পালাশী ময়দানের ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের মৃত্যুু কীভাবে হয়েছিল

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পৃথিবীতে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে, মানুষকে জুলুম করার কিছু শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেও দিয়ে থাকেন। জুলুম করে যে সম্পদ আহরণ করা হয়, তা জালিমকে সুখী করার পরিবর্তে তার জীবনকে আরো বিষময় করে তোলে।

পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ী ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ ভারত এসেছিলেন কপর্দকহীন অবস্থায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কেরানি হয়ে, হাতে ছিল ছোট্ট একটা হ্যান্ডলাগেজ। কিন্তু ফিরে যাওয়ার সময় তার মাল বহন করতে লেগেছিল পাঁচখানা জাহাজ! বাংলায় তার রাজত্বকালে কৃষিজমির কর বাড়ানো এবং কৃষি উৎপাদনে তার অন্যান্য শোষণনীতির কুফলে সৃষ্টি হয় ১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষ। তাতে প্রাণ হারায় প্রায় এক কোটি বাঙালি।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, বাংলা থেকে লুট করা এত ধনসম্পদ ক্লাইভকে শান্তি দিতে পারেনি। ১৭৭৪ সালের নভেম্বর মাসে লন্ডন শহরে আত্মহত্যা করে মারা যান ক্লাইভ। তার মৃত্যুতে আধুনিক ইংলিশ ডিকশনারির জনক বলে খ্যাত স্যামুয়েল জনসন লিখেছিলেন, ‘তার অবৈধ সম্পদ এমন নিষ্ঠুর এবং অসৎ উপায়ে করেছিলেন যে তার নিজের চৈতন্যই তাকে শেষ পর্যন্ত নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।’

মৃত্যুর পর ক্লাইভকে নিজ গ্রামে সমাহিত করা হয়।

এখন যারা ব্লাক লাইভস নামে আন্দোলন করছেন, তারা স্বাক্ষরনামায় লিখেছেন,  ক্লাইভ ছিলেন ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার নায়ক, ২০০ বছরের চুরি-ডাকাতি, অত্যাচার এবং দুঃশাসনের জনক, হাজার হাজার ভারতীয়র মৃত্যুর কারণ। এখন সময় এসেছে, আমরা নিজেদের কুকীর্তির অতীতকে স্বীকার করি। ক্লাইভের মূর্তি অপসারণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আমাদের নতুন যাত্রা। ক্লাইভের মূর্তি বর্ণবাদ, অত্যাচার এবং দুষ্কৃতির প্রতীক, এটা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৩ জুন। ২৬৩ বছর আগে এদিন হুগলী নদীর পূর্ব তীর বরাবর বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পলাশী নামক স্থানে সংঘটিত যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভাড়া করা সৈন্যদের কাছে বাংলার নবাবের বেতনভোগী সৈন্যরা পরাজিত হয়। কোম্পানির সৈন্যসংখ্যা ছিল ১ হাজার ১০০ ইউরোপিয়ান এবং বেতনভুক্ত ভারতীয় ২ হাজার ১০০ জন সেপাই। আর নবাব সিরাজের পক্ষে ছিল ৫০ হাজার সৈন্য। তবুও এক দিন যুদ্ধের পর নবাবের বিশাল সৈন্যবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায় অথবা আত্মসমর্পণ করে।  পুঁজিপতি জগৎ শেঠ, ব্যবসায়ী উমিচাঁদদের টাকা, সেনাপতি মীরজাফরের ক্ষমতার লোভ এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ , তরুণ নবাবের অনভিজ্ঞতা এসবকেই দায়ী করা হয় বাংলার পরাজয়ের জন্য।