আয়া সোফিয়া মসজিদে প্রত্যাবর্তন: পশ্চিমা সংস্থা-শাসকদের নিন্দা শুরু

ছবি: ডি-ডব্লিউ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক:  তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরে ঘোষণা দিয়েছেন৷ এই সিদ্ধান্তে ইউনেস্কো, যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা জানিয়েছে৷ তবে এরদোগান বলছেন, সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে স্থাপনাটি৷

১৯৩৪ সালে আয়া সোফিয়াকে মসজিদ থেকে জাদুঘরে রূপ দেয় তুরস্কের তৎকালীন আতাতুর্ক কামাল পাশা৷ শুক্রবার সেই সিদ্ধান্তকে বেআইনি হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত৷ এর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রজব তাইয়েব এরদোগান স্থাপনাটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের জন্য এক নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন৷ পরবর্তীতে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি জানান, ২৪ জুলাই থেকে সেখানে নামাজ আদায় করা যাবে৷ তবে সবার প্রার্থনার উপযোগী করে তুলতে ছয় মাস সময় লাগবে৷

বিজ্ঞাপন

আরো পড়ুন: আন্তর্জাতিক নয়, আয়া সোফিয়া তুরস্কের জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আয়া সোফিয়াকে কী কাজে ব্যবহার করা হবে তার সিদ্ধান্ত নেয়া তুরস্কের সার্বভৌম অধিকার বলেও উল্লেখ করেন রজব তাইয়েব এরদোগান৷ তিনি জানান, মসজিদে পরিণত হলেও এটি সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে৷ ‘‘আমাদের অন্য সব মসজিদের মতই আয়া সোফিয়ার দুয়ার স্থানীয় বা বিদেশি, মুসলিম বা অমুসলিম, সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে,’’ বলেন তিনি৷

শুক্রবার তুরস্কের অনেক মুসলিম আয়া সোফিয়ার সামনে সমবেত হন৷ নতুন সিদ্ধান্ত জানার পর তারা স্থাপনার বাইরে প্রার্থনায় অংশ নিয়েছেন এবং সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন৷

পশ্চিমা সংস্থা -শাসকদের প্রতিক্রিয়া

মসজিদে রূপান্তরের বিরোধীতা আগে থেকে করে আসছিল অর্থডক্স খ্রিস্টানরা৷ তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের সম্পর্কের আরেক দফা অবনতি ঘটারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এ কারণে৷ দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস সিদ্ধান্তটির নিন্দা জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, যারা আয়া সোফিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অপরিহার্য হিসেবে বিবেচনা করেন এটি তাদের সবার জন্যই ক্ষোভের৷ ‘‘এই সিদ্ধান্তে শুধু গ্রিসের সঙ্গে নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনেস্কো এবং গোটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে,’’ বলেন তিনি৷

আরো পড়ুন: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিখ্যাত দুই মনীষীর কলমে আয়া সোফিয়ার অশ্রুভেজা স্মৃতি

নিন্দা জানিয়েছে সাইপ্রাসও৷ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস ক্রিস্টোডুলাকিস টুইটে তুরস্ককে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহবান জানিয়েছেন৷

রাশিয়ার সংসদের উচ্চ কক্ষের উপ-প্রধান ভ্লাদিমির জাবারোভ তুরস্ক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করেন।

আরো পড়ুন: ৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় আজান শুনতে পেয়ে খুশিতে মেতে উঠে তুর্কিরা

তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে হতাশাব্যাঞ্জক বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র৷ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মর্গান অর্টাগুস বলেন,‘‘তুরস্কের সরকার আয়া সোফিয়াকে সব দর্শানার্থীর জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলেছে৷ সেখানে কারো প্রবেশেই যাতে বাধা তৈরি না হয় সে বিষয়ে কী করা হবে যুক্তরাষ্ট্র সেই পরিকল্পনা জানার অপেক্ষায় আছে৷ এর আগে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তুরস্ককে এমন সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহবান জানিয়েছিল৷

ইউনেস্কোর উদ্বেগ

১৯৮৫ সালে আয়া সোফিয়া জাতিসংঘের ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়৷ স্থাপনাটিকে মসজিদের রূপান্তরের পদক্ষেপ ১৯৭২ সালের আইনের বরখেলাপ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি৷

আরো পড়ুন: আয়া সোফিয়া মসজিদ নিয়ে শুরু হল পশ্চিমাদের গা জ্বলুনি

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অদ্রে আজুলে বলেছেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত স্থাপনার কোনো ধরনের সংস্কার যাতে এর বৈশ্বিক মূল্যবোধকে নষ্ট না করে তা মানার বাধ্যবাধকতা রাষ্ট্রের রয়েছে৷ এই বিষয়ে প্যারিসে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের কাছেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি৷ আয়া সোফিয়াকে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সম্পর্কের অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাদুঘর হিসেবে স্থাপনাটি তার এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে এবং মতবিনিময়ের প্রতীক হিসেবে টিকে রয়েছে৷ নতুন ঘোষণায় যার বরখেলাপ ঘটেছে৷

এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ইউনেস্কোকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি৷

 (এপি, রয়টার্স, এএফপি) 

বিজ্ঞাপন