শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দূরে সরে সন্তানরা আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে না তো!

মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন।।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে চলমান লক ডাউন শিথিল হলেও আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো খোলা হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতে সমাজের প্রতিটি মানুষ কমবেশী অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন। ছোট বড় সবাই আর্থিকভাবে পেরেশান। কিন্তু আমার মতে এ  অবস্থাতে আমাদের সব চেয়ে বড় ক্ষতি, আমাদের সন্তানরা আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। লেখাপড়া থেকে দূরে সরতে সরতে তারা আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।  অর্থনীতির ক্ষতি আজ না হোক কাল পোষানো যাবে কিন্তু আমাদের সন্তানদের যে সময়গুলো নষ্ট হচ্ছে, সন্তান যে ভবিষ্যত নষ্ট হচ্ছে তা কি ফিরে পোষানো যাবে?

আমি মনে করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা লকডাউনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির দিক।

বিজ্ঞাপন

আমার সন্তান আমার ভবিষ্যত। শুধু দুনিয়ার ভবিষ্যত নয়, আখেরাতেরও ভবিষ্যত। বাসায় আমরা আমাদের সন্তানদের সময় দেই। বাবা হিসাবে আমাদের কর্তব্য আমাদের সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেয়া। জীবন যাপনের আদাব কায়দা শিক্ষা দেওয়া। হাদীস শরীফে এসেছে, আদাব কায়দা শিক্ষা দেওয়া বাবার পক্ষ থেকে সন্তানকে দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার।

কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা হযরত লুকমানের কথা উল্লেখ করেছেন। হযরত লুকমান তার সন্তানকে আল্লাহর হক, মাবাবার হক, পাড়াপ্রতিবেশীর হক, দুনিয়ায় জীবন যাপনের শিষ্টাচার শিখিয়েছেন।

আজ বিভিন্ন উপায়ে মুখে বুলি ফোটার আগেই মায়ের কোল থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়া হচেছ। জায়গায় জায়গা প্লে, প্রিপ্লে ইত্যাদি নানা নামে গড়ে ওঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সন্তানের সত্যিকারের পাঠশালা ছিল মায়ের আদরমাখা কোল। ছোটবেলায় সন্তান তার মায়ের কাছে প্রাথমিক অনেক শিক্ষা লাভ করবে এটাই ছিল আমাদের পূর্বসূরীদের তরীকা। বিদ্যালয়ে যাবে শুধু উচ্চ শিক্ষার জন্য।

যদি আমাদের আকাবিরদের জীবনী দেখি তাহলে দেখা যাবে, তাদের অনেকেই প্রাথমিক কিতাবাদি পড়েছেন হয়ত মায়ের কাছে, নয়তো বাবার কাছে। কোনো কিতাব পড়েছেন চাচার কাছে, মামার কাছে। অন্তত লক ডাউনে আমরা আবার সেই পদ্ধতিতে অনুসরণ করতে পারি। এটা আমাদের জন্য মঙ্গল হবে, আমাদের সন্তানদের জন্যও মঙ্গল হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, কিন্তু আমার ঘর তো বন্ধ নাই। আমরা ঘরকে শিক্ষালয় বানাই। বাবা হিসাবে সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দিতে থাকি। তাহলে আমার সন্তান মানুষ হতে থাকবে।