দীর্ঘ বিরতির পর কুরআন তিলাওয়াতে আবার মুখরিত হেফজখানাগুলো

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: প্রায় চার মাসের দীর্ঘ বিরতির পর আবার মুখরিত হতে শুরু করেছে দেশের হেফজখানাগুলো। আজ থেকে খোলা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হেফজখানায় শিক্ষার্থীদের আসা শুরু হয়েছে গতকাল থেকেই। গতকাল নারায়ণগঞ্জ মাদানীনগর মাদরাসা ও আশপাশের আরও কয়েকটা হেফজখানা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহ্যবাহী মাদানীনগর মাদরাসায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে হেফজখানার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মত। ছোট ছোট ছেলেদেরকে মাস্ক পরে মাদরাসার প্রবেশদ্বার দিয়ে মাদরাসায় প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছে। মাদরাসার প্রবেশপথে নেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যসুরক্ষার নানান পদক্ষেপ। স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করাসহ জীবাণুমুক্ত করার জন্যে লাগানো হয় স্প্রে করার যন্ত্র।

পার্শ্ববর্তী এলাকার মাদরাসা বায়তুল কোরআনে দেখা যায়  সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, যা আজ চার  মাস ধরে মাদরাসাগুলোতে অনুপস্থিত।  সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ছাত্ররা আগের মত সবক মুখস্থ করছে। দায়িত্বরত শিক্ষক মাওলানা ফরীদুদ্দীন জানালেন, তারা স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম পালনের ব্যাপারে বেশ সচেতন।প্রবেশপথ বারান্দা সব জায়গা হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরস্পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয় কিনা সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখা হয়।

মাহাদুশ শায়খ ইদরীস মাদরাসায় গিয়েও একই দৃশ্য নজরে পড়ে। মাদরাসার প্রবেশপথে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা, এবং ক্লাস রুমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবক পড়তে দেখা যায় অনেক ছাত্রকে। দায়িত্বরত শিক্ষক জানালেন, মাদরাসায় ইতিমধ্যে অনেক ছাত্র উপস্থিত হয়েছে। আরো অনেকে উপস্থিত হবে। এই লকডাউনের সময়টা তারা অনলাইনে ছাত্রদের খোঁজ খবর রাখতেন বলে জানান ওই শিক্ষক।

ত্রিশ পারা হেফজ করা একদিকে যেমন আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি, অপরদিকে অনেক পরিশ্রমসাধ্য একটি কাজ। এর জন্যে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম ও সাধনার দরকার হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশের সকল শিক্ষার্থীদের মত হেফজখানার শিক্ষার্থীদেরও পড়ালেখায় ছেদ পড়ে। তাদের পড়ালেখা ছেদ পড়াটা যেহেতু অনেক বেশী ক্ষতিকর এবং শিক্ষার্থীকে অনেক পিছিয়ে দিতে পারে সেজন্য আলেমদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জুলাই থেকে হেফজখানা খোলার অনুমতি দেয় সরকার।

আলেমদের এখন জোর আবেদন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকার দেশের কওমী মাদরাসাগুলোর অন্যান্য বিভাগও শীঘ্রই খোলার অনুমতি  দিয়ে দিবে।

বিজ্ঞাপন