বিলাসবহুল শপিংমলে জীর্ণশীর্ণ নামাজঘর   

মাওলানা শাহাদাত সাকিব ।।

ভেতরে উপচে পড়া ভীড়। মানুষ গিজগিজ করছে। ধামাকা অফারের লোভ শুনে কেউ হয়তো আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি। দলবেঁধে এসেছে শপিং করতে।

বিজ্ঞাপন

দেশের একটা সেরা ব্রান্ডের নিজস্ব মার্কেটে যাওয়া হয়েছিল সেদিন। গিয়েই চোখে পড়ে উপরের দৃশ্যটি। স্মরণকালের বৃহৎ অফার হেঁকেছেন তারা। ফলে মানুষজনও আর লোভ সামলাতে পারেনি। সবাই যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েছে কেনাকাটা করতে।

বিশাল মার্কেট। পুরোটাই নিজেদের ব্রান্ডের পণ্য দিয়ে সাজানো। সবকিছু বেশ গোছানো ও পরিপাটি। সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের আয়োজন চোখে পড়ার মতো। বেশিরভাগই এলিট শ্রেণির লোকদের পদচারণা।

আমাদের কাঙ্ক্ষিত পণ্যের তলায় চলে গেলাম। ঝটপট কাজ সারতে হবে। হাতে বেশি সময় নেই। মাগরিবের সময় ঘনিয়ে এসেছে। পছন্দের পণ্য খুঁজে পেতে বেশ সময় কেটে গেল। কোন ফাঁকে যে সময় গড়িয়ে গেল টেরই পেলাম না। হঠাৎ ঘড়িতে চোখ পড়তেই চক্ষু চড়কগাছ। একি! ঠিক নামাজের সময় চলছে। আযান হয়ে যাওয়ার কথা আরো আগেই। আমি আসলে বোকার মতো এখানে আযান শোনার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু এমন সুরম্য প্রাসাদে যে আযানের ধ্বনি প্রবেশের অধিকার সংরক্ষিত- তা কেন যেন মনে আসেনি।

যাইহোক, দৌড়ে গেলাম নিচে। দ্রুত আমাকে নামাযের জায়গা খুঁজতে হবে। কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল শপিংমলের একদম নিচ তলায় বেইজমেন্টে নামাজের ব্যবস্থা আছে। দ্রুত এগিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখি নামাজের জায়গার গরিবানা হালত। উপরের প্রাসাদোপম ভবনের নিচে যেন করুণা করে দেওয়া হয়েছে একটুখানি জায়গা। জীর্ণশীর্ণ-ফ্যাকাশে দেয়াল। অযত্নে অবহেলিত পুরনো পাটি। পরিষ্কার করা হয় না হয়তো অনেক মাস বা বছর হয়েছে। এখানেই চারজন মুসল্লী নামাজ আদায় করছেন। উপরে উপচে পড়া ভীড়। আর নিচে মাত্র চারজন মুসল্লী!

দেখেই মনটা কেমন ভারি হয়ে ওঠল। নামাজের প্রতি আমাদের কত বড় অবহেলা- এ দৃশ্যই তা বলে দিচ্ছে। কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যিক শপিংমলে কর্তৃপক্ষ চাইলেই নামাজের জন্য উন্নতমানের একটা ব্যবস্থা করতে পারতেন। মানুষ যে অন্তত নামাজ পড়ে- এটা আশা করি তাদের অজানা নয়। তবে দ্বীনের প্রতি অবহেলা ও অমনোযোগিতাই এ করুণ বাস্তবতার জন্য দায়ী।

দুনিয়ার পেছনে পড়ে আমরা ভুলে যাচ্ছি এর ক্ষণস্থায়ীত্বের কথা। পার্থিব রূপ-সৌন্দর্য, জাঁকজমক ও কথিত আভিজাত্যই যেন হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য। আমরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের পরিচয়, আমাদের আসল গন্তব্য।

বিজ্ঞাপন