সেই রাতের কথা মনে হলে এখনো আঁতকে ওঠেন কেনান

নুরুদ্দীন তাসলিম।। -বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ঘুরে এসে

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন তল্লার দুর্ঘটনায় দগ্ধ কেনান। সর্বশেষ কিশোর সিফাতসহ বিভিন্ন সময়ে একে একে মারা গেছেন ৩৪জন। মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরা ৩ জনের দুজন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। আইসিইউ থেকে জেনারেল ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে কেনানকে। ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সেদিনের দুর্ঘটনার কথা মনে পড়লে এখনো আঁতকে ওঠেন কেনান। ভুলতে পারেন না মুহূর্তেই জীবন বদলে দেওয়া সেই ঘটনা। এ দুর্ঘটনা যেন আজীবন এক দুঃস্বপ্ন হয়ে বয়ে বেড়াতে হবে তাকে।

সেদিন নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন তিনি। এক পা মসজিদে আরেক পা জুতার উপর। হঠাৎ পেছনে গরম কিছু অনুভব করেন। ফিরে তাকাতেই কিছু বুঝে ওঠার আগে ঝলসে যায় পুরো শরীর। বদলে যায় তার স্বাভাবিক জীবন।

আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডে স্থানান্তর করায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা দেখছেন কেনান। বর্তমানে শরীরে জ্বালপোড়া না করলেও কানে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন।

কিছুতেই ভুলতে পারেন না সেই দুঃসহ স্মৃতি। চোখের সামনে এতোগুলো মানুষ মারা গেল, একটা ভয় সব সময় তাড়া করে ফিরছে। তাই দেখতে আসা মানুষগুলোর আশ্বাস যেন কিছুইতেই আশ্বস্ত করতে পারে না তাকে। সবার দোয়া, আল্লাহ তায়ালার উপরই শেষ ভরসা করতে চান কেনান।

হাসপাতালে কেনানের সাথেই আছেন ছোট ভাই ইমরান। ইমরান বলছিলেন,পটুয়াখালীর রাঙাবালিতে তাদের বাড়ি। গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে থাকতেন তল্লায়। করোনার সাধারণ ছুটির সময় ছেড়েছিলেন ঢাকা। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ছোট ভাই ইমরানকে নিয়ে আবার এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জে। কোন কাজ জোটাতে পারলে তিন বছরের ছেলে ও স্ত্রীকে আনতে চেয়েছিলেন ঢাকায়। কিন্তু তার আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন কেনান।

এদিকে দুর্ঘটনায় মুত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরাদের একজন আমজাদ(৩৯)। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন চারদিন আগে। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জে। ফকির গার্মেন্টসের কাভার্ডভ্যান চালক ছিলেন। বর্তমানে পশ্চিম তল্লা এলাকায় থাকেন। রাইসা (৫) নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে, তার স্ত্রীর নাম তানজিলা আক্তার।

সেদিন রাতে নামাজ শেষে জুতায় ময়লা লাগে। তা পরিস্কার করতে গিয়ে আক্রান্ত হন আমজাদ। সাথে ছিল ভায়রা ইমাম হোসেন ইমরান। ইমরান মারা গেলেও বেঁচে আছেন তিনি। আমজাদের স্ত্রী তানজিলা বলছেন, বন্ধুসুলভ ভায়রা আর দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া মানুষদের কথা মনে করে প্রতি মুহূর্তে বিলাপ করেন আমজাদ।

উল্লেখ্য, তিতাসের গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩৭ জন দগ্ধ হয়েছেন। এরমধ্যে ৩৪ জনই বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। দু্জন চিকিৎসা শেষে বাড়িতে চলে গেছেন। বর্তমানে একজন চিকিৎসাধীন আছেন।

আরো পড়ুন: তল্লার ইমাম মাওলানা আ. মালেক নেসারী র., এক নিভৃতচারী আদর্শ মানবের গল্প

আর ফিরে এলেন না স্বপ্নবাজ তরুণ শেখ ফরিদ, বদলে গেল পরিবারটির গল্প

‘আব্বু বলেছিলেন টাকা হলে মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দিব’

বিজ্ঞাপন