আয়া সোফিয়ার মসজিদে প্রত্যাবর্তন, ইতিহাস ও ইসলামের আয়না

মাওলানা সাঈদ হুসাইন ।।

খৃস্টীয় পঞ্চম শতাব্দী থেকে খৃস্টান জগত বড় বড় দুটি সাম্রাজ্যে বিভক্ত ছিল। একটি ছিল পাশ্চাত্যে। যার প্রধান কেন্দ্র ছিল রোম (ইতালি)। ইউরোপের বেশির ভাগ অঞ্চল এর অধীনে ছিল। অপরটি ছিল প্রাচ্যে। কন্সট্যান্টিনোপল তার রাজধানী। বলকান, গ্রীস, এশিয়া মাইনর, সিরিয়া, মিসর ও ইথিওপিয়া প্রভৃতি দেশসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। মহান মুজাহিদ সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ (রহ.) এর হাতে ৮৫৭ হিজরীতে কন্সট্যান্টিনোপল বিজয়ের আগ পর্যন্ত ‘আয়া সোফিয়া’ ছিল খৃস্টানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম তীর্থস্থান।

বিজ্ঞাপন

রোমকেন্দ্রিক পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যটি ছিল রোমান ক্যাথলিকদের। তাদের গীর্জাকে বলা হত রোমান ক্যাথলিক চার্চ। আর প্রাচ্যের সাম্রাজ্যের গীর্জাকে বলা হত দি হলি আর্থোডক্স চার্চ। আয়াসোফিয়া ছিল আর্থোডক্স চার্চের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র। প্রধান পেট্রিয়ার্ক (بطريق) এখানেই অবস্থান করতেন। এসব কারনে অর্ধেক খৃস্টান জগত এই গীর্জাকে পবিত্র উপাসনালয় গণ্য করতো। রোম ও কন্সট্যান্টিনোপলের গীর্জাদ্বয়ের মধ্যে আয়া সোফিয়া অধিক প্রাচীন হওয়ায় আর্থোডক্স খৃস্টানদের নিকট তা ছিল স্বতন্ত্র মর্যাদা ও পবিত্রতার প্রতীক।

৩৬০ খৃস্টাব্দে রোমের প্রথম খৃস্টান সম্রাট ‘কন্সট্যান্টিন’ এই স্থানে কাঠের তৈরী একটি গীর্জা নির্মাণ করেন। ৪০৪ খৃস্টাব্দে এর ছাদ আগুনে পুড়ে যায়। ৪১৫ সালে সম্রাট থিওডোসিওস এর পুনর্নিমাণ করেন। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে গীর্জাটি আবার অগ্নিদগ্ধ হলে সম্রাট ‘জাস্টিনাইন’ ৫৩২ খৃস্টাব্দে গীর্জা পাকা করার সিদ্ধান্ত নেন। দশ হাজার রাজমিস্ত্রীর পাঁচ বছর দশ মাসের ধারাবাহিক পরিশ্রমে নির্মাণকাজ পূর্ণতা পায়। এ নির্মাণকাজে বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের নামিদামি মর্মর পাথর ও উৎকৃষ্টতম মশলা ব্যাবহার করা হয়। সম্রাট এতে দশ লাখ পাউণ্ড ব্যয় করেন। এছাড়াও সমগ্র বিশ্বের গীর্জাগুলো এর নির্মাণ কাজে অনেক দুর্লভ উপহার পাঠায়।

গির্জা থেকে মসজিদ

প্রায় এক হাজার বছর পর্যন্ত এই গীর্জা সমগ্র খৃস্ট জগতের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্ররূপে ব্যবহৃত হয়েছে। এই আয়া সোফিয়া ছিল একদিকে খৃস্টান বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মশালা অপরদিকে ক্রুসেডারদের রাজনৈতিক ঘাঁটি। মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ক্রুসেড যুদ্ধ পরিচালনার যাবতীয় নীলনকশা এখানেই করা হত।

মহান মুজাহিদ সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ্ (রহ.) যখন (২০-৫-৮৫৭হি/২৯-৫-১৪৫৩খৃ) কন্সট্যান্টিনোপলে আক্রমন করেন এবং যুদ্ধে বাইজেন্টাইনরা পরাস্ত হয় তখন সেখানকার জনগণ ও পাদ্রীরা সকলে হুড়োহুড়ি করে জীবন রক্ষার্থে আয়াসোফিয়ায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। তাদের ধর্মের আদি-বিশ্বাস ছিল, এই গীর্জা কখনই তাদের হাতছাড়া হবে না। আসমান থেকে তরবারী হাতে ফেরেশতা অবতীর্ণ হবে। তুর্কীরা পলায়ন করবে এবং তাদেরকে ইরান সীমান্ত পর্যন্ত তাড়িয়ে দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন: যুগে যুগে দেশ দখলের পর খৃস্টানরা অন্যদের ইবাদতখানা কী করত!

কিন্তু মুসলিম সেনারা ততক্ষণে আয়া সোফিয়ার ফটক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তখন কোনই ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়নি। প্রতীক্ষিত সেই অদৃশ্য সাহায্যও আসেনি। অবশেষে সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ রহ. তাদের এই কুসংস্কার ও মিথ্যা-বিশ্বাস ভুল প্রমাণ করেন। আয়া সোফিয়ার পতন হয়। মুজাহিদ বাহিনী আয়াসোফিয়াতে জোহরের নামাজ আদায় করেন। এর মাধ্যমে আয়াসোফিয়ার দীর্ঘ এক হাজার বছরের গীর্জার ইতিহাস সমাপ্ত হয়।

সুলতান আয়াসোফিয়া গীর্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। এর প্রাচীর থেকে ছবিগুলো ইসলামী ক্যালিগ্রাফি দিয়ে ঢেকে দেন। মেহরাব কেবলার দিকে করে দেন। মিনারের সংখ্যা বৃদ্ধি সহ যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে একে পূর্ণাঙ্গ মসজিদে রূপ দান করেন। তখন থেকে এর নামকরণ করা হয় ‘আয়া সোফিয়া জামে মসজিদ’। সূচনা হয় আয়া সোফিয়ার নতুন অধ্যায়। মিনারে বাজতে থাকে ‘আযানের ধ্বনি’।

সেদিন সুলতান মুহাম্মাদ বিজয়ীবেশে আয়া সোফিয়াতে প্রবেশের পর ঘোষণা করেছিলেন :

انهضوا .. لا تخشوا بعد هذه اللحظة على حياتكم ولا على حريتكم

‘যাও, এখন থেকে তোমাদের জীবন ও তোমাদের স্বাধীনতা নিয়ে ভয় করো না।’

(সূত্র: আখবারুদ দুওয়াল ওয়া আসারুল উয়াল ফিত তারিখ : আহমদ বিন ইউসুফ কিরমানী : ৩/৩১; সুকুতুল কুসতিনতিনিয়্যাহ, রোন্সম্যান স্টিভেন কৃত  পৃ. ৪৯ , তারীখুত দাওলাহ আলউলিয়্যাহ আল উছমানিয়্যাহ : মুহাম্মাদ ফরীদ বেগ পাশা : ১৬৫; তারিখুদ দাওলাতিল উছমানিয়্যাহ, ইলমাজ অজতোনা কৃত : ১/১৪০ ; সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ, আলী সাল্লাবী কৃত পৃ. ১১১ , কিসসাতুল হাযারাহ, উইলিয়াম জেমস কৃত : ১২ নং খন্ড)

মসজিদ থেকে জাদুঘর 

কালের আবর্তে সময়ের গতি-প্রকৃতি বদলাতে থাকে। পরিবর্তন আসে খেলাফতের মসনদে। উসমানী খেলাফতের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অযোগ্য আর গাদ্দারদের পালাবদলের পাশাপাশি শুরু হয় বিজাতীদের কঠিন ষড়যন্ত্র। অবশেষে ১৯২১ সালে আবির্ভাব হয় সেক্যুলার কামাল পাশার।  তুরুস্কের ক্ষমতা দখল করে কামাল পাশা একের পর এক ইসলাম ও মুসলিম জাতির গলায় ছুরি চালাতে থাকে। ১৯২৩ সালে শত শত বছরের ইসলামী খেলাফত বিলুপ্ত ঘোষণা করে। মসজিদ-মাদরাসার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। শুদ্ধি-সংস্কারের নামে গোটা তুর্কি জাতির উপর পাশ্চাত্য সভ্যতা চাপিয়ে দেয়। অবশেষে ১৯৩৫ সালে  অন্যায়ভাবে ‘আয়া সোফিয়াকে’ জাদুঘর ঘোষাণা করে কামাল পাশা । এতে দীর্ঘ পাঁচশত বছরের একটি মসজিদের ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটে।

আরো পড়ুন: ‘ভবিষ্যতে হয়তোবা তারা আল-আকসাকেও জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্ভট দাবি জানাবে’

২০০২ সালে তুরুস্কের রাজনীতিতে একে পার্টির উত্থান হয়। এরদোগানের হাত ধরে এগিয়ে যেতে থাকে তুরস্ক । সমগ্র দেশজুড়ে আনা হয় ব্যাপক পরিবর্তন। ইসলামী ঐতিহ্যগুলো তিনি আবার ফিরিয়ে দেন তুরুস্ককে। অবশেষে তাঁর দেশের আদালত বিশ্ব মোড়লদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে গত শুক্রবার ১০ জুলাই ‘আয়া সোফিয়াকে’ মিউজিয়াম থেকে মসজিদে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ৮৫ বছর পর মুসলিম জাতি পুনরায় ফিরে পায় তাদের আয়া সোফিয়াকে। আজ থেকে আয়া সোফিয়ার মিনারে আবার ধ্বনিত হবে পবিত্র আযান।

গির্জা থেকে মসজিদে রূপান্তর, ইসলামি দৃষ্টিকোণ

কোন দেশ বা ভূখন্ড জয় করার পর সেখানকার ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়ত ইনসাফপূর্ণ নীতি বাতলে দিয়েছে। যদি কোন ভূখন্ড মুসলিমরা সন্ধির মাধ্যমে জয় করে এবং সেখানে উপসনালয় ও বিশেষ স্থানগুলোর ব্যাপারে কোন সন্ধিচুক্তি হয়ে থাকে তাহলে মুসলিমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। (দ্র: শরহুস সিয়ারিল কাবীর ১/১৫৩১)  সন্ধিচুক্তির ভিত্তিতেই শাসনকার্য পরিচালনা করা হবে। ইতিহাসে এ প্রকারের অসংখ্য উদাহরণ বিদ্যমান। তবে এখানে আমরা পাঠকের সামনে দুটি উদাহরণ তুলে ধরছি।

১) দামেস্কের জামে উমাভী : রোমানদের রাজত্বকালে এখানে খৃস্টানদের একটি গীর্জা ছিল। হযরত উমরের শাসনকালে মুসলিম মুজাহিদ বাহিনী যখন দামেস্ক আক্রমণ করেন তখন অর্ধেক শহর যুদ্ধের মাধ্যমে শক্তি দ্বারা বিজয় হয়। কিন্তু প্রায় অর্ধেক শহর জয় হলে শহরের অধিবাসীরা অস্ত্র সমর্পন করে মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি করে। ফলে অবশিষ্ট অর্ধেক সন্ধির মাধ্যমে জয় হয়। ঘটনাচক্রে ঐ গীর্জার অর্ধাংশ যুদ্ধ দ্বারা এবং অপর অর্ধাংশ সন্ধির মাধ্যমে জয় হয়েছিল। ফলে শরিয়ত প্রদত্ত্ব অধিকারের ভিত্ত্বিতে অর্ধেকে মুসলমানরা মসজিদ নির্মাণ করেন আর সন্ধিচুক্তি অনুপাতে বাকি অর্ধাংশ গীর্জারূপেই বহাল রাখা হয়।

আরো পড়ুন: আন্তর্জাতিক নয়, আয়া সোফিয়া তুরস্কের জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দামেস্ক বিজয়ের অনেক দিন পর্যন্ত এভাবেই মসজিদ আর গীর্জা একসাথে অবস্থান করে। ওলীদ বিন আব্দুল মালিকের যুগে মুসল্লির সংখ্যা বেশি হওয়ায় মসজিদ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। খলীফা ওলীদ চাচ্ছিলেন, গীর্জার অংশটুকুও মসজিদে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কিন্তু ইসলামী শরিয়তের সন্ধিনীতি অনুযায়ী গীর্জা ঠিক রাখতে বাধ্য ছিলেন। তিনি গীর্জার দায়িত্বশীলদের ডেকে এর ইচ্ছামত মূল পরিশোধ করার প্রস্তাব করেন এবং শহরের অন্য অংশে যেখানে মুসলমানরা শক্তি বলে জয় করেছে সেখানকার চারটি গীর্জা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রদান করেন। খৃস্টানরা সম্মত হলে তখন গীর্জার অংশটুকু মুসলিমদের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। তারপর খলীফা ওলীদ বিন আ. মালেক উভয় অংশ একত্রিত করে বিশাল জামে উমাভীর রূপ দেন। (সূত্র: তারিখে দিমাশক ২/২৫৪, ২/৩৫৭, ৫৯/১০৬)

২) কর্ডোভা জামে মসজিদ : বর্তমান স্পেনের কর্ডোভা জামে মসজিদের স্থানে রোমান মূর্তিপূজারীদের শাসনকালে একটি উপসনালয় ছিল। যখন স্পেনে খৃস্টবাদ বিস্তার লাভ করে তখন এটিকে ভেঙ্গে গীর্জা নির্মাণ করে। মুসলমানরা যখন কর্ডোভা জয় করেন তখন হুবহু দামেস্কের জামে উমাভীর ন্যায় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সন্ধির শর্ত অনুপাতে অর্ধেক গীর্জা আর অর্ধেক মসজিদ করা হয় এবং এভাবেই চলতে থাকে একসাথে বহুদিন।

কিন্তু কর্ডোভাকে যখন মুসলিম বিশ্বের রাজধানী বানানো হয় স্বাভাবিকভাবেই তখন এই আধা মসজিদে নামাজিদের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। অবশেষে আ. রহমান আদদাখেলের শাসনকালে মসজিদ সম্প্রসারণের বিষয়টি সামনে আসে। সন্ধির শর্ত অনুযায়ী শরিয়তের নীতি মোতাবেক তিনি খৃস্টানদের সম্মতি ছাড়া এ অর্ধেককে মসজিদে রূপান্তর করতে পারছিলেন না। তখন আব্দুর রহমান আদ-দাখেলের সাথে গীর্জার দায়িত্বশীলদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত হয় যে, মুসলমানদের অধীনস্ত শহরগুলোতে দখলকৃত গীর্জাগুলো পুনঃনির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হবে এর বিনিময়ে তারা এই গীর্জার অংশটুকু ছেড়ে দেবে। শর্ত পূরণ করা হয় এবং সুলতান আব্দুর রহমান বিস্তৃত ভূমিতে নতুন করে জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। (সূত্র: নফহুত তীব ফি গুছনুল আন্দালুস আর রতীব, শিহাবুদ্দীন মুকরী কৃত ২/৭২)

আরো পড়ুন: ১৯৩৪ সনে আয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করা অবৈধ ছিল: তুর্কী আদালত

পক্ষান্তরে যদি কোন ভূখন্ড মুসলিমরা নিজ শক্তির মাধ্যমে সন্ধিহীনভাবে জয় করে তখন ঐ দেশের প্রতি তাদের পূর্ণ অধিকার চলে আসে। দেশের নাগরিকদের সুবিধা মোতাবেক মুসলমানরা শরিয়তের সীমায় থেকে ইচ্ছামত শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে। বিশেষ কোন কল্যাণের চিন্তা করে বিরোধীদের মন্দির-গীর্জা ধ্বংস বা রূপান্তর করতে পারে। সামরিক ‍দৃষ্টিকোণ থেকে এতে কোন সমস্যা নেই। 

উদাহরণ স্বরূপ

৩) এখানে আমরা পাঠককে শুধু মক্কাবিজয়ের ইতিহাসটিই স্মরণ করিয়ে দিব। মক্কা বিজয়ের জন্য রাসুল সা. সাহাবায়ে কেরামকে সাথে নিয়ে মদীনা থেকে এসেছিলেন। মক্কা বিজয়ের পর রাসূল সা. পবিত্র কাবাঘর থেকে সমস্ত মূর্তি অপসারন করে কাবাকে পবিত্র করলেন। মসজিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। ইসলামী শরিয়তের এ সংক্রান্ত নীতিমালা জানার জন্য এই কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে : শরহুস সিয়ারিল কাবীর : ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ সারখসী রহ. (মৃত্য ৪৮৩হি.) : (باب مالا يكون لاهل الحرب من احداث الكنائس) :  ১/১৫৩১; কিসসাতু আন্দালুস মিনাল ফাতহি ইলাস সুকুত : ড. রাগেব সারজানী : ৫৬৬-৫৬৯

আরো পড়ুন: ৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় আজান শুনতে পেয়ে খুশিতে মেতে উঠে তুর্কিরা

আমরা সকলে জানি যে, মহান সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ কন্সট্যান্টিনোপলে হামলা শুরুর আগে ১৫-৫-৮৫৭হি/২৪-৫-১৪৫৩ খৃষ্টাব্দে বাইজেন্টাইন সম্রাটের নিকট এ মর্মে পত্র প্রেরণ করেন যে, তিনি যেন অস্ত্র সমর্পন করেন। সম্রাট তাঁর প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করেননি। ফলে সুলতান ফাতিহ (২০-৫-৮৫৭হি/২৯-৫-১৪৫৩খৃ) তারিখে আক্রমণ শুরু করেন। তো এই বিশাল ভূখন্ড মুসলিম জাতি জিহাদের মাধ্যমে লাভ করেছে, কোন সন্ধির মাধ্যমে নয়। তাই এই ভূখন্ডের প্রতিটি কণার উপর মুসলিমদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এই দেশের ধর্মীয় স্থাপনার উপর তাদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রন ও একচ্ছত্র অধিকার বিদ্যমান। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সুলতান বা খলীফা যে কোন ব্যাপারে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। নৈতিক ও সামরিক দৃষ্টিতে এতে কোন প্রকারের বাধা নেই।

আরো পড়ুন: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের ঐতিহাসিক রায়

(সুলতান মুহাম্মাদ আলফাতিহ রহ. আয়া সোফিয়াকে কেন মসজিদে রূপান্তর করেছিলেন- এ বিষয়ে সামনের লেখায় আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। )

বিজ্ঞাপন