আমেরিকার ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’: ২০ বছরে বাস্তুচ্যুত পৌনে ৪ কোটি মানুষ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নাইন ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের’ ভুক্তভোগী হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ শিকার হন বাস্তুচ্যুতের।

নাইন ইলেভেনের ১৯ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার প্রকাশিত হওয়া দেশটির ব্রাউন ইউনিভার্সিটির একটি রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞাপন

রিপোর্টটির লেখকেরা জানান, ২০ শতকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়া অন্যান্য সংঘাতে বাস্তুচ্যুত হওয়া লোকের সংখ্যাকে এটি ছাড়িয়ে গেছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে বছর অক্টোবরে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধের সূচনা হয়।

এ প্রথম মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পৃক্ত কোনো ঘটনায় বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা গণনা করা হলো। যাতে দেখা যাচ্ছে, অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুতের শিকার হয়েছেন।

এ সংখ্যাটি এমন সময়ে প্রকাশ পেল যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার নীতিতে ক্রমবর্ধমানভাবে বিরোধী হয়ে উঠেছে। সীমান্ত বন্ধের নীতিমালাকে সমর্থন দিচ্ছে অভিবাসন বিরোধীরা।

বাস্তুচ্যুত হওয়া এসব মানুষ হচ্ছেন আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, ফিলিপাইন, লিবিয়া এবং সিরিয়ার নাগরিক। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ’ ছড়িয়ে পড়ে।

রিপোর্টটিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ যুদ্ধে যত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে সে হিসাবে সংখ্যাটা অনেক কম ধরা হয়েছে। মূল সংখ্যাটা হতে পারে ৪৮ মিলিয়ন থেকে ৫৯ মিলিয়নের (৪ কোটি ৮০ লাখ-৫ কোটি ৯০ লাখ) মধ্যে।

ছোট আকারে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ভুক্তভোগীদের সংখ্যা এ হিসাবে আনা হয়নি বলে জানায় রিপোর্টটি। যুক্তরাষ্ট্রের সেসব অভিযান পরিচালনা হয় বুরকিনা ফাসো, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ, ডিআর কঙ্গো, মালি এবং নাইজারে।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটির নৃতাত্ত্বিক বিভাগের অধ্যাপক এবং এই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ডেভিড ভাইন বলেন, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে অবশ্যই মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, তার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতের ঘটনাও বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতি।’

তিনি বলেন, ‘এ সংখ্যাটা আমাদের বলে যে ওইসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ভয়াবহভাবে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। আমি মনে করি,  যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ এর সঙ্গে ছিল না।’