প্রত্যক্ষ বর্ণনা: কিভাবে ঘটল নেত্রকোনা-ট্রলারডুবির বিয়োগান্তক ঘটনা

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।।

গত দুদিন আগে ৫ আগস্ট বুধবার নেত্রকোনা জেলার মদন থানার উচিতপুরে হাওরে আকস্মিক ট্রলার ডুবে সলিল সমাধি ঘটে গেল ১৮ জন মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর। বুধবার দুপুর ১২ টার সময় মদনের গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে ইঞ্জিন চালিত নৌকাডুবিতে ইন্তেকাল হয় তাদের। বিয়োগান্তক এ ঘটনায় বেদনায় ছেয়ে যায় গোটা দেশ। বিশেষকরে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের কোনাপাড়ায় যেখানে মানুষ বেশি নিহত হয়েছেন সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে।

বিজ্ঞাপন

ট্রলার ডুবে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক নিহতের এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৬টায় ময়মনসিংহ সদরের কোনাপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পাশের কবরস্থানে নিহত মাওলানা মাহফুজুর রহমানসহ ৯ জনকে দাফন করা হয়। বাকি ৮ জনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় আশপাশের এলাকার হাজারও মানুষ অংশ নেন। রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ মৃতদেহ দেখার জন্য চরাঞ্চলে ছুটে আসে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। সর্বশেষ ১৮ তম ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হয় এদিন সকালে।

কিভাবে ঘটল এ বিয়োগান্তক ঘটনা

কিভাবে এতগুলো মানুষ ইন্তেকাল করলেন- এ নিয়ে প্রথম থেকেই বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। যেই খবরটি সামনে চলে এসেছে যে, হঠাৎ করে বাতাসের একটা ঝাপটা আসে। এরপর ট্রলারটি তলিয়ে যায়।

আসলেই কি ব্যাপারটি এরকম ছিল? সেখানে কি ট্রলার হিসেবে মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল? কোনো অসতর্কতা ছিল? তারা কি কোনো পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন? বা সতর্কতার ব্যাপারগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল? আর ময়মনসিংহের চরাঞ্চল কোনাপাড়া, চরখরিচা এসব অঞ্চল থেকে একদল মানুষ সেই নেত্রকোনার মদনের হাওড়ে কেন বেড়াতে গেলেন? এরকম কয়েকটি প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। এবিষয়গুলো জানতে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে ফোন দেয়া হয়েছিল ময়মনসিংহের ইত্তেফাকুল ওলামা সংস্থার অন্যতম দায়িত্বশীল (সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক) মাওলানা আমির ইবনে আহমদ সাহেবের কাছে। আমীর ইবনে আহমদ গত পরশু (৫ আগস্ট) ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন একটি দলের সঙ্গে। গতকাল জানাযাতেও শরীক হয়েছিলেন এবং কয়েকজনের ইন্টারভিউ নিয়েছেন তিনি। কথা বলেছেন এই ঘটনায় যারা বেঁচে এসেছেন তাদের সঙ্গে।

মাওলানা আমির ইবনে আহমদ মাওলানা শহীদুল ইসলামের সাক্ষাতকার নিয়েছেন। যিনি কোনাপাড়ার বাসিন্দা। যেই অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ সফরকারীদের মধ্যে ইন্তেকাল করেছেন। মাওলানা শহীদুল ইসলাম শিক্ষকতা করেন গফরগাঁও জামিয়াতুত তাকওয়া মাদরাসায়।

এ সাক্ষাতকার থেকে জানা গেছে যে, এই ঘটনার দুই পক্ষের দুটি যোগসূত্র ছিল। কোণাপাড়া অঞ্চলে মাওলানা হাফেয মাহফুজ। মারকাযুস সুন্নাহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যক্তি। যার পরিবারের ৮জন মানুষ তিনিসহ ইন্তেকাল করেছেন। তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল ঘটনাস্থল মদন এলাকার একটি বড় মাদরাসা জামিয়া মুঈনুল ইসলামের মুহতামিম মাওলানা শফিকের পক্ষ থেকে। তাদের আলোচনা চলছিল কয়েক বছর যাবত বেড়ানোর জন্য। মাওলানা মাহফুজ মদনের তেলিগাতি মাদরাসায় কিছুদিন শিক্ষকতা করেছিলেন এবং রমযানে তারাবীহর নামায পড়িয়েছিলেন। সে কারণে ঐ এলাকায় বেড়ানোসহ স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে যাতায়াত-যোগাযোগ তার ছিল।

ঘটনার সূচনা

২০১৫ থেকেই দাওয়াতটি চলছিল। সেটিই বাস্তবে রূপ নেয় এবারের ঈদের পর। যখন মাওলানা মাহফুজের কাছ থেকে এলাকার ছুটির সময় আশেপাশের আরো কিছু হাফেজ আলেমরা জানতে পারলেন, তখন সবাই আগ্রহের সঙ্গে তৈরি হলেন সফরের জন্য। এভাবেই এ সফরের প্রস্তুতি।

ময়মনসিংহ সদরে হলো কোনাপাড়ার অবস্থান। নদীর ওপারে। এখান থেকে প্রায় ৩৮ জনের মতো লোক একটি বাসে করে নির্ধারিত সফর অনুযায়ী মুঈনুল ইসলাম মাদরাসায় চলে যান। সেখান থেকে আনন্দ-সফরে বের হন তারা। তাদের জন্য রান্নাবান্না করা হয়। সফর শেষ করে এসে তারা খাবার খাবেন। মুঈনুল ইসলাম মাদরাসা থেকে মাওলানা শফিকও তার দুই ছেলেকে নিয়ে যান। আর কোনাপাড়া থেকে অন্যান্য হাফেয-আলেমদের সঙ্গে মাওলানা মাহফুজ, যিনি মূল উদ্যোক্তা, হাফেয গড়ার কারিগর, ঐ এলাকায় বহু বালক-বালিকা তার কাছে হাফেয হয়েছে। তিনি নিজের সন্তান, ভাগ্নি, ভাতিজি এরকম কয়েকজনকে নিয়ে যান। যাদের প্রায় সবাই ওখানে ইন্তেকাল করেছিলেন।

ট্রলারে যাত্রা

তারা গাড়ি নিয়ে ওখানে যাওয়ার পর ট্রলারে উঠেন। আগে থেকে সব ঠিক করা ছিল। ট্রলারটি যখন চলা শুরু করে মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেন, শুরুতেই ট্রলারে এক জায়গায় একটু পানি উঠে যায় কোনো কারণে । দেড় কিলোমিটার বা দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর মাওলানা মাহফুজ একবার একথাও বলেন শহীদুল ইসলামকে যে, আজকে সফর করতে ইচ্ছে করছে না। ভালো লাগছে না। একটু পানি ঢুকে গেছে। আমার মনে হয়, আর বেশিদূর যাওয়া উচিত না। আমরা ফিরে আসি।

এটা ছিল তার একটা সাধারণ মতামত। যাবে কি যাবে না, কোন সিদ্ধান্ত তখনো হয়নি। এভাবে ট্রলার চলতে থাকে। ট্রলারে আসলে পর্যাপ্ত মানুষও ছিল। ট্রলারেও জায়গা ছিল। সম্ভবত ছইঅলা বা ছাউনিওয়ালা ট্রলার ছিল। বর্ণনা থেকে অনুমান করা যায়। তো এরকম অবস্থায় একসময় বড় বড় ঢেউ আসতে শুরু করে । তারা তখন একদম মাঝ হাওরে চলে গিয়েছিলেন। হাওড়ের অবস্থা অনেকটা এরকম যে, শুকনো অবস্থায় তা ক্ষেতের মতো থাকে। আর এই বন্যার সময় পুরোটা এলাকা বিশাল সমুদ্র ও দরিয়ার মতো মনে হয়।

কিন্তু তারা যেই স্থানটিতে ছিলেন দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে, বর্ণনায় যেটা জানা গেছে যে, ওখান থেকে ৩০-৪০ গজের মতো কাছে আসলেই পায়ে দাঁড়ানোর মতো বা কোমর পানি সমান জায়গা ছিল। কিন্তু যারা তখন তলিয়ে যায়, তারা এটা বুঝতে পারেননি। তারা নিজেদেরকে অনেক গভীরে আছেন বলে মনে করেছেন।

শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য

তো যে খবরটি ছড়িয়েছে যে, হঠাৎ করে বাতাসের ঝাপটা আসায় ট্রলার তলিয়ে যায়, ব্যাপারটা এরকম নয়। মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেছেন যে, বড়বড় ঢেউ আসছিল। ট্রলার একটু দুলছিল। এই সময় মাওলানা মাহফুজ সাহেবের একজন ভাতিজি, যিনি মারা গেছেন, হঠাৎ নৌকা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন বা পড়ে যাচ্ছিলেন। এরকম অবস্থা হয়েছিল নৌকা একদিকে একটু কাত হয়ে যাওয়ার কারণে বা দুলুনির কারণে।

তো যেটা হয় অসতর্ক মুহূর্তে, ঐ বাচ্চাটিকে বাঁচানোর জন্য একদল মানুষ তার দিকে মনোযোগ দেয়। সাহায্যে এগিয়ে যায় সেইদিকে। ফলে ভারসাম্যহীনতার কারণে ট্রলারটি একপাশে কাত হয়ে যায়। আর ভারসাম্যহীন একটা অবস্থা তৈরি হওয়ায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মানুষের নড়াচড়া-হুড়োহুড়ির কারণে পুরো ট্রলার তলিয়ে যায় এবং উল্টো যায়।

এজন্য বেশির ভাগ মানুষ যারা শাহাদাতবরণ করেছেন তারা ট্রলারের নিচেই পড়ে গিয়েছিলেন। অনেকে ডুব দিয়ে নিচ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলেন। আর যারা ছাউনির উপরে ছিলেন, সাঁতার পারতেন তারা ঝাঁপিয়ে সাতার কেটে কমপানিতে চলে এসে দাঁড়াতে পেরেছিলেন। এটা বর্ণনায় পাওয়া গেছে।

চরম মুহূর্তে

মাওলানা আমির ইবনে আহমদ সাহেব কিছু করুণ কথা বলেছিলেন। সেই করুণ কথাগুলো হলো, মাওলানা মাহফুজ সাহেবের গোল জুব্বা পরা ছিলেন। যেকারণে তিনি নিজেকে ঘের থেকে আলাদা করতে পারছিলেন না। উনি বারবার বলছিলেন, আমাকে একটু বাঁচান। শহীদ ভাই আমাকে একটু বাঁচান। শহীদুল ইসলাম সাহেব তখন সাতার কাটছিলেন। তিনি বলছিলেন, আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম যে, একজন আরেকজনকে বাঁচাতে গেলে এখানে আর কেউ বাঁচতে পারবে না। উনি (মাওলানা শহীদুল ইসলাম) নিজের জামা পাঞ্জাবি, পায়জামা সব খুলে ফেলেছিলেন সাঁতার দিতে দিতে। এবং এগিয়ে যেতে শুরু করছিলেন অগভীর জায়গার দিকে। আর মাওলানা শফীক- যিনি ওখানকার মেজবান ছিলেন, তিনি বারবার সাঁতরে বলছিলেন, আমার বড় ছেলেটাকে দেখছি না। ছোট ছেলেটা তখন তার ঘাড়ে। তার দুই ছেলে ছিল।

পরে ঘটনা সমাপ্ত হওয়ার পরে দেখা গেছে, মাওলানা শফীক এবং তার ছোট ছেলে দুজনেই নিহত হয়েছেন। বাবা সন্তানকে জড়িয়ে ধরে রাখা অবস্থায়ই নিহত হয়েছে। আর তার বড় ছেলে নয় বছর বয়সী সফওয়ান সাঁতরিয়ে পার হয়ে গেছে। এবং বেঁচে গেছে। এবং একইভাবে হাফেয মাওলানা মাহফুজ, তার সঙ্গেও বাচ্চারা ছিল। সম্ভবত উনিও বাচ্চাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।

এঘটনার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে যে, যারা যারা সাঁতার পারে তারা যদি প্রত্যেকেই বাঁচার চেষ্টা করতেন তাহলে সম্ভবত অনুমান করা হচ্ছে, শহীদুল ইসলাম সাহেবের বর্ণনায় যেটা পাওয়া গেছে, সাঁতার পারে না এমন ৪-৫ জন মানুষ হয়ত মারা যেত। এতগুলি মানুষ হয়ত মারা যেত না। কিন্তু একজন অপরজনকে বাঁচানোর চেষ্টা করা, একজন অপরজন থেকে বাঁচানোর সহায়তা চাওয়া, এবং তারা খুব মাঝ-দরিয়ায় আছে, ওখান থেকে অগভীর জায়গা অনেক দূরে- এধরনের কল্পনা, ‘এতদূর সাঁতরে যেতে পারব কিনা’- এরকম একটা পরিস্থিতির কারণেই এত বিয়োগান্তক ঘটনাটা সহজে ঘটে গেছে। বাহ্যিক কারণগুলো এরকম ছিল।

মাওলানা শহীদুল ইসলামের বর্ণনায় ঐসময় আশপাশের গ্রামের যেসব মানুষরা ছিল, পুরুষরা বাড়িতে ছিল না তখন। মহিলারা বিভিন্ন নৌকা নিয়ে ছুটতে শুরু করে উদ্ধার করার জন্য। এইভাবেই যারা নিহত হন নাই, কোনো রকমে আল্লাহ তাআলা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তারা বিভিন্ন নৌকায় উঠার সুযোগ পেয়েছেন, আর অন্যরা নিহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করার পরে জীবিত পাওয়া যায়নি।

হতাহত

যে রিপোর্টটি পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে যে, ময়মনসিংহ সদরের কোনাপাড়া অঞ্চল থেকে প্রায় ৩৮ জনের মতো গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় আরো কিছু মানুষ যুক্ত হয়েছেন। এভাবে হয়েছেন ৪৮ জন। আর ইঞ্জিন চালানোর জন্য ঐ ট্রলারে ছিলেন দু’জন। প্রায় ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। ১৮ জন মারা গেছেন। প্রথম পর্যায়ে ১৭ জনের লাশ উদ্ধার হয়। একজনের লাশ যার নাম রাকিব। বাড়ি কোণাপাড়ায়। একদিন পর তাকে পাওয়া যায়। বাকি ৩২ জন যাত্রীর সবাই বেঁচে আছেন। খুব মারাত্মক আহত কেউ নেই। যারা ঘটনার পরপর কেউ কেউ অজ্ঞান ছিলেন কিছুক্ষণ সময়। হাসপাতালে ভর্তি বা মুমূর্ষ এধরনের কেউ নেই। সবাই প্রায় সুস্থ। মতৃ ১৮ জনের মধ্যে কোনাপাড়া মারকাযুস সুন্নাহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মাহফুজের এক পরিবার তিনিসহ ৮জন মারা গেছেন।

মাওলানা শহীদুল ইসলাম ও মাওলানা মাহফুজ তারা দুজন বন্ধু ছিলেন। এখানে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই কাজ করেছে এ অঞ্চল থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রে। এবং সফরের রাহাখরচও এ দুইজনের হাতে ছিল। একজনের হাতে ২০ হাজার টাকার মতো। আরেকজনের হাতে ২৫ হাজার টাকার মতো। তারা এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে গিয়েছিলেন। এজন্য যেটা বুঝা গেল, হঠাৎ করে ঢেউ বা বাতাসের ঝাপটা এমন না। ঘটনা পরম্পরায় ঘটনা ঘটেছে এবং সেখান থেকে এইভাবে হয়েছে। তাকদীর গালেব হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলার ফায়সালা ছিল।

গত পরশু রাতে কোনাপাড়ার আশেপাশের কয়েকটা মহল্লা, চরখরিচা, মালিডাঙ্গা, জয় বাংলাবাজার এখানে দুইজন এবং আরেকজন তিনজনের জানাযা হয়েছে। রাত একটায়/দুইটায়। গতকাল সকাল ছয়টার দিকে ১২ জনের জানাযা হয়েছে। এবং আরেকজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ হচ্ছে ঘটনা।

শিক্ষা

যারা ঐ এলাকায় নতুন গিয়েছিলেন, তারা ছিলেন এমন যে, প্রত্যেকের কাছে মনে হয়েছে পাড় বহুদূরে। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। পরে দেখা গেছে, যারা ঐ এলাকার সাথে পরিচিত তারা বলেছে যে, যেখানে ট্রলারটা ডুবেছে সেখান থেকে মাত্র ২০-২৫ গজ দূরেই ছিল অগভীর জায়গা। কিন্তু বুঝা যাচ্ছিল না ঢেউয়ের কারণে। পরবর্তীতে কিছু মানুষ সাঁতরিয়ে এসে সেখান পর্যন্ত এসে পায়ে ভর করে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন।

এ বিষয়টি অজ্ঞাত থাকার কারণে, মাঝ-দরিয়া মনে করার কারণে এবং একজন অপরজনকে বাঁচাতে চাওয়ার কারণে, একজন-অন্যজনকে আশ্রয় করে বাঁচতে চাওয়ার কারণেই মূলত ঘটনা এতটা মর্মন্তুদ এবং এতজন মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এগুলো থেকে সামগ্রিকভাবে এই বর্ষা-মৌসুমে সতর্ক থাকা। বাচ্চাদের নিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সফর না করা। নৌকায় পর্যাপ্ত জায়গা থাকা, কোনো রকমের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটার ক্ষেত্রে যত ধরনের সতর্কতা বজায় রাখা যায়, একটা ভরা নৌকায় একজন কাত হয়ে গেলে তার দিকে পাঁচজন এগিয়ে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই বিষয়টা এখানে ঘটেছে, এ জায়গাগুলোতে সতর্ক থাকা। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেককে জান্নাত দান করুন। এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে সচেতনভাবে বেঁচে থাকার উদ্যোগ সবার ভেতরে থাকুক। আল্লাহ তাআলা এই তাওফীক দান করুন আমীন।

মাওলানা আমীর যেটা জানালেন, পুরো কোণাপাড়া এবং আশেপাশের কয়েকটা গ্রাম মানুষের মধ্যে শোক দেখা গেছে এবং এটা একদম আকস্মিক ঘটনা। পরিবারগুলোতে কান্না। এলাকায় শোক দুঃখ।  এ হচ্ছে এ ঘটনার মোটামুটি আদ্যোপান্ত বর্ণনা। সামগ্রিক পরিচিতিসহ যে আঠারো জন মারা গেছেন এ সম্পর্কে ইসলাম টাইমসে সংশ্লিষ্টদের সূত্রে আরো তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

বিজ্ঞাপন