হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ., উম্মাহর মহান আধ্যাত্মিক চিকিৎসক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম ।।

দারুল উলূম দেওবন্দে শিক্ষাবর্ষের সমাপনী মাহফিল আসন্ন। এবার যারা প্রথাগত পড়াশোনা সম্পন্ন করেছে তাদেরকে আনুষ্ঠানিক দস্তারে ফযীলত প্রদান করা হবে। দস্তারে ফযীলত মানে সনদের সম্মানি পাগড়ি। মাহফিলে ফারেগীন ছাত্রদের পাগড়ি পরিয়ে দেবেন কুতুবুল ইরশাদ হযরত মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গোহী রহ.।

বিজ্ঞাপন

আসন্ন মাহফিল উপলক্ষ্যে দারুল উলূম জুড়ে সাজসাজ রব। বিশাল আয়োজন চলছে সর্বত্র। তালিবুল ইলমদের চলাফেরায়ও চাঞ্চল্য লক্ষ্যণীয়। কিন্তু ফারেগীন ছাত্রদের দেখা যাচ্ছে উস্তাদে মুহতারাম মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ.-এর কামরার দিকে ধীর-পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। তাদের সামনে তরুণ তালিবে ইলম মওলবী আশরাফ আলী।

উস্তাদের সামনে হাজির ছাত্ররা। সালাম শেষে সবার সামনে থাকা মওলবী আশরাফ আলী বিনীত কণ্ঠে আরয করল, হযরত! আমরা শুনেছি আমাদের দস্তারবন্দী করা হবে। সমাপনী সনদ দেয়া হবে। অথচ আমরা তো মোটেও এর যোগ্য নই! তাই এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেওয়া হোক। তা না হয় যদি এটা করা হয়, তাহলে মাদরাসার খুবই দুর্নাম হবে। মানুষ বলবে, এমন অপদার্থদের পাগড়ি প্রদান করা হয়েছে!

একথা শুনে মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ. আবেগদ্বীপ্ত হয়ে উঠলেন। বললেন, তোমাদের ধারণা ভুল। এখানে যেহেতু তোমাদের উস্তাদগণ আছেন, তাই তাদের সামনে তোমাদের নিজেদেরকে তুচ্ছ মনে হচ্ছে। আর এখন এমনটাই হওয়া উচিত। বাইরে যখন যাবে তখন তোমরা নিজেদের কদর বুঝতে পারবে। যেখানে যাবে, ব্যস তোমরাই থাকবে। আর বাকি ময়দান খালি পড়ে আছে।নিশ্চিন্ত থাকো।’

সেদিনের সেই তরুণ ছাত্র মওলবী আশরাফ আলীই হলেন হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ.। উম্মত যাকে হাকীমুল উম্মত ও মুজাদ্দিদুল মিল্লাত উপাধিতে ভূষিত করেছে। হাকীমুল উম্মত অর্থ উম্মাহর আধ্যাত্মিক চিকিৎসক। মুজাদ্দিদুল মিল্লাত মানে মিল্লাতের সংস্কারক। হযরত হাকীমুল উম্মত রহ. ছিলেন আমাদের এ আখেরী যুগে মহান সালাফ ও পূর্বসূরীদের অন্যতম শেষ প্রতিনিধি। উত্তরসূরীদের আস্থাভাজন রাহবার। তার জীবনচরিত আলোচনা করা সত্যি এক কঠিন বিষয়।

কী না ছিলেন তিনি। হাফেয, কারী, মুদাররিস, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, ওয়ায়েজ, সূফী, দার্শনিক, লেখক, গবেষক, আধ্যাত্মিক চিকিৎসক। সবই তিনি ছিলেন। তার শিক্ষা, তরবিয়ত, রচনা-লেখালেখি, ওয়াজ ও ইসলাহের বদৌলতে উপমহাদেশসহ সারাবিশ্বে বিশুদ্ধ আকীদার প্রচার হয়েছে। সঠিক মাসায়েলের আমল হয়েছে। বেদআত-কুসংস্কারের মূলোৎপাটন হয়েছে। নববী সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন হয়েছে। পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক মিথ্যাচারের সর্বোত্তম খণ্ডন হয়েছে। গাফেলরা সজাগ হয়েছে। ঘুমন্তরা জাগ্রত হয়েছে। পথহারারা পথের দিশা পেয়েছে। তাআল্লুক মাআল্লাহ-আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের মাহফিল উষ্ণ হয়েছে। হযরতের তালীম ও তরবিয়ত, সুলূক ও মারিফাত এবং তাসনীফ ও ইরশাদের মাধ্যমে এ শতাব্দিতে উম্মাহর যে অভাবনীয় খেদমত হয়েছে তা জানতে হলে হযরতের জীবনীগ্রন্থগুলো আমাদের অধ্যয়ন করতে হবে। আজ হযরতের ইন্তেকালের দিনে আমরা তার সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরছি।

জন্ম ও শিক্ষা

নাম আশরাফ আলী। উপাধি হাকীমুল উম্মত। ৫ রবিউস সানী ১২৮০ হিজরীতে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজাফ্ফরনগর জেলার থানাভবনে এক আল্লাহওয়ালা উচ্চবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। পিতার নাম আবদুল হক। পিতার দিক থেকে তিনি ফারুকী আর মাতার দিক থেকে আলবী ছিলেন। অর্থাৎ হযরত ওমর ফারুক এবং হযরত আলী রা.-এর বংশধর।

কুরআন শরীফ তিনি হাফেয হুসাইন আলী সাহেবের নিকট হিফয করেন। ফারসি এবং আরবির কিতাবসমূহ নিজ এলাকায় হযরত মাওলানা ফাতহ মুহাম্মাদ থানবী রহ. এর নিকট পড়েন। যিনি দারুল উলূম দেওবন্দের প্রথম দিকের ফারেগ ছিলেন। ১২৯৫ হিজরীতে ইলমে দ্বীনের তাকমীলের উদ্দেশ্যে দারুল উলূম দেওবন্দে ভর্তি হন এবং ১২৯৫ হিজরীতে ফারেগ হন। ফারাগাতের সময় তার বয়স ছিল মাত্রবিশ বছর।

তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের সোনালী যুগের তালিবে ইলম ছিলেন। উস্তাদ হিসেবে পেয়েছিলেন হযরত শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান রহ., মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ., মাওলানা সাইয়েদ আহমদ রহ., মাওলানা আবদুল আলী সাহেব রহ. -এর ন্যায় মনীষীগণকে। এছাড়া কেরাত শাস্ত্রের মশক তিনি বিখ্যাত কারী জনাব মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সাহেব মুহাজেরে মক্কী রহ.-এর নিকট মক্কা শরীফে করেছেন। ১৩০০ হিজরীতে হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গোহী রহ.-এর মুবারক হাতে তিনি দস্তারে ফযীলত (শিক্ষা সমাপনী সনদের পাগড়ী) লাভ করেন।

দরসদান

দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে প্রথাগত ফারাগাতের পর হযরত থানবী রহ. ১৩০১ হি. থেকে ১৩১৫ হি.পর্যন্ত কানপুর মাদরাসায়ে ফয়যে আমে ১৪ বছর দরস দান করেন। পাশাপাশি বয়ান, লেখালেখি এবং ফতোয়ার কাজের মাধ্যমে সেখানকার মুসলমানদের খেদমতে রত থাকেন। কানপুরের এ দীর্ঘসময়ে সহস্র তালিবুল ইলম হযরতের নিকট ইলম হাসিল করে। যাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে বিখ্যাত হয়েছিলেন।

আত্মশুদ্ধির পাঠ

বাহ্যিক ইলম থেকে ফারেগ হওয়ার পর তার অন্তরে আত্মশুদ্ধির স্পৃহা জাগ্রত হয়। ১৩০১ হিজরীতে তিনি বাইতুল্লাহর সফরে গেলে পবিত্র মক্কায় হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ.-এর হাতে বাইআত হন। ১৩১০ হিজরীতে ২য় বার হজে দীর্ঘ ছয়মাস হযরতের খেদমতে অবস্থান করেন। হযরত হাজী সাহেব রহ. -এর তাওয়াজ্জুহ, সোহবত ও তরবিয়তের বরকতে অল্পদিনেই হযরত থানবী রহ.তাসাওফ ও আত্মশুদ্ধির অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হন।

অবশেষে হাজী সাহেব রহ. তাকে খেলাফত প্রদান করেন। এবং ইরশাদ করেন, ‘মিয়া আশরাফ আলী, আমি দেখতে পাচ্ছি এযুগে আল্লাহ তাআলা তোমাকে সমকালীন সবার উপর বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।’

বিস্তৃত কর্মজীবন

১৩১৫ হিজরীতে হযরত হাকীমুল উম্মত থানবী রহ. আনুষ্ঠানিক তাদরীস ত্যাগ করে শায়খের ইশারায় জন্মস্থান থানাভবনে খানকায়ে ইমদাদিয়ায় অবস্থান গ্রহণ করেন। তারপর ইন্তেকাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৪৭ বছর মানুষের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত, নফসের ইসলাহ ও আত্মশুদ্ধি, বয়ান, রচনা, গবেষণা ও লেখালেখির এমন সুমহান খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যান, যার দৃষ্টান্ত এ যুগের অন্য কারো মধ্যে পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে আমরা নিজ থেকে কিছু বলার পরিবর্তে দুজন বরেণ্য মনীষীর উক্তি উল্লেখ করছি।

হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. এর ভাষায়, ‘হযরত মাওলানা আশরাফ আলী সাহেব থানবী রহ. কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রকৃত অর্থেই ‘হাকীমুল উম্মত’ বা উম্মাহর প্রাজ্ঞ চিকিৎসক বানিয়েছিলেন। মুসলিম জাতির কল্যাণ ও হিতকামনা, সাফল্য ও সমৃদ্ধির ভাবনা তাঁর স্বভাব এবং অস্থি-মজ্জায় মিশে গিয়ে সিংহভাগ জীবনের অপরিহার্য ব্যস্ততা হয়ে গিয়েছিল।

চতুর্দশ শতাব্দীর ঠিক শুরুর সময়টা ছিল তাঁর ইসলাহ ও সংস্কারমূলক কর্মসাধনার সূচনাকাল। ১৩০১হিজরী সনে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে উলূমে দ্বীনের শিক্ষা সমাপনী সনদ এবং যামানার ইমাম ও কুতুবদের হাতে দস্তারে ফযীলত লাভ করেন। দরস ও ফতওয়ার কাজ তো দারুল উলুম থাকতেই আসাতেযার তত্ত্বাবধানে শুরু হয়ে গিয়েছিল। ফারাগাতের পর স্বতন্ত্রভাবে কানপুরে অবস্থান করে দরস ও ফতওয়ার পাশাপাশি তাবলীগ ও ইরশাদ, রচনা ও তাসনীফের ধারাবাহিকতা, তাজদীদী জযবা এবং সংস্কার প্রেরণায় আরম্ভ করেন।

দ্বীনের প্রতিটি বাধা-প্রতিকূলতার প্রতি সতর্র্ক দৃষ্টি এবং তার ইসলাহ ও সমাধানের চিন্তা, উম্মতের সকল প্রয়োজনের অনুভূতি এবং তার যথাযথ ও সহজ ব্যবস্থা আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তরে দান করেন। কানপুরে অবস্থানের পুরো পনের বছরে তাঁর এসকল অবদান দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে যায়। তারপর খোদায়ী আকর্ষণের টানে খালেস উম্মতের ইসলাহ এবং ইরশাদের আকাঙ্ক্ষা তাঁর মাঝে প্রবল হয়।

১৩১৫ হিজরী সনে তিনি কানপুরের যিম্মাদারি ছেড়ে থানাভবনে বসবাস আরম্ভ করেন এবং মানুষের খেদমত ও ইসলাহের যত শাখা হওয়া সম্ভব; তার সবগুলোতে এবং সমস্ত পন্থায় একা এককভাবে এমন যুগান্তকারী খেদমত আঞ্জাম দেন, বড় বড় সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠান মিলে যার এক দশমাংশও করতে অক্ষম।’

হযরত মাওলানা সাইয়েদ সুলাইমান নদভী রহ. বলেন, ‘‘উম্মাহর ইসলাহ ও সংশোধন প্রচেষ্ঠায় ইলমী ও আমলী জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার সজাগ দৃষ্টি ছিল। শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, মূর্খ-জ্ঞানী, জাহিল-আলিম, সাধারণ-সূফী, পীর-দরবেশ, ধনী-গরিব সবার দিকে তার ইসলাহ ও তরবিয়তের দৃষ্টি ছিল। জন্ম, বিয়ে-শাদী, আনন্দ-দুঃখ ও অন্যান্য প্রথা ও অনুষ্ঠানগুলোর রীতিনীতির প্রতিপ র্যন্ত তার চোখ থাকত। শরীয়তের নিক্তিতে যাচাই করে একে একে প্রতিটি বিষয়ের খড়কুটো আলাদা করে দিয়েছেন। কুপ্রথা, কুসংস্কার এবং সকল অনাচারের জগদ্দল পাথরকে হটিয়ে সীরাতে মুসতাকীমের পথ দেখিয়েছেন।

তাবলীগ, তালীম, রাজনীতি, জীবনাচার, সমাজনীতি, স্বভাব ও গুণাবলি এবং বিশ্বাস ও আকীদার মধ্যে বিশুদ্ধ দ্বীনের মাপকাঠিতে যেখানেই অসঙ্গতি-অসম্পূর্ণতা নজরে এসেছে, তার ইসলাহ করেছেন। ফিকহের নিত্য-নতুন মাসাইল এবং মুসলমানদের নতুন নতুন সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে নিজে পুরো ব্যবস্থা প্রস্তুত করে দিয়েছেন। এবং বিশেষকরে ইহসান ও সুলূক যার প্রসিদ্ধ নাম তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধি- তার সংস্কার করেছেন।

তার সম্মুখে দ্বীনের যথাযথ চিত্র ছিল। যার আলোকে মুসলমানদের বর্তমান জীবনের ছবিতে যেখানে যেখানে অসম্পূর্ণতা ছিল তার সংস্কারে জীবনভর ব্যস্ত থেকেছেন। গোটা জীবন তিনি এ কাজে উৎসর্গ করেছেন, যেন মুসলমানদের জীবনচিত্রকে সত্য দ্বীনের ছবির সদৃশ বানিয়ে দেন।’’

রচনাবলি

হযরত থানবী রহ. আমাদের বুযুর্গদের মধ্যে অধিক রচনার অধিকারীদের অন্যতম। বরং ইসলামী ইতিহাসের অধিক রচনাবলির অধিকারী মুসান্নিফদের তালিকায় হযরতের নামও উঠে আসবে। দেশ-বিদেশের অগণিত সফর, হাজারো মানুষের ইসলাহ ও সংশোধনের মধ্যেও হযরত থানবী রহ. দ্বীনী রচনা ও লেখালেখির যে বিশাল ভাণ্ডার রেখে গিয়েছেন তা এক আশ্চর্যকর ঘটনা। হযরতের রচনাবলির সংখ্যা এক হাজারেরও অধিক। দ্বীনে ইসলামের এমন কোন উল্লেখ্যযোগ্য অঙ্গন নেই যার ওপর হযরতের লেখালেখি বিদ্যমান নেই।

শায়খুল ইসলাম হযরত মুফতী মুহাম্মাদ তকী উসমানী দা.বা. হযরত থানবী রহ.-এর যেসব কিতাব প্রয়োজন পরিমাণ দ্বীনী ইলম শেখার জন্য অধ্যয়নের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, সেগুলোর নাম এখানে দেয়া হলো-

১. হায়াতুল মুসলিমীন ২. ফুরূউল ঈমান ৩. তালীমুদ্দীন ৪. বেহেশতি গাওহার (পুরুষদের জন্য) ৫. বেহেশতি জেওর (নারীদের জন্য) ৬. জাযাউল আমাল ৭. শরীয়ত ও তরীকত।

ইন্তেকাল

হযরত হাকীমুল উম্মত থানবী রহ.-এর ন্যায় মানুষ হাজার বছরে একজন জন্ম লাভ করে। কিন্তু তাদের জীবন, কর্ম, ইখলাস, অবিচলতা, এবং যুহদ ও তাকওয়া দ্বারা প্রজ্বলিত মশালগুলো শতাব্দির পর শতাব্দি ভবিষ্যত প্রজন্মকে সত্যপথের দিশা দিয়ে যায়। শেষজীবনে কয়েক মাস শয্যাশায়ী থাকার পর ২০ জুলাই ১৯৪৩ ঈ. মোতাবেক ১৬ রজব ১৩৬২ হিজরীতে হযরত ইন্তেকাল করেন। থানাভবনে হযরতের ওয়াকফকৃত জমিতে ‘কবরস্তানে ইশকে বাযাঁ’ তে তাকে সমাহিত করা হয়।

অমূল্য বাণী

সবশেষে হযরতের কিছু মূল্যবান বাণী দিয়ে লেখাটি শেষ করছি-

* ‘গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় হল, প্রথমে নিজে হিম্মত করবে। পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার কাছে হিম্মত প্রার্থনা করবে। আর আল্লাহর প্রিয় বান্দাদেরকে দিয়েও দোআ করাবে। ইনশাআল্লাহ গুনাহ থেকে বাঁচার হিম্মত অবশ্যই হয়ে যাবে।

* বন্ধুরা! কামিয়াবি ও সফলতার দুটি চাকা। এক নিজের হিম্মত। দুই বুযুর্গদের দোআ। এ দুই চাকা দিয়ে (জীবনের) গাড়ি চালাও।’ (কামালাতে আশরাফিয়া ৫২)

*  ‘শয়তানকে গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট করার জন্য আরেক শয়তান আসেনি, বরং এই নফস (মন্দ আত্মা)-ই ছিল। যে তাকে ইবলিস বানিয়েছে।’ (কামালাতে আশরাফিয়া ৪৫)

* ‘ইসলাহ ও সংশোধনের জন্য আসল জিনিস হলো সোহবত ও সান্নিধ্য। আল্লাহর ওলীগণ সর্বদা সোহবতের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম যা কিছু পেয়েছেন সোহবতের বদৌলতেই পেয়েছেন।

* ‘বুযুর্গদের সান্নিধ্য দ্বারা যদি পুরোপুরি ইসলাহ-সংশোধন নাও হয়, তবুও অন্তত নিজের দোষ-ত্রুটির প্রতিনজর পড়তে থাকে। এটাও যথেষ্ট এবং এ পথের চাবিকাঠি।’

* ‘যে ছোট্ট জিনিসটি তাসাওউফ বা আত্মশুদ্ধির সারনির্যাস, তা হলো- যে ইবাদতে অলসতা হয়, অলসতার মোকাবেলা করে সেই ইবাদতটি করবে। আর যে গুনাহের প্রতি আগ্রহ হয়, আগ্রহের বিরোধিতা করে সে গুনাহ হতে বেঁচে থাকবে। এ গুণ যার অর্জন হয়ে যাবে তার আর কিছুরই প্রয়োজন নেই। কারণ এটাই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টিকারী এবং এটাই সে সম্পর্কের হেফাযতকারী এবং এটাই তাকে বৃদ্ধিকারী।’

(সূত্র:হায়াতে আশরাফ, তারীখে দারুল উলূম দেওবন্দ, পঁচাস জালীলুল কদর ওলামা প্রভৃতি)