চামড়া রান্না করে খেয়ে ফেলুন

খন্দকার মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ।।

গরুর-ছাগলের চামড়া খাওয়া যায়। গরুর চামড়া রান্না করে খান। এটাকে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচান। যারা গরীবের হক মেরে রাতারাতি বড় লোক হতে চায় তাদের হাতে চামড়া ‍তুলে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

বিজ্ঞাপন

চামড়া রান্না করে খেয়ে ফেলুন আর গরীব ও লিল্লাহ বোডিংগুলোতে কিছু টাকা দিয়ে দিন। শরিয়তের মাসালা হল চামড়া যদি কোরবানীদাতা রান্না করে খান অথবা নিজে ব্যবহার করেন তাহলে তা জায়েজ। এর সমপরিমাণ মূল্য মিসকিনদেরকে দিয়ে দেয়া জরুরী নয়। তবে বিক্রি করলে বিক্রিত মূল্য গরীবকে দিয়ে দিতে হবে। চামড়া থেকে দেশের মাদরাসাগুলো একটি আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু কিছু মানুষ গত কয়েক বছর ধরে গরীবের হক মেরে বড় লোক হওয়ার জন্য চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করছে পানির দরে। এই অবস্থা দেখে গত বছর মানুষ রাগে-ক্ষোভে চামড়া মাটিতে পুতে দিয়েছিল। নষ্ট হয়েছিল হাজার কোটি টাকার সম্পদ। তাই আসুন এবার এই চামড়াকে নষ্ট না করে আমরা খাওয়া শুরু করি। এতে আগামীতে চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।

চামড়া রান্না করে খাওয়ার পদ্ধতি: চামড়া রান্না করা খুবই সহজ। প্রথমেই চামড়া এক থেকে দেড় ফিট সাইজের ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিতে হবে। এরপর মেঝেতে কোনো কিছুর উপর রেখে চামড়ার উপরের অংশে গরম পানি ঢেলে সাথে সাথে স্ট্রিলের চামচ দিয়ে আঁচড় দিলে উপরের পশমগুলো উঠে যাবে। লোম উঠে যাবার পর চামড়ার নিচের অংশ পরিষ্কার করে ছোট ছোট টুকরা করতে হবে। ভালভাবে ধুয়ে গরম পানিতে সিদ্ধ করতে হবে।

সিদ্ধ হলে প্রয়োজনীয় মশলা দিয়ে গোশতের মত করে রান্না করতে হয়। একটি চামড়ায় ১০ থেকে ১৫ কেজি কিংবা এর থেকে বেশি পরিমাণ গোশত পাওয়া যায়। এছাড়া চামড়া দিয়ে হালিম, চটপটি ইত্যাদি রান্না করলেও তা মজাদার হয়। আর গরম চামড়া দিয়ে ভাত ও রুটি খাওয়া আরো মজাদার।

যারা চামড়া খান তাদের বক্তব্য হলো, একেক পশুর চামড়ার একের রকম স্বাদ। যদি চামড়া খাওয়ার সিস্টেমটাকে আত্মস্থ করা যায়, তাহলে বাসা-বাড়ী ও মাদরাসার বোর্ডিংগুলোতে অনেক দিনের তরকারীর সুন্দর ব্যবস্থা হতে পারে। সেই সাথে দেশের একটি সম্পদ নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে পারে। এবং আগামীতে চামড়ার ন্যায্য মূল্যও পাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া বড় মাদ্রাসাগুলো অন্য কারো দিকে চেয়ে না থেকে নিজেরা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে লাভবান হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেদিকে তাদের মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন