কোরবানি উপলক্ষে পশুর ডিজিটাল হাট চালু করেছে সরকার

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: এবারের ঈদে করোনা পরিস্থিতিতে খামারি ও ক্রেতাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ‘কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাট’ চালু করেছে সরকার। দুই হাজার পশু কোরবানি এবং মাংস প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় হোম ডেলিভারি দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে ‘ডিজিটাল হাট’। প্রচলিত হাটে পশু কেনায় হাসিল দিতে হলেও এখানে কোনো হাসিল দিতে হবে না ক্রেতাদের।

শনিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘ডিজিটাল হাট’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই লাখ টাকার বেশি দামে গরু কেনেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। আর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক কেনেন লাখ টাকার গরু।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে এই ডিজিটাল হাট (www.digitalhaat.net) ।

এই হাটে ক্রেতারা ঘরে বসেই গরুর ছবি ও ভিডিও দেখার ও লাইভ ওজন জানার সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে তিনি গরু চাষি, খামারি বা ব্যাপারীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ পাবেন। এরপর নির্দিষ্ট স্থান থেকে অথবা হোম ডেলিভারির ভিত্তিতে গরু সংগ্রহ করতে পারবেন।

হাটের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল বাজারে এবার কোরবানির পশু ক্রয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরাসরি হাটে না যেয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনায় নতুন যাত্রা যোগ হবে। কষ্ট করে যে হাটে যাই, এটা আর করতে হবে না এটা নির্ভরশীল জায়গা হবে। আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষির ব্যবস্থা থাকা উচিত।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এ বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

আরো পড়ুন:ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট না বসানোর পরামর্শ

এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, এক্ষেত্রে হটস্পট চিহ্নিত করে দিলে সুবিধা হবে। যেসব জায়গায় সংক্রমণের সম্ভবনা রয়েছে তা পরিহার করতে হবে। এছাড়া গ্রামে এক জায়গায় হাট না করে বিভিন্ন জায়গায় পশুর হাট করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সবাইকে ঘরে থাকতে হচ্ছে, উপায় নেই। কোরবানি দিতে হবে এই বিবেচনায় এই ব্যবস্থা। আগামী দিনগুলোতে এসব প্ল্যাটফর্মে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। আমিও এভাবে কোরবানি দিতে চেষ্টা করব। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, যে পরিমান পশু দেশে রয়েছে তা যথেষ্ট বরং আরও বেশি পশু রয়েছে। গতবারও ভারত থেকে দেশে পশু আসেনি। এবারও ভারত থেকে কোনো পশু দেশে প্রবেশ করবে না। সকল প্রক্রিয়ায় আমরা সাথে থাকব।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, মহামারিকালে অনলাইনে মানুষের কেনাবেচা বাড়ছে। আগামী কয়েক বছরে এ খাতে আরো কয়েক লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। কোরবানির হাটে না গিয়ে অনলাইনে পশু কেনায় সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করছে।

চাষি-খামারিদের সবাই ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে বিনামূল্যে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের পর নিজস্ব প্যানেল থেকে পশুর ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য আপলোড করতে হবে। এই সকল ছবি ও তথ্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার তার নিজ খরচে প্রচার করবে। ফলে ক্রেতারা সহজেই তাদের কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় পশু পছন্দের সুযোগ পাবেন এবং বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করে ডেলিভারি নিতে পারবেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে এবার কোরবানির পশুর হাট বসবে কিনা তা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে ক্রেতা বিক্রেতারা। স্বল্প পরিসরে পশুর হাট বসানোর কথা ভাবছে সরকার। এবার পশুর হাট বসছে এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে। সেগুলো কি মুখে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি আরও বাড়তি সতর্কতা থাকবে সেটি নিয়ে এখনো কোন পরিকল্পনা হয়নি।

এছাড়া ভিড় কীভাবে সামলানো হবে, ক্রেতা বিক্রেতা, ইজারাদারদের কর্মী মিলে কতজনকে একসঙ্গে হাটে ঢুকতে দেয়া হবে, ঢোকা ও বের হওয়ার আলাদা পথ হবে কিনা, তাপমাত্রা পরিমাপ করা, দুর দূরান্ত থেকে হাটে পশু বিক্রি করার জন্য যারা আসবেন তারা কীভাবে আসবেন, তাদের থাকার জায়গাগুলো কেমন হবে, রাস্তার হাটগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে এসব বিষয়গুলো এখনও স্পষ্ট হয়নি।

এক পরিবার থেকে কজন আসতে পারবেন, যারা বাড়ি বাড়ি গরু পৌঁছে দেন, তারা তা করতে পারবেন কিনা, গরু জবাই করার যেসব সামগ্রী হাটে বিক্রি হয় এবার সেগুলো বসতে দেয়া হবে কিনা সেগুলোও ভাবা হয়নি।

দেশে অনলাইনে পশুর হাটের যাত্রা শুরু প্রায় এক দশক হলো। এর মধ্যে গত কয়েক বছরে অনলাইনে পশুর হাটের জনপ্রিয়তার গ্রাফটা বেশ সোজা ঊর্ধ্বমুখী। করোনা পরিস্থিতির কারণেই এ বছর গরুর এই ভার্চুয়াল হাট নিয়ে দেশীগরু বিডিডটকমের প্রধান নির্বাহী টিটো রহমান বলেন, অনলাইনে পশুর হাটের কেনাকাটা এ বছর আগের সব ইতিহাসকে ছাপিয়ে যাবে। আমরা কোরবানির গরুর জন্য বুকিং নিতে শুরু করেছি। বেশকিছু বুকিং পেয়েছিও। করোনার কারণেই সম্ভবত এবার রেসপন্স ভালো। সামনে আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সম্পূর্ণ অর্গানিক গরু আমরা সংগ্রহ করছি করব। কোনো ধরনের কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা হয়নি— এমন গরুই কেবল সংগ্রহ করেছি আমরা। আর যারা বুকিং দিচ্ছেন, ঈদের দু’দিন আগে তাদের বাসায় গরু পৌঁছে দেওয়া হবে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে দেশীগরু বিডিডটকমে গরুর দামের ৫০% অগ্রিম দিয়ে বুকিং দিলে গরু ডেলিভারি দেয়ার সময় বাকি ৫০% টাকা দিয়ে গরু বুঝে নিতে পারবেন। আর সবার প্রত্যাশা মতো বিক্রিও এ বছর বেশি হবে বলে মনে করছেন তিনি।

টিটো রহমান বলেন, কোরবানির আগের এই সময়ে যথারীতি হাটে-ঘাটে-মাঠে থাকে যানজট আর যানজট। এর ওপর দালালদের খপ্পর, ছিনতাইয়ের ভয়, জাল টাকা ইত্যাদি নানা ঝামেলা তো আছেই। সে সব ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাইরে থেকেও খুব সহজেই কিনে ফেলতে পারেন আপনার কোরবানির গরু ভার্চুয়াল কোরবানির হাট দেশীগরু বিডিডটকমে থেকে।

অনলাইন গরুর হাট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে www.deshigoru.com এই ঠিকানায়।