালমন্দের কথা আমরা শুনি, বকাঝকার কথা শুনি, দোষত্রুটি চর্চার কথা আমরা শুনি- এটা দুঃখজনক। এটা সংশোধিত হওয়া অবশ্যই উচিত। এর কারণ দুটি।

এক. এটা করে আমরা কী লাভ করছি? এটা তো ইসলামের কোনো পদ্ধতি নয়। কেউ কি দেখাতে পারবে যে, ইসলামে সংশোধনের পদ্ধতি এটা। ইসলামে সংশোধনের জন্য এমন কথা বলেছে যে, চর্চা করতে থাকো। দোষ বলতে থাকো?

দ্বিতীয় কথা হলো, আমরা নিজেদের দোষ-ত্রুটিগুলো অন্যদের হাতে দিয়ে দিচ্ছি। এটা খুবই মারাত্মক। আলেম-ওলামাদের যাদেরকে আমরা যেখানে বসিয়েছি, বা যারা যে দায়িত্বে আছেন- খুব জানা কথা যে, তারা মাসুম ব্যক্তি নন। তাদের থেকে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। ভুল-ভ্রান্তি হওয়াটা উচিত নয়; কিন্তু হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ না করুন, ভুল হয়ে গেলে আমরা কখনোই এটার পক্ষে না যে, ভুলভ্রান্তি বহাল থাকুক, সংশোধন না হোক। অবশ্যই ভুলভ্রান্তি করা থেকে বাঁচতে হবে। যদি হয়ে যায় সংশোধন করতে হবে। এটার প্রতিকার করতে হবে, এটা আপন জায়গায় আবশ্যক। কিন্তু এটার জন্য আমি রাস্তার মধ্যে চিৎকার করতে থাকব। সব লোককে শোনাতে থাকব, পুরো দুনিয়াকে শোনাতে থাকব, আমি সোশাল মিডিয়ায় একটা পোস্ট দিলাম, মন্তব্য বলে দিলাম- তো এটা তো মুহূর্তে পুরো দুনিয়ায় চলে যাবে। আমার ঘরে ঝামেলা হয়েছে এটা পুরো দুনিয়াকে শুনিয়ে দিলাম- এটা কী ধরনের কথা! এটা খুবই খারাপ একটা নজির তৈরি হচ্ছে। একথা শুধু এক্ষেত্রেই না, সব দ্বীনী ক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই আমরা একথা বলব।

এখন একটা রেওয়াজ হয়ে গেছে। বড় আশ্চর্যের বিষয়, একেকজন লাইভে এসে পুরো জাতিকে খেতাব করে ভাষণ দিয়েছেন। ভাবটা এরকম যে, আমি ফেসবুক লাইভে এসে কথা বললেই পুরো বিশ্ব আমার কথা একসাথে শুনছে। পুরো দেশবাসীকে একসাথে দিকনির্দেশনা দিয়ে দিচ্ছে ফেসবুক লাইভে এসে। অভ্যন্তরীণ কোনো ঝামেলা হলেই লাইভে বলে দেওয়া- আমার কোনো ঘরোয়া বিষয় আমি লাইভে বলে দিচ্ছি। আমার প্রতিষ্ঠানের বিষয় আমি লাইভে বলে দিচ্ছি। কারো সাথে মতভেদ হলে তার জবাবও নেটের মাধ্যমে দিতে হবে, ইলমী ইখতেলাফগুলোর চর্চাও করতে হবে সামাজিক মাধ্যমেও- এই মেজাজটা কেন তৈরি হলো! ইসলামী শরীয়তে এই মেজাজটা-এই তরীকাটা কেউ দেখাতে পারবে? আমরা কেন অন্যদের বানানো হাতিয়ারগুলোতে নিজেদেরকে ভাসিয়ে দিচ্ছি। এটা আমাদের আবার ভাবা উচিত।

আলেমদের মধ্যে যারা সমাজচিন্তক আছেন, তাদের কাছেও আহবান থাকবে তারা এসব নিয়ে ভাববেন। চিন্তা করবেন। আামাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বোঝাবেন। আমরা তালিবে ইলমদের প্রতি, নবীণ আলেমদের প্রতি আহবান করব, আমরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত হই। আমরা নিজেদেরকে আগে প্রতিষ্ঠিত করি। সমাজ বদল হবে আমাদের মাধ্যমে। আমরা সমালোচনা করে, অন্যদের পেছনে লেগে থেকে তাদেরকে সোজা করার চিন্তার আগে নিজেরা সোজা হওয়ার চিন্তা করি। আমরা ভালো কিছু করি। নিজেরা কাজ করতে থাকি। আমরা যখন চারদিক থেকে ভালো কিছু করতে থাকব, নবীনরা যখন ভালো কিছু দেখাবে। তালিবে ইলমরা যখন নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করবে, তখন দেখা যাবে সমাজে এবং আমাদের নিজস্ব ফোরামগুলোর অসুবিধাগুলো ধীরে ধীরে তার প্রভাবে ঠিক হয়ে যাবে। আর কোনো দোষত্রুটি আমি দেখে ফেললে সংশ্লিষ্ট ফোরামের সাথে যদি আমার যোগাযোগ থাকে তাহলে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। আমি আমার মন্তব্যটা লিখিতভাবে তাদেরকে জানিয়ে দেব। ফোনে জানিয়ে দেব যে, এখানে এরকম অনিয়ম হচ্ছে। আমরা আম লোকদেরকে না জানাই। এটা তরিকা না।

ইসলাম টাইমস: বাইরে জানানো বা আমলোকদেরকে জানানো- এটা তো অবশ্যই ইসলাহের তরীকা না। কিন্তু কেউ কেউ বলে, যেহেতু এমনিতে ইসলাহ হচ্ছে না, তাই আমরা সোশাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে থাকি।

মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: অর্থাৎ আপনি বলছেন, আমরা অধৈর্য হচ্ছি। তো অধৈর্য হওয়া তো উচিত না।

আমার প্রথম পরামর্শই হলো আন্দোলন করতে হবে- এমন পরিস্থিতিই তৈরি না করা। যারা দায়িত্বশীল আছেন তাদের সতর্ক থাকা। বাকি এরপরও যদি কিছু হয়ে যায়, তো ইসলাম কী শিখিয়েছে? ইসলাম শিখিয়েছে যে, যার কাজ সে করবে। তোমার দায়িত্বে পড়ে কিনা আন্দোলন করা? অথচ তুমি সেটাই করছ। উনার কাজ হলো ঠিক হওয়া, সংশোধিত হওয়া। ফোরামের দায়িত্ব ছিল ওদেরকে সোজা করা। ফোরাম করছে না। তারা দায়িত্ব পালন করেনি। তোমার ওতটুকু কাজ ছিল, তুমি যদি পার তাহলে ওদেরকে জানিয়ে দাও। তুমি জানিয়ে দিলে তোমার দায়িত্ব শেষ হয়েছে। তোমার দায়িত্ব এখানে শেষ হয়েছে। এখন তারা না করলে এটা তাদের দায়িত্ব আদায় করছে না। তোমার হতাশ হওয়ার দরকার নেই। তারা দায়িত্ব আদায় না করে থাকতে পারবে না। এক সময় তারা সেটা করবে। করতে বাধ্য হবে। সময় তো আর এক রকম থাকে না। কেউ কি দুনিয়ার ক্ষমতায় স্থায়ী হয়েছে? তুমি বলেছ, তোমার মতো আরো দশ-বিশজন বলবে। একসময় তারা বাধ্য হয়ে সংশোধন করবে। কিন্তু দ্রুত করার জন্য অনিয়মের মধ্যে যেও না। এতটুকুই আমরা বলতে চাই।

সবশেষে আমি বলব, আল্লাহ তাআলা হযরত আহমদ শফী সাহেব হুযুরকে জান্নাতের আলা মাকাম দান করুন। তার সদকায়ে জারিয়াকে কেয়ামত পর্যন্ত জারি রাখুন এবং হুযুরের রেখে যাওয়া ভালো ভালো কাজগুলো আমাদের অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন- আমীন।

ইসলাম টাইমস: আপনাকে অনেক অনেক শুকরিয়া, জাযাকাল্লাহ, এমন মূল্যবান সাক্ষাতকারের জন্য।

মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: ওয়াইয়্যাকুম, আপনাদেরকেও অনেক শুকরিয়া।

বিজ্ঞাপন