‘শুধু উচ্চারণ নয়, শিক্ষকের আচরণ থেকেও শিক্ষার্থী আহরণ করেন জীবনের পাথেয়’

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদর্শ জাতি নিমার্ণের কেন্দ্র। তবে মাঝে মাঝে স্কুল-কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের উপর শিক্ষকের নির্মম আচরণের চিত্র দেখা যায়। সম্প্রতি সাভারের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র নির্যাতনের এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশের সচেতন শিক্ষক সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষ।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীর সাথে একজন শিক্ষকের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এব্যাপারে মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়ার উস্তাদ মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ  ইসলাম টাইমসকে বলেন, ‘শিক্ষক আমাদের সমাজে অনুসরণীয়, সমাজ বিনির্মাণে তার অবদান অপরিসীম। শিক্ষার্থীরা শুধু তার উচ্চারণ থেকে কিছু শব্দ শেখেন না, তার আচরণ থেকেও আহরণ করেন নিজেদের ভবিষ্যত জীবনের পাথেয়। তাই ছাত্রের সাথে একজন শিক্ষকের আচরণ মার্জিত ও সৃজনশীল হতে হবে। যেন ভবিষ্যতে ছাত্রের মাঝে শিক্ষক তার প্রতিচ্ছবি দেখতে পান।’

তিনি বলেন, ‘আপনি একজন আদর্শ বাবা হিসেবে নিজের সন্তানের সাথে অন্যের ব্যাপারে যেমন আচরণ আশা করেন, শিক্ষক হিসেবেও অন্যের সন্তান- যে বর্তমানে আপনার ছাত্র, তার সাথেও আপনার তেমনি অমায়িক আচরণ কাম্য।’

মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মানুষের জীবনে অনুকরণীয়, অনুসরণীয় হলো কুরআন-সুন্নাহ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন-আদর্শ। কুরআন-সুন্নাহতে এ ব্যাপারগুলো সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে। বর্তমানে আমরা অন্যান্য বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহকে অনুসরণ করলেও তালিম, তারবিয়াত ও শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ করি না। অনেকেই মনে করে থাকেন, এটা যেন কোন ব্যক্তিগত বিষয়। তাই বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘটে চলেছে অহরহ অপ্রীতিকর ঘটনা ‘

মাওলানার ভাষায়, ‘শিক্ষার প্রয়োজনে শিক্ষক অবশ্যই শাসন করবেন। তবে শাসন তার সঠিক মাত্রায় থাকতে হবে।’

শাসনকে তিনি অনেকটা ওষুধের সাথে তুলনা করে বলেন, ‘অসুস্থ রোগীর সুস্থতার জন্য ওষুধ প্রয়োগ করা হয় পরিমিত মাত্রায়। মাত্রা ছাড়ালে অবশ্যই তা রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ডাক্তারের অবহেলা প্রকাশ পেলে তাকেও দাঁড়াতে হয় বিচারের কাঠগড়ায়। একজন শিক্ষক ও তার ছাত্রকে প্রয়োজনে শাসন করবেন; কিন্তু শাসনের নামে নির্যাতন কোনভাবেই কাম্য নয়।’

বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাসনের নামে যেভাবে নির্যাতন চলছে এতে শিক্ষার্থীর জীবনে অনেক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে মারকাযুদ্দাওয়ার উস্তাদ মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শাসনের ক্ষেত্রে আকাবিরদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা এরকম যে, তারা প্রথমে শিক্ষার্থীদের শেখানো ও বোঝানোর উপর গুরুত্ব দিতেন। এরপর তাদের মাঝে কোন ভুল দেখলে তা স্মরণ করিয়ে দিতেন। তৃতীয় পর্যায়ে কিছুটা কঠোর হতেন।

এরপরও শিক্ষার্থীর মাঝে সেই ভুল দেখলে তার সামনে থেকে ভুলের সেই উপকরণ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। চতুর্থ স্তরে গিয়ে প্রয়োজন অনুপাতে শাসন করতেন। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের প্রথমেই শাসন করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রেই তা শাসনের নামে নির্যাতন হয়ে যায়। যা একজন আদর্শ শিক্ষক থেকে কখনোই প্রত্যাশিত নয়- বলছিলেন মাওলানা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ ।

আরো পড়ুন:

তল্লার ইমাম মাওলানা আ. মালেক নেসারী র., এক নিভৃতচারী আদর্শ মানবের গল্প

‘বোরকা শুধু মুসলিম নয়, অভিজাত বাঙালি নারীর সংস্কৃতিরও অংশ’

সামাজিক নির্মমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে করোনা সংকট!

বিজ্ঞাপন