লকডাউনের মধ্যে ১২ বছরের শিশুর বই রচনা

নূরুদ্দীন আজিম ।।

সারা পৃথিবীর কোটি কোটি শিক্ষার্থী এখন করোনাভাইরাস এর কারণে চলমান লকডাউনে নীল ডাউন হয়ে বাড়িতে বসে আছে। চার মাস পেরিয়ে গেছে। সারা দুনিয়াটাতেই এখন হোম কোয়ারেন্টিন। শোনা যাচ্ছে, এ অবস্থা চলবে আরও অনেকদিন। কতদিন চলবে সে কথা কেউ জানে না। কিন্তু এই অনির্দিষ্টকাল ধরে ঘরে বসিয়ে রাখলে বাচ্চাকাচ্চাদের লেখা পড়ার কী হবে?

বিজ্ঞাপন

এ আশংকা প্রায় সব অভিভাবকের। কিন্তু যারা সত্যিকার পড়াশোনা করার মানুষ, তাদের জন্য স্কুল-মাদরাসা খোলা বা বন্ধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যারা সময়কে কাজে লাগাতে চায়, যারা কিছু পড়তে চায়, সৃজনশীল কিছু করতে চায়- তাদের জন্য এ লকডাউন এক মহা নেয়ামত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এক্ষেত্রে শুধু যে বয়সে বড়রাই নজির সৃষ্টি করেছে তা নয়; ছোটরাও অনেক অসাধ্য সাধন করে যাচ্ছে। তেমনই একটি ঘটনা হলো পাকিস্তানের ১২ বছর বয়সী বেলাওলের।

পাকিস্তানের উত্তর উজিরিস্তানে অবস্থিত মিরানশাহ জেলার এ কিশোর এবারের লকডাউনে বই লিখে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করে ফেলেছে। সবেমাত্র সপ্তম শ্রেণীতে পড়া বিলাওল লতিফ ‘পাশতুন হিরোস’ নামে তার জীবনের প্রথম বইটি লিখে ফেলেছে। ৭০ পৃষ্ঠার এ বইতে তিনি রাজনীতি, শিক্ষা এবং সাহিত্যে তার স্বজাতি পাখতুন মনীষীদের অবদান তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় একটি আর্মি পাবলিক স্কুলের ছাত্র বিলাওল বলেন, স্কুলে হোস্টেলে থাকাকালীন পড়াশোনা, খেলাধুলার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের পরিচর্যারও গুরুত্ব দেওয়া হতো। তখন তিনি বিভিন্ন বই পড়তেন।

কিন্তু বিশ্বব্যাপী মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি ব্যক্তিগত পড়াশোনার বড় একটা সুযোগ পান। নিজের যোগ্যতাকে ঝালিয়ে নেওয়ারও একটা অবসর পেয়ে যান। আর তাই বেলাওল পাখতুন মহা মনীষীদের জীবনী সম্পর্কে বই লেখার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের ‘গবেষণা’, পিতামাতা ও শিক্ষদের পরামর্শ এবং বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থের সহযোগিতায় এই বইটি রচনা করেন। বেলাওল এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, পৃথিবীর সকল অঙ্গনে মহান পাখতুন মনীষীরা রয়েছেন। যারা তাদের প্রতিভাকে সুন্দর উপায়ে ব্যবহার করেছেন।

কিশোর বিলাওল তার বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলেছেন,  তারা যেন করোনার এই লকডাউনে নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে। বরং এই সুযোগে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে অগ্রসর হয়।

বিলাওল তার বই সম্পর্কে বলেন, ৭০ পৃষ্ঠার এই বইয়ে বাদশাহ, সেনাপ্রধান, সুফি সাধক, কবি-সাহিত্যিক সহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বইয়ের সূচনা করেছেন আফগান বাদশাহ আহমদ শাহ দুররানী, শের শাহ শূরী, ইবরাহীম লুধীর আলোচনা দ্বারা। এমন আরো অনেক বরেণ্য মনীষীদের গল্প তিনি এই বইয়ে করেছেন।

এই কিশোর তার পরবর্তী প্ল্যানও স্থির করে ফেলেছেন। বেলুচিস্তান ও সেখানকার অধিবাসীদের নিয়ে তিনি আরেকটি পুস্তক রচনার কাজে ইতিমধ্যে হাত দিয়েছেন।

এই লকডাউনের মাঝে বইটি প্রকাশ করার কারণ স্বরূপ বেলাওল বলেছেন, যেন তার সমবয়সীরা উৎসাহ পায় আর বাসায় বন্দী হয়ে কাটানো সময়গুলোতে যেন তারা ভালো কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হয়।

সূত্র: ডেইলি জং

বিজ্ঞাপন