রংপুরে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের বরাদ্দ আত্মসাতের ঘটনায় আসামী মাত্র ২জন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের নামে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ করা টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুরো ঘটনাকে ধামচাপা দিতে মাত্র দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

জানা যায়, সারা দেশের মতো মিঠাপুকুর উপজেলায় মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেন। কিন্তু, মিঠাপুকুর উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা  অস্তিত্বহীন মসজিদের তালিকা প্রণয়ন ও ভুয়া মোবাইল নম্বর এবং ভুয়া নাম দিয়ে অভিনব কায়দায় বরাদ্দ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনরা তালিকা দেখে হতবাক হয়ে যান। তারা দেখতে পান  গোডাউন , মুরগির খামার , জঙ্গল বাড়িকে মসজিদ দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত অনেক মসজিদকে তালিকায় রাখা হয়নি। আবার নাম রাখা হলেও সেই মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনের নাম আছে বটে কিন্তু মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে অন্য কারও।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অর্থ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন খোদ উপজেলা চেয়ারম্যান  ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন।

তিনি জানান, মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনের নামে ভুয়া অস্তিত্বহীন মসজিদের নাম বসিয়ে, গোডাউন, বাসা, জঙ্গলকে মসজিদ দেখিয়ে টাকা নয়-ছয় করা হয়েছে। তার নিজের এলাকা দূর্গাপুরে একটি দোতলা জামে মসজিদ আছে। সেই মসজিদের নাম তালিকা নেই, এমনকি শীতলগাড়ি  জামে মসজিদের নামে টাকা তোলা হয়েছে সেখানে আবার আমাকে মসজিদটির কমিটির সভাপতি দেখানো হয়েছে। অথচ আমি কোনোদিন কোনও মসজিদের সভাপতি ছিলাম না।

 

এ সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পড়লে অবস্থা বেগতিক দেখে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধানসহ সুপারভাইজার অফিসে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দেয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইসলামি ফাউন্ডেশন মিঠাপুকুর উপজেলার সুপারভাইজার রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাত্র দুজনকে আসামি করা হয়। এরা হলেন কোরবান আলী ও সেকেন্দার আলী। এরা দুজনেই বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের দুটি অস্তিত্বহীন মসজিদের নাম দিয়ে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ব্যাপারে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাত্র দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা স্বীকার করেন। তবে শতাধিক মসজিদের নামে টাকা তুলে আত্মসাৎ করার পর কেন মাত্র দুজনের নামে মামলা করা হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনেকেই টাকা তুলে নিলেও টাকা ফেরৎ দিয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ায় মামলা করা হয়নি।

অন্যদিকে মিঠাপুকুর থানার ওসি জাফর আলী বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করার কথা স্বীকার করেন। যার নম্বর ৩৩। তিনি বলেন আমরা অনেক মসজিদের টাকা নয়ছয়ের কথা শুনেছি। তবে সিআইডি পুলিশ যেহেতু মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে ২/৩ দিনের মামলার সকল নথিপত্র তাদের দেওয়া হবে, তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

 

বিজ্ঞাপন