বিপদসীমার ২৮ সেমি উপরে তিস্তার পানি, ফের বন্যা আশঙ্কায় নদী পাড়ের মানুষ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: অবিরাম বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়ছে। বিকেল ৩টা থেকে তা ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শনিবার সকালে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা কমে দুপুর বারোটায় ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু ১২টার পর থেকে আবারো পানি বাড়তে শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

ফলে লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও সদর উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে বিস্তৃর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ফের বন্যার আশঙ্কা করছে নদী পাড়ের মানুষ।

তবে ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গোটা জেলায় প্রায় ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকেই তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে দেওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে বাড়তে থাকে তিস্তার পানি। যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে-সাথেই কালীগঞ্জ উপজেলার নোহালী, চর বৈরাতী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোরবর্ধন, পলাশী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি, রাজপুর, গোকুন্ডা ও তিস্তা এলাকার নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ৯৫টি বাড়ি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, ইউনিয়নের ৯৫টি বাড়িসহ ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, আদিতমারী উপজেলায় ৯৫টি বাড়ি নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, সকালে পানি বৃদ্ধি কমে এলেও দুপুর থেকে আবারো বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন