অনলাইনে বিজ্ঞাপন: খ্রিষ্টবাদের প্রচার চলছে কৌশলে!

রায়হান মুহাম্মদ।।

‘যিশুকে কেন হত্যা করা হয়েছিল’, ‘যিশু কেন মারা গেছেন’। ইদানীং বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় দৈনিকগুলোর অনলাইন সংস্করণে এজাতীয় কিছু বিজ্ঞাপন চোখে পড়ছে। এছাড়াও আপত্তিকর ও অশালীন অনেক বিজ্ঞাপন দেখেও হঠাৎ থমকে যেতে হয়! সভ্য জাতি, মুসলিম দেশ, মুসলিম বিনিয়োগ, মুসলিম মালিকানাধীন পত্রিকা, কিন্তু বিজ্ঞাপনের আড়ালে প্রচার হচ্ছে খ্রিষ্টবাদ! ছড়িয়ে পড়ছে অশালীনতা!

বিজ্ঞাপন

অনেকেরই মনে হতে পারে একটা বিজ্ঞাপনই তো, এতে সমস্যার কি? জায়গায় জায়গায় এতো খুঁত ধরার কি আছে?

এটা শুধুমাত্র একটা বিজ্ঞাপন হলে কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু এখানে বিজ্ঞাপনের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্যকিছু। এতে মিশে আছে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ও ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়, আপত্তির কারণ এখানেই।

রাজধানীর মান্ডার দাওয়াহ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মুফতি যোবায়ের বলছেন, খ্রিষ্টানদের স্বাধীনতা আছে তারা তাদের ধর্মের দিকে আহ্বান জানাতে পারবে, বিজ্ঞাপন দিতে পারবে, কিন্তু এসব বিজ্ঞাপনে বলা হয় যিশু মানবতার মুক্তির জন্য মারা গেছেন। যা ইসলামের আকিদা বিশ্বাসের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। খ্রিষ্টানদের এ জাতীয় ধ্যান-ধারণার বিপরীতে তিনি কুরআনের সূরা নিসার ১৫৮ ও ১৫৯ আয়াত তুলে ধরেন, (وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ) (بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ ۚ)।

খ্রিষ্টানদের এজতীয় প্রচারের ফলে ধর্ম সম্পর্কে বিস্তর জানাশোনা নেই এমন মানুষেরা নিজের অজান্তেই বিভ্রান্তিতে পড়ার আশঙ্কা প্রবল বলে জানিয়েছেন মুফতি যোবায়ের।

নামাজ-রোজার বাইরে ধর্মীয় বিষয়ে এদেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষের জানাশোনা যে কম, একথা নতুন করে বলার কিছু নেই। নিজ ধর্মের অনেক বিষয়েই যেখানে মানুষের জানাশোনা একটা গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ, সেখানে অন্য একটি ধর্মের ব্যাপারে শুধু সেই ধর্মের নামগুলো জানা ছাড়া সে ধর্মের বিশ্বাস এবং সে ধর্মের কোন বিষয়টা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এসব সাধারণ মুসলমানদের জানা আছে এমন ধারণা করা যায় না।

অনলাইন বিজ্ঞাপনে খ্রিষ্টবাদের প্রচার- ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত।

আপত্তির মেইন জায়গা এখানেই- একথা স্বতঃসিদ্ধ যে খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্ম প্রচার করে এ জাতীয় বিজ্ঞাপনে কখনই নিজেদের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে না। এমন কথাও শোনা গেছে, ধর্মীয় বিষয়ে একেবারে বেখবরদের খ্রিষ্টবাদে আহ্বানের সময় তারা নিজেদেরও মুসলিম বলে দাবি করে। তাই জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণ ও অনলাইনে থাকা গুগল এডের এই এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের অনেক মুসলমান বিভ্রান্তিতে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  নিজের ও স্বজাতির ইমান রক্ষার্থে এসব অনলাইনের দায়িত্বশীলরা গুগল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বন্ধ করতে পারেন এসব বিজ্ঞাপন। বাড়াতে পারেন নিজস্ব বিজ্ঞাপনের পরিধি।

আরো পড়ুন: খৃস্টান মিশনারির খপ্পরে বস্তির শিশুরা, আলেমদের এগিয়ে আসা সময়ের দাবি

করোনায় অবহেলিত অঞ্চল: মিশনারি ও কাদিয়ানির ফাঁদ থেকে রক্ষায় যা করতে পারেন দায়ীরা

বিজ্ঞাপন