প্রস্তুতি সম্পন্ন: শিগগিরই বিতরণ করা হবে বেফাকের ‘সহায়তা প্রকল্প’

তারিক মুজিব ।।

করোনা পরিস্থিতিতে তিনমাস হলো বন্ধ আছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ আছে দেশের সকল মাদরাসাও। করোনার উর্ধমুখীতার মধ্যেই সরকারি, বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও অধিক নিরাপত্তার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড হাইআতুল উলয়ার শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীলের কথা বলে জানা গেছে, মাদরাসাগুলোও শিগগিরই খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বিজ্ঞাপন

মহামারী পরিস্থিতিতে মাদরাসাগুলো তিনমাস ধরে বন্ধ থাকায় বন্ধ রয়েছে শিক্ষকদের বেতনও। ফলে ব্যক্তিগতভাবে কেউ অবস্থা সম্পন্ন হলেও কঠিন সময় অতিবাহিত করছেন অনেক মাদরাসার শিক্ষক। করোনার প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে এসব শিক্ষকদের সঙ্কটও।

করোনার এই মহামারী পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেউ কেউ সঙ্কটে পড়া মাদরাসা শিক্ষকদের কিছু সহায়তা করলেও গত তিনমাসে এখনও প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো অর্থ সাহায্য তাদের পৌঁছেনি।

তবে বৃহত্তর কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি ‘সহায়তা প্রকল্প’ হাতে নেয়। নানা প্রতিবন্ধকতায় কিছুদিন দেরি হয়ে গেলেও অবশেষে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

বেফাকুল মাদারিসের সহ সভাপতি এবং সিলেটের গহরপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু জানিয়েছেন, ডাটা কালেকশন এবং ভেরিফিকেশনে একটু বিলম্ব হয়ে গেলেও বেফাকের পক্ষ থেকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রয়োজনগ্রস্ত মাদরাসা শিক্ষকদের কাছে সহায়তা প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু জানান, আগামীকালের মধ্যেই তথ্য যাচাই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। এরপর শনিবারে অনুষ্ঠিত হবে ঢাকাস্থ বেফাকের মজলিসে আমেলার বৈঠক। সে বৈঠকেই সহায়তা বিতরণ এবং এর নানাদিক নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার পর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে প্রয়োজনগ্রস্ত শিক্ষকদের ঠিকানায়।

এদিকে কবে নাগাদ মাদরাসা খোলা হতে পারে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেফাকের এই সহসভাপতি জানান, বোর্ডের পক্ষ থেকে মহাসচিবসহ কয়েকজনকে এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলেই মাদরাসা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন