কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লাশ মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন প্রসঙ্গ, ইসলাম ও কাদিয়ানী দৃষ্টিকোণ

মাওলানা আহমদুল্লাহ বিন রূহুল আমীন ।।

অতি সম্প্রতি বিবাড়িয়ায় একটি কাদিয়ানী শিশুর লাশ কবর থেকে উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে । কে বা কারা লাশটি কবর থেকে তুলে কবরস্থানের পাশে ফেলে রেখেছে তা এখনো নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। মহল্লাবাসী অনেকের অভিযোগ, কাজটি কাদিয়ানীরাই মুসলমানদেরকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে করেছে। কাদিয়ানীদের অভিযোগ, কাজটি মুসলমানরা করেছে। তবে কারো কাছেই সুনিশ্চিত কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যারাই এ কাজটি করেছে তারা অন্যায় করেছে। তবে এরচে বড় অন্যায় হলো এক সম্প্রদায়ের লাশকে অন্য সম্প্রদায়ের কবরস্থানে দাফন করা। যার মাধ্যমে সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাটি যার বড় প্রমাণ।

বিজ্ঞাপন

এমনিভাবে কোন অন্যায় কাজের দায়ভার বিনা প্রমাণে কারো উপর চাপিয়ে দেওয়া আরো মারাত্মক অন্যায়। এখানে সবচে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, মুসলমানদের যেমন আলাদা কবরস্থান রয়েছে, কাদিয়ানীদেরও তেমনি রয়েছে। সবাই নিজেদের নির্ধারিত স্থানে লাশ দাফন করলে এধরনের আপত্তিকর ঘটনার প্রশ্নই আসত না । অথচ আশ্চর্যজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করছি, এ বিষয়টির প্রতি কোনরূপ গুরুত্ব না দিয়ে এক শ্রেণির চিহ্নিত মিডিয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্যায় অপপ্রচারে লিপ্ত।

আরো অবাক ব্যাপার হলো, কাদিয়ানীদের জন্য মুসলমানদের কবরস্থানে লাশ দাফন করা তাদের ধর্ম অনুসারেই অবৈধ।  বিবাড়িয়া সদরের ওসি সাহেবও তদন্ত করে বলেছেন, “আহমদী সম্প্রদায়ের তো নিজেদের আলাদা কবরস্থান আছে। উনারা কেন অন্যখানে দাফন করতে গেলেন।” এ প্রশ্নটি শুধু ওসি সাহেবের একার নয়, দেশের সমস্ত বিবেকবানের। কেন তারা নিজেদের কবরস্থান ছেড়ে মুসলমানদের জায়গায় নিজেদের শিশুটিকে দাফন করলেন? স্বভাবতই এর মধ্যে ষড়যন্ত্রের আভাস খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। এখানে আমরা ইসলাম ও কাদিয়ানী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিষয়টির সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ করতে চাই।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ

ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান হলো কোন অমুসলিমের জানাযার নামায, তার কবর যিয়ারত, তার জন্য মাগফেরাতের দুআ এবং তাকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। ইসলামের শুরুযুগ থেকে এখন পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ এই নিয়মই অনুসরণ করে আসছে।

বলাই বাহুল্য যে, সারা পৃথিবীতে সমস্ত ধর্মাবলম্বীর নিজেদের মৃতব্যক্তির সৎকারের জন্য আলাদা আলাদা স্থান রয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলেই নিজ নিজ মৃত ব্যক্তিকে ধর্মীয়ভাবে স্বতন্ত্র স্থানে দাহ করে বা মাটিচাপা দেয়। তদ্রুপ মুসলমানরাও নিজেদের মাইয়েতকে নিজেদের কবরস্থানেই দাফন করে। এটা আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত একটি বিষয়।

এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে তাদের নির্ধারিত জায়গায় লাশ দাফন নিয়ে কখনোই বিবাদে লিপ্ত হয় না। তাছাড়া মুসলমানদের কবরস্থানে মৃতের শান্তি-কামনা ও সম্মানপ্রদর্শনের আদব-কায়দাও আলাদা । হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, তারা যখন কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাবে তখন কবরবাসীকে সম্বোধন করে সালাম দিবে এবং তাদের জন্য রহমত ও মাগফেরাতের দু্আ করবে। সুতরাং অমুসলিমরা মুসলমানদের কবরস্থারনে থাকলে তাদেরকে সালাম দেওয়া এবং তাদের জন্য রহমত ও মাগফেরাতের দুআ মুসলমানরা কীভাবে করবে? যা সুস্পষ্টরূপে হারাম কাজ! একারণেও অমুসলিমদের লাশ মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া বৈধ নয়।

আল্লামা ইবনে তায়মিয়া রহ. বলেন, কোন অমুসলিমকে মুসলমানদের সঙ্গে দাফন করা যাবে না। আবার কোন মুসলমানকেও অমুসলিমদের সঙ্গে দাফন করা যাবে না। (ফতোয়ায়ে ইবনে তায়মিয়া ২৪/২৯৫) এর তাৎপর্য বর্ণনা করে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেন, অমুসলিমের কবরে (কঠিন আযাবের) ফলে মুসলমান মায়্যিতের কষ্ট হয়। -আলমুগনী, ইবনে কুদামা ২/৪২৩

কাদিয়ানী সম্প্রদায় ও ইসলাম

কাদিয়ানীরা যে মুসলমানদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি সম্প্রদায় এটি পূর্ব-মীমাংসিত একটি বিষয় । এব্যাপারে সারাবিশ্বের নির্ভরযোগ্য কোন আলেম বা মুফতীর দ্বিমত নেই। এশিয়া, আরব, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্রীয় সাংবিধানে তারা ‘সংখ্যালঘু অমুসলিম’ হিসেবে চিহ্নিত। এদেশের উলামা-মাশায়েখ ও সচেতন মুসলমানদের নিকটও তা সুস্পষ্ট।

কাদিয়ানীরা ইসলামের সর্বজন স্বীকৃত অকাট্য বিশ্বাস “আকীদায়ে খতমে নবুয়তকে ” (হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষনবী হওয়ার বিশ্বাস) অস্বীকার করে। তারা ইসলামের সমান্তরালে আলাদা একটি ভ্রান্ত ধর্ম- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমান্তরালে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী- নবীজির প্রতি অবতীর্ণ ওহীর সমান্তরালে মির্জা কাদিয়ানীর দাবিকৃত ওহী- এমনকি প্রিয়নবীর সাহাবায়ে কেরামের সমান্তরালে মির্জা কাদিয়ানীর সাথী-সঙ্গীদেরকেও সাহাবা হিসাবে- উদ্ভাবন করে নিয়েছে।

এমনকি যারা নবুয়তের মিথ্যা দাবিদার গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী মানে না তাদেরকে- অর্থাৎ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে- কাফের আখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে একটি আলাদা ধর্মমত ও ধর্মীয় জাতীয়তা গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে তাদের নেতা মির্জা কাদিয়ানীর জ্যেষ্ঠপুত্র বশিরুদ্দিন মাহমুদ বলেন, হযরত মাসীহে মাওউদ আ.-এর (মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর) মুখ থেকে শোনা কথা গুলো এখনো আমার কানে ধ্বনিত হচ্ছে। তিনি বলেছেন, এটা ভুল কথা যে, অন্যদের (মুসলমানদের) সঙ্গে আমাদের বিরোধ শুধু ঈসা আলাইহিস সালামের মৃত্যু বা আরো কিছু শাখাগত মাসআলায়। হযরত বলেছেন, আল্লাহ তাআলার সত্তা, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কোরআন, নামাজ-রোজা, হজ, যাকাত- মোটকথা তিনি বিস্তারিত বলেছেন, প্রত্যেকটি বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ রয়েছে। -মির্জা মাহমুদ’এর জুমার খুতবা, সূত্র: পাঞ্জাবের কাদিয়ান থেকে প্রকাশিত দৈনিক “আলফযল” পৃষ্ঠা ৭ কলাম ১;তা: ৩০-৭-১৯৩১ইং

এতকিছুর পরও কাদিয়ানী সম্প্রদায় সম্পূর্ণ প্রতারণামূলকভাবে ইসলামের পরিচয় ও মর্যাদাপূর্ণ পরিভাষাগুলো ব্যবহার করে চলেছে। ইসলামের প্রতি সমর্পিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের প্রতি গভীর ভক্তি-শ্রদ্ধা পোষণকারী মুসলিম উম্মাহর জন্য এর চেয়ে অপমানজনক ও হৃদয়বিদারক ব্যাপার আর কী হতে পারে?

কাদিয়ানী বিশ্বাসমতে মুসলমানদের কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ

কাদিয়ানী সম্প্রদায় কুরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ দলিলের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে কাফের বা অমুসলিম হওয়ার কারণে কোন মুসলমানের জন্য তাদের জানাযা, তাদের কবর যিয়ারত, তাদের জন্য মাগফেরাতের দুআ করা এবং তাদেরকে মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা কোনক্রমেই বৈধ নয়। উপরন্তু তারা নিজেরাও একাজগুলো মুসলমানদের থেকে আলাদা হয়েই সম্পাদন করাকে আবশ্যক মনে করে।

তাদের মসজিদ (উপসানালয়) আলাদা। ইমাম আলাদা। কবরস্থান আলাদা এবং তাদের মায়্যিতের জানাযাও তারা আলাদাভাবে আদায় করে। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের জন্য মুসলমানদের জানাযায় শরীক হওয়া অকাট্য হারাম । স্বয়ং মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজের ঔরসজাত সন্তান ফযল আহমদের কাফন-দাফনে শরিক হননি শুধু একারণে যে, সে আহমদী জামাত (কাদিয়ানিবাদ) গ্রহণ করেনি। কারণ সে ছিল মুসলমান । পরবর্তীতে এসংবাদটি কাদিয়ানীদের নিজস্ব পত্রিকা “আলফযল”-এ ছাপা হয়। দেখুন, আলফযল ৯/৪৭, তা: ১৫-১২-১৯২১ইং

তাদের এ পত্রিকাতে আরো ছাপা হয়-
যদি প্রশ্ন করা হয়, যে স্থানে (মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর) দাওয়াত পৈাছেনি- সেখানে কেউ মারা গেল, এরপর ঘটনাক্রমে কোন আহমদী (কাদীয়ানী) সেখানে উপস্থিত হয় তাহলে সে জানাযায় শরীক হবে কি-না?
উত্তর: আমরা তো বাহ্যিক অবস্থার উপর দৃষ্টিপাত করব। যেহেতু সে এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে যে, সে আল্লাহ তাআলার একজন রাসূল ও নবীকে চিনতে পারেনি, (অর্থাৎ তার দাবি অনুযায়ী ‘নবী’ মির্যা গোলাম আহমদের পরিচিতি তার ভাগ্যে জোটেনি- নাউযুবিল্লাহ) তাই আমরা তার জানাযার নামায পড়ব না। -আলফযল ২/১৩৬, তা: ৬-৫-১৯১৫ইং

কাদিয়ানী মতে মুসলিম শিশুর জানাযায় উপস্থিত থাকাও হারাম

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর জৈষ্ঠপুত্র ও কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় খলীফা মির্যা মাহমুদকে একজন জিজ্ঞাসা করল, আমরা অ-আহমদীর (কাদিয়ানী নয় এমন) ব্যক্তির নাবালেগ শিশুর জানাযা কেন পড়ব না? সে তো মাসুম (নিষ্পাপ) এবং সম্ভাবনা রয়েছে ঐ শিশুটি বড় হয়ে আহমদী হয়ে যাবে?
এর উত্তরে মির্যা মাহমুদ বললেন, যেমনিভাবে কোন খৃষ্টান শিশুর জানাযা পড়া যায় না -যদিও সে নিষ্পাপ থাকে; তদ্রুপ একজন অআহমদী শিশুর জানাযাও পড়া যাবে না। -আলফযল ১০/৩২, তা: ২৩-১০-১৯২২ইং

মির্যা পুত্র খলীফা মাহমুদ আরো লিখেছেন, অ-আহমদী (মুসলমান) তো মাসীহে মাওউদের (মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর) নবুওত অস্বীকার করে বিধায় আমরা তার জানাযা পড়ি না; কিন্তু অ-আহমদী কোন ব্যক্তির ছোট শিশু মারা গেলে আমরা কেন তার জানাযা পড়ি না? সে তো (নাবালেগ হওয়ার কারণে) মাসীহে মাওউদের (মির্জা কাদিয়ানীর) অস্বীকারকারী নয়!

মির্যা মাহমুদ লেখেন, আমি সর্বপ্রথম এই আপত্তি উত্থাপনকারীকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, যদি অ-আহমদীর শিশুর জানাযা পড়ার ব্যাপারে তোমার দাবি সঠিক হয়; তবে হিন্দু এবং খৃষ্টানদের শিশুর জানাযা কেন পড়া হয় না? কয়জন (মুসলমান) তাদের জানাযা পড়ে? আসল কথা হলো পিতা-মাতা যে ধর্মের অনুসারী শরীয়ত তাদের নাবালেগ শিশুদেরকে সেদিকেই সম্বন্ধ করে। এজন্য অ-আহমদীর নাবালেগ সন্তানও অ-আহমদী। একারণে তাদের জানাযাও পড়া যাবে না। -আনওয়ারে খেলাফত, পৃষ্ঠা ৯৩

মুসলিম শিশু কাদিয়ানী কবরস্থানে দাফন নিয়ে কাদিয়ানীদের ফতোয়া

মুসলমানদের ব্যাপারে কাদিয়ানীদের অবস্থান তুলে ধরে কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় খলিফা মির্জাপুত্র বশিরুদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমাদের ফরজ কর্তব্য হলো, অ-আহমদীদেরকে মুসলমান মনে না করা এবং তাদের পিছে নামাজ না পড়া। কেননা আমাদের নিকট তারা খোদা তাআলার এক নবীকে অস্বীকারকারী। -আনওয়ারে খেলাফত, আনওয়ারুল উলুম ৩/১৪৮

একবার এক কাদিয়ানী শিশুর লাশ মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা নিয়ে হাঙ্গামা বাধে। তখন কাদিয়ানী সম্প্রদায়েরই আরেক দল লাহোরী গ্রুপের এক সদস্য বলেন, যেহেতু কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বিশ্বাসমতে অ-আহমদীরা দুগ্ধপায়ী শিশু থেকে নিয়ে সকলেই কাফের, এমনকি অ-আহমদীদের শিশুদের জানাযায় শরিক থাকাও হারাম; সেহেতু ঐ শিশুকে কিভাবে আহমদী কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব? (অর্থাৎ অ-আহমদী নবজাতককেও বালেগ মুসলমানের মতো আহমদী কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। ) অনুরূপ অ-আহমদীরাও যেহেতু আহমদীদেরকে কাফের মনে করে; সেহেতু আহমদী শিশুদেরকেও তাদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। -পয়গামে সুলহ পত্রিকা ২৪/২৯, তা: ৩-৮-১৯৩৬ইং

উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে, কাদিয়ানী সম্প্রদায় তাদের মৃত ব্যক্তিকে নিজেদের কবরস্থানে দাফন করা জরুরি মনে করে। যদিও মৃত ব্যক্তি নবজাতক হয়। অনুরূপ যারা কাদিয়ানী নয় বরং মুসলমান -তাদেরকে তারা হিন্দু ও খৃষ্টানদের মতো কাফের মনে করে। তাই তাদের লাশ নিজেদের কবরস্থানে দাফন করা হারাম মনে করে। যদিও মৃত ব্যক্তি মুসলমানদের নবজাতক হয়।

সবশেষে আমরা বলব, কাদিয়ানী সম্প্রদায় যেহেতু ধর্ম ও বিশ্বাসে মুসলমানদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা; তাই তারা নিজেদের আলাদা পরিচয় নিয়ে থাকুন। যেমনটি পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা থাকে। তারা খোলাখুলিভাবে নিজেদের কাদিয়ানিবাদের পরিচয়ে পরিচিত হোন। মুসলমানদের কালিমা, ইবাদত, মসজিদ এবং কবরস্থান তাদের জন্য ব্যবহারের কোনই অধিকার নেই। না ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, না সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। মুসলমানদের কবরস্থান কেবলই মুসলমানদের জন্য। যারা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করেন।

বিজ্ঞাপন