দিনাজপুর হিলি মাদরাসা: উত্তরবঙ্গে ইলমি ঐতিহ্যের অনন্য প্রতিষ্ঠান

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

জামিয়া ইসলামিয়া আজিজিয়া আনওয়ারুল উলুম। দেশব্যাপী বাংলা হিলি নামেও বেশ পরিচিত দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী এই ইসলামী বিদ্যাপীঠ।  উত্তরাঞ্চল, বিশেষত রংপুর বিভাগে ইসলামি আদর্শ ও দ্বীনি শিক্ষার বিস্তারে যে সকল মাদরাসা অবদান রেখে আসছে দিনাজপুর হিলি মাদরাসা তার অন্যতম। দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানায় অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে উত্তরাঞ্চলে ইলমে নববীর খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বাংলা হিলি নামের ঐতিহ্যবাহী এই ইলমী বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে। কুরআন-হাদীসের শিক্ষার প্রচার-প্রসারে তৎকালীন সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের ফেনী থেকে দিনাজপুরে আসেন আলহাজ্ব মাওলানা সাদেক ছাহেব রহ.। এখানে এসে রেল স্টেশন সংলগ্ন মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মাঝে নববী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ‘সবাহী (প্রভাতকালীন) মকতব’ চালু করেন।

আরো পড়ুন: বগুড়ার জামিল মাদরাসা: সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অনন্য প্রতিষ্ঠান

মাওলানা সাদেক ছাহেব রহ.-এর একান্ত ইচ্ছা, এলাকাবাসীর চাহিদা ও এ অঞ্চলে ইলম পিপাসুদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের তাগিদে ধীরে ধীরে হিলি গ্রামে প্রসারিত হতে থাকে মাওলানা সাদেক ছাহেব রহ.-এর সবাহী মকতক। কিতাব বিভাগের এক জামাত, দু’জামাত করে দরসে নেযামী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে আজ তা রূপ নিয়েছে উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া আজিজিয়া আনওয়ারুল উলুমে । যা হিলি মাদরাসা নামেও দেশব্যাপী সমানভাবে সমাদৃত।

মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা মোহতামিম আলহাজ্ব মাওলানা সাদেক ছাহেব রহ.-এর ইন্তেকালের পর দীর্ঘ ৫০ বছর মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা হারুন চৌধুরী ফটিকছড়ি (দা. বা.)। বয়োবৃদ্ধ মুখলিস এই বুযুর্গ বর্তমানে মাদরাসাটির ছদরে মোহতামিম। আর মোহতামিম হিসেবে মাদরাসা পরিচালনা করছেন মাওলানা শামছুল হুদা।

হিলি মাদরাসার শাহী মসজিদ- ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

দক্ষিণাঞ্চল থেকে দিনাজপুরে ইলমে নববী ছড়িয়ে দিতে আসা মনীষী আলহাজ্ব মাওলানা সাদেক ছাহেব রহ.-এর হাতে সবাহী মকতব থেকে শুরু হওয়া বর্তমানের বাংলাহিলি মাদরাসায় বর্তমানে ১১শ’ তালেবে ইলম দ্বীনী ইলম শিখছেন। এই তালেবে ইলমদের ইসলামের যোগ্য খাদেম হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিনিয়ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মাদরাসার স্নেহশীল ৪৬ উস্তাদ ও ১২ কর্মচারী।

মাদরাসার উস্তাদ ও দায়িত্বশীলগণের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি দেশ-জাতি ও উম্মাহের সেবায় গড়ে তুলছে  ইলমে ওহীর যোগ্য উত্তরসূরী মুখলিস আলেমদের।

মাদরাসাটি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মানুষের পাশে খেদমতে খলকের প্রেরণায় অংশগ্রহণ করে থাকে।

আরো পড়ুন: পোরশা মাদরাসা : উত্তরবঙ্গে ইলমি ঐতিহ্যের অনন্য প্রতিষ্ঠান

বিজ্ঞাপন