হেফজ শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন পড়াশোনা বিষয়ে আলেমদের পরামর্শ

তারিক মুজিব ।।

করোনার কারণে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন বাড়িতে ছুটিতে থাকায় নিয়মিত পড়াশোনা হচ্ছে না তাদের। বিশেষ ক্ষতির শিকার হেফজ অধ্যয়নরত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত তিলাওয়াত এবং চর্চা না থাকলে কুরআন মাজীদ ইয়াদ রাখা কঠিন বিষয়। তাই হেফজ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ পরিবারের সদস্যদের।

বিজ্ঞাপন

এদিকে কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে তার কোনো ঠিক না থাকাই অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কোথাও কোথাও। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অনেক হেফজ বিভাগেও ভিডিও মাধ্যম ব্যবহার করে ছাত্রদের সবক এবং পেছনের পড়া শোনা হচ্ছে। করোনার এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

যাত্রাবাড়ী তাহফিজুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার হেফজ অধ্যয়নরত জাহিন আবদুল্লাহ। তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভিডিও মাধ্যমে মাদরাসা থেকেই তার প্রতিদিন তার সবক শুনা হচ্ছে এবং রুটিন অনুযায়ী অন্যসব পড়া আদায় করা হচ্ছে।

রাজধানী এবং জেলা শহরের প্রাইভেট মাদরাসাগুলোতে এ পদ্ধতিতে শিক্ষা পরিবেশ কিছুটা বজায় রাখা গেলেও বড় আকারে এ সুবিধাটা ছাত্ররা গ্রহণ করতে পারছে না। বাংলাদেশে প্রযুক্তির বিকাশ এখনও পুরোপুরি হয়ে উঠেনি।

ঢাকার কলাবাগানের ফয়জুল উলূম হাফেজিয়া মাদরাসার পরিচালক মাওলানা জুনাইদ আহমদ বলেন, হেফজ পড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কুরআন শরীফ সারাবছর ইয়াদ থাকা। সেজন্য হেফজ বিভাগের ছাত্রদের কুরআন শরীফ পোক্তভাবে ইয়াদ রাখতে নিয়মিত সাতসবক, আমুখতা, সবিনা, নামাযে তেলাওয়াত ইত্যাদি রুটিন অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্ররা এসব রুটিন পূরা করতে পারছে না। ফলে কুরআন শরিফ ভুলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সন্তানের প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত। সকাল-বিকাল নিয়মিত সন্তানকে পড়তে বসানোর ব্যাপারে তাদের যত্নবান হওয়া উচিত।

মাওলানা জুনাইদ বলেন, এক্ষেত্রে মাদরাসার শিক্ষকদেরও কিছু কর্তব্য থাকে। তাদেরও উচিত ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা।

হেফজ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন পড়াশোনা বিষয়ে সুন্দর পরামর্শ দিয়েছেন গাজীপুরের সালনা দারুল উলূম হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আমির হোসেন।

তার বক্তব্য হলো, আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশে যারা হেফজ পড়ছে তাদের পরিবারের কেউ বা আত্মীয়দের কেউ হয়ত কুরআনের হাফেজ। বা অন্তত বাংলাদেশের এমন কোনো মহল্লা এখন বাকী নেই যেখানে দুই চার জন হাফেজ নেই। শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয় বা মহল্লার হাফেজ ভাইদের সহায়তা নিতে পারে। তাদের কাছে নিয়মিত পেছনের পড়া শুনাতে পারে বা তাদের সাথে আলাপ করে তিলাওয়াত জারি রাখতে পারে। সম্ভব হলে সবকও শুনাতে পারে।

তবে এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন হাফেজ মাওলানা আমির হোসেন। তার মতে হেফজ শিক্ষার্থীরা খুবই অল্প বয়সের হয়। পড়াশোনার গুরুত সম্পর্কে তারা পুরোপুরি বুঝে উঠার বয়সে উপণনীত থাকে না।

বিজ্ঞাপন