মসজিদে কুবা: রাসূল সা. নির্মিত ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ

তারিক মুজিব ।।

মসজিদে কুবা। ইসলামের ইতিহাসের সর্বপ্রথম মসজিদ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম মক্কা থেকে হিজরত করার সময় মদীনায় প্রবেশের আগে কুবায় কয়েকদিন অবস্থান করেন। এসময়ই রাসূলের হাতে নির্মিত হয় এই মসজিদটি।

বিজ্ঞাপন

মসজিদে নববী থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মসজিদটিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম মাঝেমাঝেই নামায পড়তে আসতেন। ইবনে উমর রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাহিস সালাম কখনো হেঁটে হেঁটে কখনো বাহনে চড়ে প্রতি শনিবার মসজিদে কুবায় হাজির হতেন এবং দুই রাকাত নামায আদায় করতেন।

এছাড়া মসজিদে কুবায় নামায আদায় করার আলাদা ফজিলত রয়েছে। সুনানে ইবনে মাজাহতে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে পবিত্র হয়ে মসজিদে কুবায় এসে দুই রাকাত নামায আদায় করবে সে উমরা পালনের সওয়াব পাবে।

নবী যুগে এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল খেঁজুর পাতার ছাউনিতে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম নিজে এই নির্মাণ কাজে শরিক হয়েছিলেন। তখন মসজিদের পরিসর ছিল খুবই ছোট।

পরবর্তী ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান রাযি. নিজের অর্থায়নে এই মসজিদে কুবার সম্প্রসারণ করেন। তবে তিনি রাসূলের নির্মাণ কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন।

কিছুকাল পরে খলিফা উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. মসজিদের পরিসর আরও বড় করেন। তখনই মসজিদটিতে ছোট আকারের একটি মিনার নির্মাণ করা হয়।

এরপর মামলুক সুলতান কায়তাবি মসজিদের কলেবর আরও বৃদ্ধি করেন এবং মসজিদটিকে কারুকার্য খচিত করেন।

অতপর উসমানী সুলতান মাহমুদ (দ্বিতীয়) এবং তার পুত্র আবদুল মাজিদ (প্রথম) এই মসজিদের আরেক দফা সংস্কার করেন। এসময় মসজিদটিতে সুউচ্চ মিনার স্থাপন করা হয়।

সর্বশেষ সৌদি সরকার মসজিদটিতে আরেক দফা সংস্কারকাজ চালায়।

মসজিদটিতে বর্তমানে বিশ হাজারেরও বেশি মুসল্লি একসাথে নামায আদায় করতে পারে। মসজিদে নববীর পর এটিই মদীনার সর্ববৃহৎ মসজিদ।

বিজ্ঞাপন