‘সময় শেষ হয়ে গেলো, আমাকে নামাজ পড়তে দাও’

রায়হান মুহাম্মদ।। – জাতীয় বার্ন ইউনিট থেকে

‘আমার নামাজের সময় শেষ হয়ে গেলো, আমাকে নামাজ পড়তে দাও’ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ৫২০ নম্বর ইউনিটে জ্ঞান ফিরলে এখনো স্বজন ও ডাক্তারদের এভাবেই বলছেন আবুল বাশার(৪৫)। নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত তল্লা মসজিদে বিস্ফোরণের সময় সেজদায় ছিলেন তিনি। সেজদারত অবস্থায় গরম কিছু অনুভব করেন। মাথা উঠিয়ে দেখেন পুরো মসজিদে আগুন। এরপর আর কিছু মনে নেই তার।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালের অভ্যর্থনা কক্ষে বসে কান্না জড়িত কণ্ঠে এভাবেই বাবার দুর্ঘটনার কথা বলছিলেন আবুল বাশারের বড় ছেলে রিয়াদ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে  আবুল বাশার (৪৯) নামাজ পড়তে যান নারায়ণগঞ্জের তল্লা মসজিদে। এর আগে ফোনে কথা বলেন মাদারীপুরে থাকা স্ত্রীও ছেলের সাথে। ভোর রাতে আবুল বাশারের দগ্ধ হওয়ার কথা জানতে পারে তার পরিবার। আবুল বাশারের এমন দুর্ঘটনার কথা শোনে তখনই মাদারীপুর থেকে মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে ঢাকায় আসেন আবুল বাশারের বড় ছেলে রিয়াদ।

আরো পড়ুন: ৫০ হাজার টাকা ‘ঘুষ’ ও ২৪টি জীবনের ট্রাজেডি

                ‘ছেলেকে ফিরে না পেলে আর কখনোই হয়তো ক্ষুধার্ত হবো না’

ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে বার্ন ইউনিটে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফরিদ মিয়া

ইসলাম টাইমসের প্রতিবেকদকে রিয়াদ জানান, বাবা মা ও পাঁচ ভাই-বোন নিয়ে তাদের পরিবার। ১৮ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে চাকরি করেন বাবা। বাবার আয়ে মোটামুটি স্বাচ্ছন্দে কেটে যায় পরিবারের দিনকাল। কিন্তু হঠাৎ বাবার এমন আকস্মিক দুর্ঘটনায় নিজের সামনে অন্ধকার দেখছেন রিয়াদ। তবে এখনো আশায় বুক বাঁধছেন রিয়াদ ও তার পরিবার।

বাবার সাথে শেষ কথা বলার স্মৃতি স্মরণ করে রিয়াদ বলেন, ‘৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজে যাওয়ার আগে বাবা ফোন করে বলেছিলেন, নামাজ পড়ে এসে ভাত খাবো, তোমরা খেয়ে ঘুমিয়ে যেও। আমরা ঘুমিয়েছিলাম, কিন্তু বাবা ঘুমাতে পারেননি। রিয়াদ চাইছেন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে বাবা যেন একটু আরামে ঘুমান। তবে বাবার চিরতরে ঘুমিয়ে যাওয়া চাইছে না রিয়াদের পরিবার। তাই আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সবার কাছে আবুল বাশারের জন্য দোয়া চাইছেন তার পরিবার।

আরো পড়ুন: বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা, স্বজনদের আহাজারিতে ভারি তল্লা মাঠ

সরেজমিন প্রতিবেদন: কী ঘটেছিল নারায়ণগঞ্জের সেই মসজিদে

বিজ্ঞাপন