বাবরি মসজিদ চিরকাল মসজিদই থাকবে, মিথ্যা ও জুলুমের ইমারত কোনোদিন স্থায়ী হয় না: মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতীয় মুসলমানদের জনপ্রিয় সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড ঘোষণা দিয়েছে, বাবরি মসজিদ মসজিদ ছিল; এবং চিরকাল মসজিদই থাকবে। জোরপূর্বক দখল করার দ্বারা বাস্তবতা শেষ হয়ে যায় না।

মুসলমানদের এই প্রাচীন সংগঠন আরো জানিয়েছে, বাবরি মসজিদ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্যই রায় দিয়েছে; কিন্তু ন্যায়বিচারকে লজ্জিত করেছে।

গতকাল ৪ আগস্ট মঙ্গলবার সংগঠনের প্যাডে সভাপতি মাওলানা অলি রহমানি সাহেবের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বলা হয়, আজ যখন বাবরি মসজিদের স্থানে একটি মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর রাখা হচ্ছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড নিজেদের চিরায়ত অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করা আবশ্যক মনে করছে। শরীয়তের দৃষ্টিতে যেখানে একবার মসজিদ নির্মিত হয় সেটি কেয়ামত পর্যন্ত মসজিদ থাকে। অতএব বাবরি মসজিদ গতকালও মসজিদ ছিল, আজও মসজিদ রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও মসজিদ থাকবে। মসজিদে কতগুলি মূর্তি রেখে দিলে, পূজাপাঠ শুরু করে দিলে, যুগ-যুগান্তরের নামায আদায় নিষিদ্ধ করে দিলে মসজিদের অবস্থান নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় না।

আরো পড়ুন: বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর, সোনা-রূপার ইট প্রস্তুত

ভারতীয় দুই প্রত্নতত্ত্ববিদের দাবি: বাবরি মসজিদের নিচে রামমন্দির থাকার তথ্য মিথ্যা

মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির নির্মাণ: ভারত কি এ দুর্ভাগ্য থেকে নিজকে বাঁচাবে

অলইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি হযরত মাওলানা ওলি রাহমানী তার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, শুরু থেকেই আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে, বাবরি মসজিদ কোনো মন্দির বা হিন্দু উপাসনালয় ভেঙ্গে নির্মাণ করা হয়নি। আলহামদু লিল্লাহ সুপ্রীম কোর্ট তার রায়ে (নভেম্বর ২০১৯) আমাদের এ অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সুপ্রীম কোর্ট একথাও বলেছেন যে, বাবরি মসজিদের নিচে খোদাই করার পর যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে, তা ১২ শতাব্দির কোন স্থাপনার অংশ। যা বাবরি মসজিদ নির্মাণের ৪০০ বছর আগেকার। অতএব, কোনো মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করা হয়নি।

সুপ্রীম কোর্ট পরিষ্কার উল্লেখ করেছে যে, বাবরি মসজিদে ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ সালের রাত পর্যন্ত নামায অব্যাহত ছিল। সুপ্রীম কোর্ট এটাও স্বীকার করেছে যে, বাবরি মসজিদে ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ সালে মূর্তি এনে রাখা অবৈধ এবং আইনবিরোধি কাজ ছিল।আফসোস, এসবগুলো স্পষ্ট বাস্তবতাকে স্বীকার করা সত্ত্বেও আদালত সম্পূর্ণ অন্যায়মূলক রায় দিয়েছে।  মসজিদের জমি ঐলোকদের হাতে দিয়েছে যারা অন্যায়ভাবে এখানে মূর্তি রেখেছিল এবং মসজিদকে শহিদ করায় জড়িত ছিল।

বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি বলেন, যেহেতু সুপ্রীম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত, তাই তার চূড়ান্ত রায়কে মেনে নেওয়া ব্যতীত কোনো উপায় নেই। কিন্তু তারপরও আমরা এটা অবশ্যই বলব যে, এটি একটি জালিমসুলভ এবং অন্যায় সিদ্ধান্ত। যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রবণতা থেকে দেয়া হয়েছে। সুপ্রীম কোর্ট ৯ নভেম্বর ২০১৯ সালে রায় অবশ্যই দিয়েছে; কিন্তু ইনসাফ ও ন্যায় বিচারকে লজ্জিত করেছে। আলহামদু লিল্লাহ, ভারতীয় মুসলমানদের প্রতিনিধি ঐক্যের প্লাটফর্ম অলইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডসহ অন্যান্য দল-সংগঠনও আদালতের আইনি লড়াইয়ে কোনো ত্রুটি করেনি। এখানে একথাও বলে দেওয়া জরুরি যে, হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর এ পুরো কার্যক্রম জুলুম, অত্যাচার, ত্রাস, মিথ্যা, প্রতারণা এবং অপবাদপূর্ণ আন্দোলন ছিল। এটি আগাগোড়া একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল। যার সঙ্গে ধর্ম বা ধর্মীয় শিক্ষার কোন সম্পর্ক ছিল না। মিথ্যা ও জুলুমের ইমারত কোনোদিন স্থায়ী হয় না।

মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি বিবৃতিতে আরো বলেন, পরিস্থিতি যত খারাপই হোক, আমাদের হতাশ হলে চলবে না। আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে। সব ধরনের পরিস্থিতিতে জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন, وتلك الأيام نداولها بين الناس  (এ তো দিন পরিক্রমা, যা আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে বদলাতে থাকি। -সূরা আলে ইমরান ১৪০ )

অতএব আমরা নিরাশ হব না। পরিস্থিতির সামনে আত্মসমর্পণ করব না। আমাদের সামনে ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া মসজিদের দৃষ্টান্ত এ আয়াতের জ্বলন্ত উদাহরণ। আমি ভারতের মুসলমানদের প্রতি অনুরোধ করব, তারা সুপ্রীম কোর্টের রায় এবং মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের কারণে মোটেও আত্মপীড়নে ভুগবেন না।

আমাদের এই ইতিহাসও মনে রাখতে হবে যে, তাওহীদের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র এবং আল্লাহর ঘর খানায়ে কাবাও একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শিরক ও মূর্তিপূজার আখড়া ছিল। অবশেষে মক্কা বিজয়ের পর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে পুনরায় তা তাওহীদের মারকায হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা পুরোপুরি আশাবাদী, শুধু বাবরি মসজিদই নয়; এই পুরো বাগান একদিন তাওহীদের সুরে মুখরিত হবে। আমাদের কর্তব্য হলো, এ কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেরা গুনাহ থেকে তওবা করা। নিজ নিজ স্বভাব ও আচরণকে সুন্দর করা। ঘর এবং সমাজে দ্বীনদার বানানো। এবং পূর্ণ সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় গ্রহণ করা।

ভাষান্তর: সাইফ নূর