হৃদয় নিংড়ানো কথা বলুন প্রভুর সাথে

জাওয়াদ তাহের।।

মনের শোকে আপনি যখন ব্যথাতুর,আপনার হৃদয় একটুখানি আশার অলোর দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে।
আপনার খুব ইচ্ছে হয় কেউ আপনার কথাগুলো তন্ময় হয়ে শুনুক, আপনার ভিতর সুপ্ত ব্যাথাগুলো নিয়ে একটু ভাবুক।
মনের কষ্টে আপনার হৃদয় উত্তাল হয়ে আছে, চৈত্রের রোদে আপনার বুকের হাড্ডিগুলো চৈাচির হয়ে আছে। কিন্তু নিষ্ঠুর এ পৃথিবীতে কেউ আপনার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। আপনার দিকে তাকানোর সময় কারো নেই।

বিজ্ঞাপন

এমন প্রতিকুল সময়ে আমার স্রষ্টা  আমার দিকে তাকিয়ে থাকে, আমার প্রিয় বান্দা! তুমি আমার কাছে চাও। তোমার সমস্যা আমার কাছে বল, তোমার ব্যাথিত হৃদয়ের শোকগাথা কথাগুলো আমাকে বল, আমি সব শুনছি, আমি তোমর সব সমস্যা সমাধান করে দিব। আমি তোমার অশান্ত মনকে প্রশান্তির হিমেল হাওয়া বইয়ে দিব। বান্দা তুমি আমাকে ডাক। আমি তোমার একমাত্র স্রষ্টা। আমি তোমাকে সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছি, তোমাকে দুটি চোখ দিয়েছি পৃথিবীকে দেখার জন্য,তোমাকে কান দিয়েছে শোনার জন্য আরো কত কি ? একটু ভেবে দেখ। আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। তুমি রাতের আধারে ঘুমের চাদরে নিজেকে আবৃত রাখ আমি তখনও তোমার দিকে তাকিয়ে থাকি, তুমি আমাকে একটু ডাক। তোমার হাজারো সমস্যা নিয়ে আমার দরবারে হাজির হও। আমি তোমার প্রয়োজন পূরণ করব।

এভাবেই আমার রব আমাকে স্বরণ করেন। কিন্ত আমরা নাদান, বড় অকৃতজ্ঞ। রবের ডাকে সারা না দিয়ে অন্য কিছুর আশায় মরীচিকার দিকে দৌড়াতে থাকি। একটু ভেবে দেখুন বান্দা যখন তার প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে পরম সান্নিধ্যের স্থানে নামাজে দাড়ায়। আর সূরা ফাতেহা পড়তে শুরু করে আল্লাহ তার প্রতিটি বাক্যের উত্তর কিভাবে প্রদান করেন তা এই হাদীসে চিত্রায়িত করা হয়েছে।

হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা যখন বলে ‘আলহামদুলিল্লাহহি রাব্বিল আলামিন’, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে এবং আপনি মুখ থেকে উচ্চারণ করলেন “আলহামদুলিল্লাহহি রাব্বিল আলামিন” আপনার এই উচ্চারণ শুনে আল্লাহ এতটাই খুশি হলেন এবং এতটাই গর্বিত বোধ করলেন, তিনি তাঁর ফেরেশতাদের বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। এবং পরে আমরা যখন বলি “আর রাহমানির রাহিম” আল্লাহ বলেন আমার বান্দা আমার গুণাবলি বর্ণনা করেছে। আমরা যখন বলি “মালিকি ইয়াও মিদ্দিন” আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে, এরপর আমরা বলি “ইয়্যাকা না’বুদু ও ইয়্যাকা নাস্তাইন”। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি, একমাত্র তোমারই সাহায্য চাই। আল্লাহ বলেন, এটা আমার আর আমার বান্দার ব্যাপার, বান্দা যা চাইবে তা-ই সে পাইবে। এরপর আমরা মূল্যবান জিনিসটা চাই, আমরা বলি তুমি আমাদের সরল পথ দেখাও। তাঁদের পথ, যাঁদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ দান করেছেন, যাঁরা গজবপ্রাপ্ত নন, পথভ্রষ্ট নন। আল্লাহ বলেন, এটা কেবল আমার বান্দার জন্য, আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই পাবে।(সহীহ মুসলিম,হাদীস: ৩৯৫) আল্লাহ কথোপকোথন কতইনা সুন্দর, হৃদয়কে আন্দোলিত করে তোলে,তরঙ্গ ঢেউ তোলে, তার নিজ হাতে সৃষ্টি বান্দার সাথে এমন মধুর আলাপচারিতা দেখে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। কিন্তু যারা আমার ইবাদত সম্বন্ধে অহঙ্কার করে, তারা নিশ্চয় লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে’ (সুরা মোমেন : ৬০)।
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, ‘আর যা কিছু তোমরা তার কাছে চেয়েছ তিনি তোমাদের সব দিয়েছেন এবং যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামতগুলো গণনা করতে চাও, তা হলে তোমরা সেগুলোর সংখ্যা নিরূপণ করতে পারবে না’ (সুরা ইব্রাহিম : আয়াত-৩৪)। আবার বলা হয়েছে, ‘অথবা কে উদ্বিগ্নচিত্ত ব্যক্তির দোয়া শোনেন যখন সে তার কাছে দোয়া করে এবং তার কষ্ট দূর করে দেন এবং তোমাদের পৃথিবীর উত্তরাধিকারী করে দেন? আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো উপাস্য আছে? তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করো’ (সুরা নামল : আয়াত-৬২)।

হযরত নুমান ইবনে বশীর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘দুআ হচ্ছে ইবাদতের উৎস’। এ কথা বলার পর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, তোমাদের প্রভু বলেছেন, ‘তোমরা আমার কাছে দুআ কর, আমি তোমাদের দুআ কবূল করবো। (তিরমিযী: হাদীস: ২৯৬৯) লম্বা এক

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও, আমি তোমার অন্তরকে প্রচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না করো, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৫৪)

দু:খজনক হলেও সত্য আমরা শুধু বিপদে পড়লেই যে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করি যা কোনভাবেই কাম্য নয়, এটাতো মুশরিকদের স্বভাব যা আল্লাহ কোরআনে বলেছে, তারা যখন জলযানে আরোহণ করে তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে এনে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শরীক করতে থাকে।(সূরা অঅনকাবুত:৬৫)
বরং সব সময় আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য দোয়া করতে হবে, যেভাবে মহানবী (সা.) সব সময় দোয়ায় রত থাকতেন। মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমাদের সবাইকে পবিত্র হৃদয় নিয়ে দোয়া করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

বিজ্ঞাপন