ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিসের ঈদ শুভেচ্ছা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভচ্ছো ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদশের আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহবে চরমোনাই এবং খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ শুভেচ্ছা জানান।
শুভেচ্ছা বার্তায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদশে-এর আমীর পীর সাহবে চরমোনাই এবাররে ঈদুল আযহায় সর্ব্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলনে, ইসলামে ফেতনা-ফাসাদ, হিংসা-বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। বরং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সত্যিকার মানুষরূপে গড়ে উঠার শিক্ষা ইসলাম দেয়। তাই একমাত্র ইসলামই পারে অশান্ত দুনিয়ায় শান্তির সুবাতাস জারি করতে।
পীর সাহেব বলেন, কুরবানীর ঐতিহাসিক শিক্ষা ও তাৎপর্য নিয়ে পবিত্র ঈদুল আযহা সমাগত। ঈদুল আযহা আমাদেরকে ত্যাগ ও কুরবানীর আদর্শে উজ্জীবিত করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে সবকিছু বিলীন করে দেয়ার চেতনা জাগ্রত করে ঈদুল আযহা।
সামাজিক বৈষম্য দূর করেসন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক, শোষণমুক্ত ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরবানী আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দেয়। ত্যাগ ও কুরবানীর মানসিকতা নিয়ে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে। আর এর মাধ্যমেই কেবল মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।
পীর সাহেব বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, চাকুরী-কর্ম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। আমফান ও বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বন্যায় আক্রান্ত পরিবারে ঈদের আনন্দের পরিবর্তে বিরাজ করছে বুকভরা বেদনা। এবারের ঈদুল আযহায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে অসহায় তিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। সেইসাথে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতবরণকারীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জল পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় পশু কুরবানীর মধ্য দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা করতে হবে। হযরত ইব্রাহীম ও ইসমাইল আ. এর কুরবানীর ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি স্মরণ করে মুসলমানরা আল্লাহর নির্দেশের কাছে নিজেদের সমর্পণের চেতনায় উজ্জীবিত হয়। কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সামর্থবান সবাইকে পশু কুরবানী দিতে হবে। কারণ কুরবানীকৃত পশুর রক্ত, গোস্ত কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, আল্লাহর কাছে পৌঁছে কেবল তাকওয়া। এই পশু কুরবানীর মধ্য দিয়ে মানুষ ও সমাজে বিরাজমান কুপ্রবৃত্তি ও পশুত্ব যাতে দূরীভূত হয় সে চেষ্টা করতে হবে।

খেলাফত মজলিসের নেতৃদ্বয় বলেন, সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ-উল- আযহা। আবার বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের তান্ডবের মধ্যেই বন্যার প্রকোপে দিশেহারা প্রায় ৩১টি জেলার মানুষ। বন্যাদুর্গত লাখো মানুষ দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। এ ভয়াবহ দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে এব বছরের ঈদ-উল-আযহা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সার্মথবান সবাইকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কুরবানী করতে হবে। এবং কুবানীকৃত পশুর গোস্ত দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

কুরবানীকৃত পশুর গোস্তে গরীবদের যে হক রয়েছে তা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পশুর চামড়ার হকদার গরীরা যাতে চামড়ার ন্যায্য মূল্য পায় সে জন্য সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। গত বছর কুরবানীল পশুর চামড়ার দাম পায়নি মানুষ। গত বছরের মত এবছর চামড়ার দাম নিয়ে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সতর্কতার সাথে পশু ক্রয় ও কুরবানীর কার্য সম্পাদন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শুভেচ্ছা বাণীতে নেতৃদ্বয় করোনার প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুবরণকারীদের জন্য গভীর সমবেদনা জানান এবং আক্রান্ত ও অসুস্থদের আশু সুস্থতা কামানা করেন। আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও মহান আল্লাহর সাহায্যের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর চলমান করোনা দুর্যোগ, বিশেষকরে বাংলাদেশের মানুষ করোনা ও বন্যার মহাদুর্যোগ উত্তরণে সক্ষম হবে।
সেইসাথে নেতৃদ্বয় বাংলাদেশের জনগণ ও মুসলিম উম্মাহসহ বিশ্ববাসীর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।