নির্দিষ্ট এলাকায় কোরবানী নিষিদ্ধের ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্ত: যা বলছেন বিশিষ্ট আলেমরা

নুরুদ্দীন তাসলিম ।।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই এবার পালিত হবে ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহায় কোরবানি বিষয়ে সরকার এবং সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরবানী করার সকল পথ উন্মুক্ত রাখা হবে বলে বেশ কয়েকবার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের এমন ঘোষণার পরেও সম্প্রতি রাজধানী মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে  করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে এলাকাটিতে কোরবানীর পশু প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এলাকাটির মালিক কল্যাণ সমিতি। এলাকাটির ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির প্যাডে প্রকাশ করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাপান গার্ডেন সিটির ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির গত ৪ জুলাই ২০২০ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পের অভ্যন্তরে পশু প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার জন্য সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ফলে এলাকাটিতে কোরবানীর কোন পশু প্রবেশ করানো যাবে না।’

বিজ্ঞাপন

ইসলামের অপরিহার্য একটি বিধান নিয়ে এলাকাটির মালিক কল্যাণ সমিতির এমন সিদ্ধান্তে সমালোচনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মাঝে। মালিক পক্ষের এমন সিদ্ধান্তে স্বয়ং এলাকাটিতে বসবাসকারিদের কথায়ও ঝরে পড়েছে একরাশ ক্ষোভ আর হতাশা।

ভাইরাসের অজুহাতে কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানের ব্যাপারে মানুষ নিরুৎসাহিত হয়, এমন কোন কাজ কখনোই শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয় বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও জামিয়া রাহমানিয়ার মোহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক।

মাওলানা মাহফুজুল হক ইসলাম টাইমসকে বলেন, কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানীর কোন বিকল্প হতে পারে না। তার ভাষায়, ভাইরাসের অজুহাতে কোরবানীর বিকল্প কিংবা কোরবানীর ব্যাপারে নিরুৎসাহীত ও বাধাগ্রস্ত করতে চান- এমন মানুষেরা হয়তো না বুঝে এমন সিদ্ধান্ত দেন। না বুঝে শরয়ীতের গুরুত্বপূর্ণ বিধান নিয়ে এমন কথা যারা বলেন তাদের কাছে গিয়ে আলেম ওলামারদের বোঝানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।  তিনি বলছেন, হতে পারে সঠিক বুঝ না থাকার কারণে তাদের নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত থেকে তারা ফিরে আসতে পারেন।

তবে জেনে বুঝে ইসলামের অপরিহার্য বিধান নিয়ে যদি কেউ এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে তাদের ব্যাপারে সমাজের সবাইকে সাবধান হতে বলছেন ইসলামী রাজনীতিবীদ ও  জামিয়া রাহমানিয়ার মোহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক।

এদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও রাজধানীর আরজাবাদ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া কোরবানী বিষয়ে অপ্রীতিকর এমন খবরকে ইসলামের অপরিহার্য বিধানের বিরুদ্ধে এক শ্রেণীর ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বলছেন, ইসলামী বিধান নিয়ে এই শ্রেণীটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের উস্কানী দিয়ে থাকে তবে তারা কখনো সফল হয় না।

আরো পড়ুন: কুরবানী নিয়ে অপপ্রচার: জবাবে যা বলছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা

এছাড়া মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলেন, কোরবানী সবার উপর ওয়াজিব নয়। ইসলামের এ বিধান সমাজের নির্দিষ্ট কিছু মানুষের উপর ওয়াজিব, তাই ভাইরাসের দোহাই দিয়ে পুরো এলাকায় কোরবানী বন্ধের কোন যৌক্তিকতা নেই। এছাড়া ইসলামী রাজনীতিবীদ মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলছেন, কোরবানী করার জন্য জনপ্রতি সবাইকে গরু কিনতে হয় না, কয়েকজন মিলে একটি গরু কোরবানী করতে পারেন, তাই সীমিত আকারে হলেও কোরবানী করতে পারেন এই এলাকার মানুষেরা।

সংক্রমণ এড়াতে কোরবানীর পরিবর্তে বিকল্প পন্থায় গরিব-দুঃখীদের সাহয্যের কথা বলছেন কেউ কেউ, তাদের উদ্দেশ্যে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলছেন, কোরবানীর বিকল্প কোন ইবাদত নেই একথা বারবার বলে আসছেন দেশের আলেম সমাজ। গরিবদের প্রতি কথিত এই সহানুভূতিশীলদের ব্যাপারে তিনি বলছেন, শরীয়তের বিধান পশু কোরবানী করে গরিব-দুঃখীদের মাঝে গোস্ত বন্টন করেও তো গরিবের পাশে দাঁড়ানো যায়।

এছাড়া মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া আরো বলছেন, যে এলাকায় সংক্রমণের অজুহাতে কোরবানী বন্ধের হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সে এলাকায় মানুষ নিয়মিত বাজার করছে, সংক্রমণ ভয়ের মাঝেই জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ করছেন, তাহলে শুধু কোরবানীর ক্ষেত্রেই কেন এতো খোঁড়া অজুহাত!

এছাড়া ১০,১১,১২ জিলহজ্বের এই তিনদিনই কোরবানী করার সুযোগ থাকে, তাই সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানী করতে কোন সমস্যা হবে না বলছিলেন ইসলামী রাজনীতিবীদ ও আরজাবাদ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।