জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম: খুলনার প্রসিদ্ধতম দ্বীনী বিদ্যাপীঠ

তারিক মুজিব ।।

জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম খুলনা। শহরের প্রাণকেন্দ মুসলমান পাড়ায় অবস্থিত ছয় দশকের প্রাচীন এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দ্বীনের সম্প্রসারণ ও ইসলামি শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্থানীয়ভাবে মাদরাসাটি খুলনা দারুল উলূম নামেই পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

খুলনা অঞ্চল ঐতিহাসিকভাকেই দ্বীন চর্চার উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। হিজরী নবম শতকে বাংলা বিজয়ের পর বিশিষ্ট ধর্ম প্রচারক এবং বীর মুজাহিদ খান জাহান আলী বাংলায় ইসলাম প্রচারের উদ্দেশে খুলনা অঞ্চলে থিতু হন। তার হাতে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে।

সে ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলে গড়ে উঠে অসংখ্য মক্তব, মাদরাসা এবং উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব মাদরাসার নামে এ অঞ্চলের অনেক ভূমি ওয়াকফ করা ছিল। বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশের সমগ্র ভূমির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ছিল মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করা।

ঐতিহাসিকভাবে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান বৃটিশ ভারতে ইংরেজরা বন্ধ করে দেয়। লা-খেরাজ বা নিষ্কর সম্পদ হিসেবে অধিগ্রহণ করা হয় মাদরাসার নামে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি। পুরো ভারতজুড়ে শঙ্কার মুখে পড়ে দ্বীনি ইলমের চর্চা।

ইলম চর্চার এ ত্রান্তিকালে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলুম দেওবন্দ। উপমহাদেশে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেওবন্দের আদর্শ। দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার অল্পকালের মধ্যেই সারা ভারতে এবার গড়ে উঠতে থাকে দেওবন্দি ধারার প্রতিষ্ঠান। সে ধারাবাহিকতায় ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর এ দারুল উলূম প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে দেওবন্দের ভাবধারায় গড়ে ওঠা প্রাচীন প্রতিটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পেছনে অনেক কুরবানী ছিল। বিখ্যাত প্রসিদ্ধ যেসব মাদরাসার নাম আজ মানুষের মুখে মুখে; অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়েই সেগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

গত শতকের বাংলাদেশের ধর্মীয়ধারার কিংবদন্তি পুরুষ মুজাহিদে আযম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর অনুপ্রেরণা এবং তাবলীগ জামাতের সাবেক আমীর হজরতজী মাওলানা ইউসুফ রহ.-এর পৃষ্ঠপোষকতায় খুলনা অঞ্চলের বিশিষ্ট দানবীর আলহাজ্ব মরহুম আবদুল হাকীম জমাদ্দার খুলনা দারুল উলূমের প্রতিষ্ঠা করেন। মরহুম আবদুল হাকিম ছিলেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাকালীন মুতাওয়াল্লি।

দক্ষিণাঞ্চলের এ বৃহত্তর দ্বীনি বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠান তিন বছরেই দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত উত্তীর্ণ হয়। দিনে দিনে মাদরাসার কলেবর বৃদ্ধির সাথে বাড়ে পড়াশোনার মান এবং ছাত্র সংখ্যা। বর্তমান দাওরায়ে হাদিস ছাড়াও মাদরাসাটিতে ফিকহ এবং তাফসীর বিভাগ চালু রয়েছে। ছাত্র সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। বর্তমান মোহতামিম মাওলানা মুশতাক আহমদ কয়েক বছর যাবত মাদরাসাটি পরিচালনা করে আসছেন।

খুলনা দারুল উলূমের স্থাপত্যশৈলি দর্শকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশেষত মাদরাসার মসজিদটি। মসজিদের সুউচ্চ মিনার, এর কারুকাজ যেকোনো দর্শনার্থীকেই মুগ্ধ করবে।

বিজ্ঞাপন