সিরিয়া : শরণার্থী শিবিরে দশম কুরবানির ঈদ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক:  উত্তরপশ্চিম সিরিয়া  ইদলিব প্রদেশের শরণার্থীরা এক মিশ্র অনুভূতি নিয়ে পালন করতে যাচ্ছে কুরবানির ঈদ। বাশার সরকার আর রাশিয়ার বোমা হামলা থেকে পালিয়ে নিজেরদের বাড়িঘর প্রিয়জন থেকে দূরে আরো একটি ঈদ কাটিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

গৃহযুদ্ধে এটা তাদের দশম বছরের ঈদ। ২০১১ সনে সিরিয়া গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা এভাবেই ঈদ করছেন।

তাছাড়া গোটা বিশ্ববাসী এখন করোনা মহামারিতে আতঙ্কিত। এ অবস্থায় সিরিয়াও তার অর্থনীতিকে আগের চেয়ে শক্তিশালী করতে চেষ্টা করছে । দীর্ঘ এক যুগের গৃহযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নানা নিষেধাজ্ঞা, দেশী নানা দুর্নীতি ইত্যাদির কারণে দেশের অর্থনীতি আগের চেয়ে অনেক অবনতিশীল।

অর্থনৈতিক কারণে অনেক সিরিয়ার নাগরিকই এবার কুরবানী করতে পারবেন না। তবে ঈদে কুরবানি গোশত তারা খাবেন তুরস্ক ও  আরও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার বিতরণ করা ত্রাণ থেকে।

‘আমরা আমাদের জীবিকা নির্বাহ করি প্রতি মাসে যে সাহায্য আসে সেগুলো দিয়ে। কোরবানির পশু তো অনেক দামি। ভেড়ার গোশত দূরের, মানুষ তো এখন মুরগির গোশতও খেতে পায় না।’ বলছিলেন নাসের দিদাহ, ইদলিবের নিকটে বসবাসরত এক শরণার্থী।

নূর মূসা বলছিলেন, আমাদের সাধারণ নাগরিকদের অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। ‘একটি পশুর দাম ২৫০০ লিরা। এই দামে আমাদের কেউ কুরবানী দিতে সক্ষম না,’ বলেন তিনি।

‘অনেকে আমরা কয়েক মাস ধরে গোশত খাই না। আমাদের একমাত্র ইচ্ছা এই যুদ্ধ বন্ধ হোক।’ যোগ করেন তিনি।

সিরিয়ার অধীন এলাকাগুলো দৈনিকই জিনিস পত্রের দাম বাড়ে। মানুষ দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। লোকজন সামাজিক এই অস্থিরতার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারে না। বিগত কয়েক সপ্তাহে সিরিয়ায় কারেন্সির মাণ কমেছে রেকর্ড পরিমাণ। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন চাল চিনি ওষুধ এগুলো তো পাওয়াও যায় না।

১১ বছরের এ যুদ্ধ সিরিয়ার অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বং স করে দিয়েছে। দেশের ৮০ভাগ লোক এখন দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করে।

ইদলিবের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয় গত ডিসেম্বরে যখন রাশিয়ার মদদপুষ্ট আসাদ সরকার প্রদেশটিতে হামলা করে।

‘মানুষের তো রুটি কিনে খাওয়ার জন্য অর্থ   নেই। তারা কুরবানীর পশু কিনবে কিভাবে?’ বলছিলেন হাসান আসসাফ, যিনি একজন কৃষক এবং পশু বিক্রেতা।

উত্তরপশ্চিম সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলো এমনিতেই লোকে লোকারণ্য। সেখানে ত্রাণ পৌঁছার পরিমাণ সামান্য। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা বিভাগগুলো মৌলিক সহায়তা দিতেই হিমশিম খায়।

এ সব এলাকার অবস্থা সহনীয় করে তোলার জন্য তুর্কী বিভিন্ন মানবিক সংস্থাগুলো নিয়মিত সাহায্য করে থাকে ইদলিবে। ডেরায় বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য তারা পাকা ঘর বানিয়ে দেয়।

কুরবানির সময় সামর্থ্যবান মুসলমানগণ কুরবানি করে থাকেন। কুরবানির গোশত তারা গরীব দু:খীদের মাঝে বিলিয়ে দেন। কুরবানির এ চেতনাকে ধারণ করে অনেক সংস্থা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মাঝে কুরবানির গোশত বিতরণ করে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় সিরিয়ার ইদলিবে তুরস্কের কিছু সংস্থা ঈদের সময় কুরবানির গোশত বিতরণ করে। ঈদের আনন্দে সিরিয়ার লোক এই সামান্য ত্রাণ ই আসল পুঁজি।

 

 

পূর্ববর্তি সংবাদরংপুরে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ১
পরবর্তি সংবাদপদ্মায় ভেঙ্গে পড়ল সরকারি বিদ্যালয়-কাম-সাইক্লোন শেল্টার