জটিল হচ্ছে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা, বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকেই

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

বর্তমানে করোনার প্রভাবে আয় ও কর্মসংস্থান হারিয়ে ফেলায় কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ  অর্থনীতি সমিতির দাবি অনুযায়ী ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধা ছুটির সময়টাতে দেশে নব দরিদ্র ও অতি দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ বা প্রায় ছয় কোটি। এদিকে গবেরণষকদের দাবি, এই মহামারীতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে। এর ফলে সংকটে পড়ছেন শত শত মানুষ।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালে সংকটে পড়া মানুষদের মাঝে অন্যের কাছে নিজেদের কষ্টের কথা খুলে বলা নিম্নবিত্তের জন্য সহজ হলেও বিপাকে পড়ছেন মধ্যবিত্তরা। করোনা সংকটের শুরু থেকেই অসহায় দিন মজুরদের সহায়তায় ছুটে গেছে বিভিন্ন সংগঠন। কেউ কেউ সহায়তা করেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। কিন্তু আলোচনার বাইরে থেকে গেছে মধ্যবিত্তরা।

করোনার কারণে লকডাউন বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে মধ্যবিত্তদের দুর্ভোগ। সামাজিক লজ্জার সাথে সাথে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহার করা মাস্কের নিচে ঢাকা পড়ছে যেন সমাজের মধ্যবিত্তের কষ্ট। সংকটের মুখে অনেকেই শহর ছেড়ে ছুটছেন গ্রামের পথে, কেউ বেশি ভাড়ার বাড়ি ছেড়ে উঠছেন কম ভাড়ার বাড়িতে।

নিজের খরচের পাশাপাশি প্রয়োজন পুরা করতে হয় পরিবারের আরো অন্য সদস্যদের। সাথে থাকে আদরের প্রিয় সন্তানের আবদার। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে হচ্ছে মধ্যবিত্তের কষ্ট। দ্বীনদার সাধারণ পরিবারগুলোকেও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভিত্তি করে সংসার চালানো মাদরাসা শিক্ষকরাও পড়েছেন বেশ বিপাকে।

পরিস্থিতির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অনেক প্রাইভেট মাদরাসার বাসা ছেড়ে দিচ্ছেন অনেকেই।রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট মাদরাসা চালাতেন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদুল্লাহ শেখ। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কয়েক মাস ধরে গুনতে হচ্ছে শুধু ভাড়া। উপায়ন্ত না দেখে বাধ্য হয়েছেন মাদরাসার বাসাটি ছেড়ে দিতে। দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে তিনি বলছিলেন, জানি না কতদিন থাকবে করোনার প্রভাব,কবে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে রক্ষা করবেন এই মহামারি থেকে, আবার কবে খুলবে মাদরাসার, মাদরাসার জানআতি বাগানে কলকল শব্দে হাসবে তালিবে ইলমরা ।

মোহাম্মদুল্লাহ শেখের মতো এমন আরো অনেকের স্বপ্ন আটকে আছে অদৃশ্য ক্ষুদ্র ভাইরাস করোনার প্রভাবে। দীর্ঘ হচ্ছে অনেক মধ্যবিত্তের নিরব কান্না। জীবিকার তাগিদে অনেকেই বেছে নিয়েছেন বিকল্প পন্থা, কেউ কেউ বিক্রি করছেন মৌসুমী ফল, খড়কুটো আকড়ে ধরে বেঁচে থাকার মতো অনেকেই বেছে নিচ্ছেন অনেক পেশা।  তবে করোনা সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে শেষ অবধি কোন পরিস্থিতিতে গিয়ে দাঁড়াতে হবে মধ্যত্তিদের তা কেউ জানে না।

শীঘ্রই করোনা প্রভাব থেকে মুক্ত হবে পৃথিবী, সংকট ও বিপর্যয় কাটিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক নতুন সূর্যোদয় দেখবে পৃথিবী, যেখানে থাকবে না অসহায়ের কান্না, থাকবে না চক্ষু লজ্জার আড়ালে মধ্যবিত্তের অর্ন্তজ্বালা, থাকবে না লাশের মিছিল, এমন প্রত্যাশা সবার মাঝে।

বিজ্ঞাপন