‘ভেতরে কাতরাচ্ছেন বহু মুসল্লি, পুড়েছে ট্রান্সফরমারের গরম তেলে

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাম জামে মসজিদের সামনে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪০ জন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মসজিদের সামনের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে একে একে মসজিদের ৬টি এসিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় মসজিদের ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় মসজিদে থাকা মুসল্লিদের গায়ে আগুনের ফুলকি গিয়ে পড়লে একে একে দগ্ধ হতে থাকেন। মসজিদের ভেতর থেকে আসতে থাকে মুসল্লিদের চিৎকার। পরে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

সিটি কর্পোরেশনের ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর দগ্ধ রোগীদের ১০০ শয্যা হাসপাতালে আনা হলে একজন রোগীকেও ধরে দেখা হয়নি। তাদের হাসপাতালের ফ্লোরে বসিয়ে রাখা হয়। পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

আরো পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে মসজিদের এসি বিস্ফোরণে ৩০ মুসল্লি দগ্ধ, অবস্থা আশঙ্কাজনক

তিনি আরও জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ভেতরে একের পর এক লোকজন পড়ে আছেন। ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা গরম তেল ভেতরে পড়ে।

আহতদেরকে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতাল ও রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগের ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক নাজমুল হোসেন জানান, রাত ৯টা থেকে একের পর এক রোগী আসছিল। তাদের সবার নাম লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। যেসব রোগী এসেছে তাদের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ দগ্ধ হয়েছেন। তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ২০ থেকে ২৫ জন এসেছিল। তাদের কয়েকজনের শরীরে ৯৯ ভাগ দগ্ধ হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদটিতে দেড় থেকে দুইশ’ মুসল্লি এশার নামাজে অংশ নেন। জামাত শেষে মুসল্লিরা যখন সুন্নত নামাজ আদায় করছিলেন তখন একটি এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হন এবং মারা গেছেন ৩ জন।

এদিকে কিভাবে বিস্ফোরণের সূত্রপাত তা নিয়ে ২ ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। কেউ কেউ বলেছেন, মসজিদের প্রবেশপথে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণ ঘটে আগুনের সূত্রপাত।

আবার কেউ বলছেন, মসজিদের নিচ দিয়ে নেয়া গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ওই মসজিদের নিচ দিয়ে গ্যাসের পাইপ লাইন নেয়া হয়েছে। সেই পাইপ ছিদ্র হয়ে গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। পুরে মসজিদ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় গ্যাস জানালা দিয়ে বাহিরে বের হতে পারেনি।

ওই অবস্থায় কেউ মসজিদের ভেতরে এসি অথবা ফ্যানের সুইচ বন্ধ করার সময় সৃষ্ট ছোট্ট স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে মসজিদের ভেতরে আগুন ধরে যায় এবং মুসল্লিরা দগ্ধ হয়।

আরো পড়ুন: ফতুল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণ, মসজিদের ইমামসহ ৩৮ জন শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে